
শিল্প খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা গেলে দেশের বিদ্যমান নানা সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান বের করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) যৌথ আয়োজনে ‘শিল্প ও একাডেমিয়ার সংযোগ: ব্যবসায়িক উদ্ভাবনের দিকে এআই-এর রূপান্তর’ শীর্ষক অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক মানোন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হলেও নিজস্ব মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সেসব সমস্যার স্থানীয় সমাধান তৈরি করা সম্ভব।
তিনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোগের বিকাশের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে থাকা সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলোকেও সহায়তা দিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগগুলোর প্রাথমিক অর্থায়ন নিশ্চিত করতে স্টার্টআপ তহবিল ও অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যানজট কমানো এবং কৃষি ও শিল্প খাতে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন উপদেষ্টা। এ জন্য জেলা পর্যায়ের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর যোগাযোগ ও সহযোগিতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। মাহদী আমিন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংয়ের বিকাশের এই সময়ে প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি দক্ষতা ও ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে বিকল্প কর্মজীবনের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মেধা পাচার বা ‘ব্রেন ড্রেইন’ প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বিদেশে চলে যাওয়া দক্ষ জনশক্তিকে দেশের সঙ্গে যুক্ত রেখে তাঁদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর মাধ্যমে ‘ব্রেন ড্রেইন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ পরিণত করতে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্যোক্তারা যেন দেশে বিনিয়োগ করতে পারেন এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণায় যুক্ত হতে পারেন, সে ধরনের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের জনসংখ্যাগত সুবিধা বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগানোর গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। বিপুলসংখ্যক তরুণকে যথাযথ নীতি ও প্রণোদনার মাধ্যমে কর্মসংস্থানে যুক্ত করা এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।