
ঢাকা উত্তরে ঈদের প্রধান জামাতের জন্য প্রস্তুত বাণিজ্য মেলার পুরনো মাঠ
বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজের প্রস্তুতি শেষ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। এখানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নারীদের জন্যও আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। ডিএনসিসির উদ্যোগে ঢাকা উত্তরের প্রধান ঈদের জামাত এটি। ঈদের জামাতের পর থাকছে ঈদ আনন্দ মিছিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ঈদ মেলা। রোববার (৩০ মার্চ) মাঠের প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ‘এবারের ঈদ জামাত ও ঈদ মিছিলে লাখো মানুষ সমাগমের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। ঈদ জামাতে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি ওজুর ব্যবস্থা, পানি পানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই মাঠে একসাথে লক্ষাধিক মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের অনেক উপদেষ্টা এখানে থাকবেন। নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী গত একসপ্তাহ ধরে কাজ করছে। সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে পুরো এলাকা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।’ মোহাম্মদ এজাজ জানান, ঈদের জামাতকে ঘিরে পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকছে। মোবাইল ফোন, জায়নামাজ ও ওয়ালেটের বাইরে ভারি কোনো বস্তু কেউ সাথে না আনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এ সময় কাউকে কোনো ‘অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিস বা পতাকা’ না নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ‘সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঈদের জামাত শুরু হবে। নারী-পুরুষ সবাই ঈদ জামাতে অংশ নিতে পারবেন। নারীদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদ জামাত শেষে সকাল ৯টায় ঈদ আনন্দ মিছিল শুরু হবে। ঈদ মিছিলটি পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠ থেকে শুরু হয়ে সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হবে। ঈদ মিছিলটি হবে বর্ণাঢ্য। মিছিলের সামনে শাহী ঘোড়া ও সামনে-পেছনে ২০টির মতো ঘোড়ার গাড়ি থাকবে। ব্যান্ড পার্টি থাকবে, সুলতানি-মোঘল আমলের ইতিহাস সম্বলিত চিত্রকলাও থাকবে। নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই ঈদ আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণ করবেন। অন্যান্য ধর্মামাবলম্বীরাও আসবেন। এর মাধ্যমে ঢাকার ৪০০ বছরের ঈদ ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনা হবে।’ ঈদের আনন্দ মিছিলটি ইতিহাসের একটি অংশ হবে বলে জানিয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, ‘এই প্রথম এতো বড় পরিসরে ঈদ আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। এটি ইতিহাসের একটি অংশ হবে। আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইতিহাসের অংশ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।’ ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, ‘মানিক মিয়া এভিনিউতে ঈদ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। ঈদ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের জন্য সেমাই ও মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে। এছাড়াও ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বাতাসা থাকবে আপ্যায়নে।’ এছাড়াও বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী ঈদ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ২০০টির মতো স্টল থাকবে এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নানা ধরনের পণ্য সামগ্রী, খাবার, চটপটি থাকবে। শিশুদের আনন্দের জন্য নাগরদোলা ও খেলার ব্যবস্থা রয়েছে। এই মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আমাদের ঈদ আনন্দ উৎসব শুধু পুরুষ বা নারীর জন্য নয়, এখানে শিশুদের জন্যও নানা আয়োজন থাকবে। পুরো পরিবার নিয়ে সবাই যেন উপভোগ করতে পারেন এই ব্যবস্থা থাকছে ডিএনসিসির ঈদ আনন্দ উৎসবে।’ প্রস্তুতি পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এবিএম সামসুল আলম, সচিব মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান। বাণিজ্য মেলার পুরোনো মাঠে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়: বাণিজ্য মেলার পুরোনো মাঠে ঈদুল ফিতরের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নামাজের জামাতে মূল ইমামতি করবেন কারি গোলাম মোস্তফা। বিকল্প ইমাম হিসেবে থাকবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মুফতি জুবাইর আহাম্মদ আল-আযহারী। ঈদের জামাতের জন্য পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে প্রায় ৪৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের প্যান্ডেল করা হয়েছে। প্যান্ডেলের বাইরেও নামাজ আদায়ের জন্য থাকবে কার্পেট ও নামাজের বিছানা। প্যান্ডেলের ভেতরে দক্ষিণ পাশে নারীদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। মাঠে প্রবেশের জন্য বিভিন্ন অংশে ছয়টি ফটক থাকবে। ফটকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন পুলিশের সদস্যরা। প্যান্ডেলের দুই পাশে একসঙ্গে ১০০ জন পুরুষ ও ৫০ জন নারীর অজু করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাঠের বিভিন্ন জায়গায় খাওয়ার পানির ট্যাংক রাখা থাকবে। ঈদের জামাতের জন্য মোট ১২ পেয়ার সাউন্ড সিস্টেম ও ১০০টি মাইক ব্যবহার করা হবে। জামাতে অংশ নিতে যাঁরা ব্যক্তিগত যানবাহনে আসবেন, তাঁদের গাড়ি রাখা যাবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কিংবা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে। ঈদ আনন্দমিছিল: ঈদের জামাত শেষে বাণিজ্য মেলার পুরোনো মাঠ থেকেই শুরু হবে ঈদ আনন্দমিছিল। মিছিলটি বাণিজ্য মেলার মাঠ থেকে আগারগাঁওয়ের প্রধান সড়ক দিয়ে খামারবাড়ি মোড় হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে এসে শেষ হবে। আনন্দমিছিলে বাদ্যবাজনা বাজাবেন ব্যান্ড পার্টি। অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকবে ঈদের শুভেচ্ছা ও সচেতনতার বার্তাসংবলিত প্ল্যাকার্ড। আনন্দমিছিলের অগ্রভাগে পাঁচটি সুসজ্জিত ঘোড়া রাখা হবে। মিছিলের সঙ্গে থাকবে ১৫টি ঘোড়ার গাড়ি। পাশাপাশি মোগল ও সুলতানি আমলের ইতিহাস–সংবলিত ১০টি পাপেট শো রাখা হবে। আনন্দমিছিল থেকে ন্যায্য ঢাকা শহর গড়ার বার্তা দেওয়া হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আপ্যায়ন: সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে মিছিল গিয়ে শেষ হওয়ার পর সেখানেই হবে সংক্ষিপ্ত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে শিল্পীরা ঈদের গান পরিবেশন করবেন। থাকবে বাউলশিল্পীদের পরিবেশনা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময়ে সাধারণ মানুষদের আপ্যায়ন করা হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ এ সময় ঈদের সেমাই, মিষ্টি ও বাতাসা খেতে পারবেন। দুই দিনব্যাপী ঈদমেলা: ঢাকা উত্তর সিটির ঈদ আনন্দ উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ দুই দিনব্যাপী ঈদ আনন্দমেলা। ঈদের দিন ও এর পরদিন এ মেলা হবে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে। মেলায় বিভিন্ন পণ্যের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ২০০টির বেশি স্টল থাকবে। দুই দিনই মেলা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মেলায় শিশুদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলা থাকবে। খেলাধুলার জন্য রাখা হবে বিভিন্ন খেলার সামগ্রী।

প্রধান উপদেষ্টার সাথে সেনাপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রোববার (৩০ মার্চ) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। রোববার (৩০ মার্চ) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইএসপিআর জানায়, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাক্ষাৎকালে সেনাপ্রধান আসন্ন ঈদে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ, লঞ্চ টার্মিনাল, ট্রেন স্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডসমূহে নিরাপদ সেবা নিশ্চিতকরণসহ সব সড়কে নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচল, শিল্পাঞ্চলের মালিকদের সঙ্গে শ্রমিকদের বোঝাপড়ার ব্যবস্থাকরণ এবং সেনাবাহিনীর চলমান বিবিধ কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। আইএসপিআর আরও জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের সম্মানে দেশের সব সেনানিবাসে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন এবং আহত যোদ্ধা ও শহীদ যোদ্ধাদের পরিবারকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়েও প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়। পরিশেষে, সেনাবাহিনী প্রধান প্রধান উপদেষ্টাকে অগ্রিম ঈদ শুভেচ্ছা জানান। প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।

