
সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশব্যাপী অভিযানে ১১৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
একইসঙ্গে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মাছ আকর্ষণীয় দেখাতে রং মেশানোর ঘটনায় প্রায় ২০ কেজি মাছ ধ্বংস করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় সংশি¬ষ্ট বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাজারে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা ও রঙিন বাতি ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম এবং ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে কারওয়ান বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাছের বাজারসহ নিত্যপণ্য ও মসলার দোকানে বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযানে রং মেশানো মাছ বিক্রির দায়ে সুকুমার নামের এক বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং প্রায় ২০ কেজি মাছ ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি নিত্যপণ্য ও মসলার বাজারে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং নোংরা মেঝেতে গুঁড়া মসলা রাখার দায়ে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি এবং ভোজ্যতেল, ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মহানগরসহ দেশের ৪২ জেলায় অভিযান চালিয়েছে অধিদপ্তর। এসব অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১১৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের ৫৬টি দল একযোগে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অতিরিক্ত মূল্য আদায়, মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও প্রদান এবং পণ্যের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি যাচাই করা হয়।
ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডলের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে লাইসেন্স ছাড়া বিপুল পরিমাণ এলপিজি সিলিন্ডার মজুদ, গ্যাস ক্রয়ের ক্যাশমেমো দেখাতে না পারা, ক্রেতাকে পাকা ক্যাশমেমো না দেওয়া, স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণ না করা এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করার অনিয়ম পাওয়া যায়।
অভিযানকালে মজুদ করা এলপিজি সরকার নির্ধারিত দামে ভোক্তাদের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুদ এবং পণ্যের সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
ভোক্তাদের এলপিজি সিলিন্ডার কেনার আগে ওজন, সিল, মেয়াদ ও দৃশ্যমান ত্রুটি পরীক্ষা করার পাশাপাশি পণ্য কেনার সময় মূল্যতালিকা যাচাই এবং রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর।
কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার সম্মুখীন হলে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানানোর জন্য ভোক্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে।