বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি মাঝেমধ্যে আশঙ্কায় ভোগার কথা পরিবারকে জানাতেন। তবে কী কারণে বা কোন বিষয় নিয়ে তাঁর মধ্যে এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি তাঁর বাবা এ এম এনায়েতুল করিম। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব তথ্য জানান।
তাহসিফ কখনো কোনো হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের কথা জানিয়েছিলেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এনায়েতুল করিম বলেন, তাঁর ছেলে এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা বলেননি। তবে মাঝেমধ্যে তাঁকে বলতেন, তিনি কিছুটা আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।
শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাহসিফকে বিমান বাহিনীর চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল—এ কথাও উল্লেখ করেন তাঁর বাবা। চাকরি ছাড়ার পর তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও নেত্র নিউজে বেসরকারি চাকরি করেন। সর্বশেষ তিনি ভারগো টোবাকোতে কর্মরত ছিলেন।
তাহসিফের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ—সব পর্যায়ের সহকর্মীদের সুসম্পর্ক ছিল বলে দাবি করেন এনায়েতুল করিম।
ছেলের নিখোঁজ হওয়ার দিনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে তিনি জানান, ২৭ অক্টোবর সারাদিন তাহসিফ তাঁর মায়ের সঙ্গে পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করেছিলেন। সন্ধ্যার পর তাঁর এক জুনিয়র বন্ধু, যাকে ছোট ভাইয়ের মতো মনে করতেন, নিচে এসে তাঁকে ডাকেন। ওই বন্ধু দ্বীপের সঙ্গে কথা বলতে যাওয়ার কথা মাকে জানিয়ে তাহসিফ নিচে নেমে যান। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি।
এনায়েতুল করিম বলেন, তাহসিফের মা তাঁকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাননি। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ মাকে বার্তা পাঠিয়ে লেখেন, ‘আম্মু আমি আসছি’।
এরপর থেকে ছেলের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানান তাঁর বাবা। বুধবার দুপুরে তিনি থানায় গিয়েছিলেন। তখন পুলিশ তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেছিল, ‘কোনো খারাপ খবর নেই’। কিন্তু একই দিন বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফোন করে দুজনের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানান।
তাহসিফের বাবা আরও বলেন, রাজাবাড়ি ঘাটের যে স্থান থেকে তাঁর ছেলের মরদেহ উদ্ধারের কথা পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে তাহসিফ কখনো যেতেন না।
ছেলের মৃত্যুর পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না জানিয়ে এনায়েতুল করিম বলেন, “কারা বা কে তাকে হত্যা করেছে এটা আমরা জানি না।”