গত ২০ বছরে ঈদযাত্রা এত স্বস্তির হয়নি: পরিবহন উপদেষ্টা
সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, ‘গত ২০ বছরে ঈদযাত্রা এত স্বস্তির হয়নি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবার স্বস্তির ঈদযাত্রা সম্ভব হয়েছে।’ রোববার (৩০ মার্চ) বেলা ১১টায় রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এসেছে যে এবারের ঈদযাত্রা বিগত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে স্বস্তির হয়েছে। অতীতে কখনও এত সহজে ঈদযাত্রা হয়নি। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে। আমরা এবার সরকার হিসেবে কাজ করেছি, কোনো দপ্তর হিসেবে নয়। সড়ক বিভাগ, বিআরটিএ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পুলিশ সবাই একসঙ্গে কাজ করেছে।’ ‘সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, শ্রমিক ও মালিক অসাধারণ একটা কাজ করেছে। আমরা বলেছি যে, এটা আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া আমরা একা করতে পারবো না। তারা পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।’ বিআরটিএর চেয়ারম্যান মো. ইয়াসিন এ সময় বলেন, ‘আমরা কাজ করছি দেশর স্বার্থে এবং সরকার একযোগে কাজ করছে। বিআরটিএ, সড়ক, মহাসড়ক বিভাগ, বাংলাদেশ পুলিশ, মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ, আমরা সবাই মিলে এক হয়ে কাজ করেছি যাতে মানুষজন নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পারে। বিআরটিএ'র পক্ষ থেকে প্রত্যেকটি টার্মিনালে ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছে। আমাদের ভিজিলেন্স টিম আছে। যেকোনো জায়গায় অতিরিক্ত ভাড়ার খবর আমরা পাচ্ছি সেখানে পানিশমেন্ট হচ্ছে সবার। এমন কোথাও হয়নি যে পানিশমেন্ট হয়নি।’ পরিবহন উপদেষ্টা গাবতলী বাস টার্মিনালের বিভিন্ন টিকিট কাউন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুইটি উৎস থেকে বাংলাদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের শঙ্কা ভূতত্ত্ববিদের
মিয়ানমারে নিমিষেই ধসে পড়ে বহুতল ভবনসহ একের পর এক স্থাপনা। ফাটল ধরে বিভিন্ন সড়কে। সেতু ও বিমানবন্দরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬৪৪ জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আহতের সংখ্যাও। কম্পনের প্রভাবে থাইল্যান্ডেও একটি ৩৩-তলা ভবন ধসে পড়ে, যেখানে এখনও বহু মানুষ আটকে আছে। দেশটিতে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আর আহত রয়েছেন শতাধিক। গত শুক্রবার (২৮ মার্চ) ৭.৭ ও ৬.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে দুদফা কেঁপে ওঠে বাংলাদেশও।ফায়ার সার্ভিস বলছে, মিয়ানমার-থাইল্যান্ডের মতো শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশও। উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে চার অঞ্চল- ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম।দুই বছর আগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) গবেষণায় বলা হয়, ‘মুহূর্তেই ধসে পড়বে রাজধানীর অন্তত ৮ লাখ ৬৪ হাজার ভবন, যা মোট ভবনের ৪০ শতাংশ।’এদিকে মিয়ানমার-থাইল্যান্ডে আঘাত হানার পর বাংলাদেশের ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে মনে করেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার।তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ভূমিকম্পের উৎস দুইটি। একটি বাংলাদেশের ইন্দো-বাংলা সাবডাকশন জোন, অন্যটি ডাউকি চ্যুতি। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সাবডাকশন জোন। এখানেই একসঙ্গে দুটি প্লেট আটকে রয়েছে। যেখানে সঞ্চিত আছে ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ মাত্রার শক্তি।’তিনি আরও বলেন, ‘একটা প্লেটের নিচে আরেকটা প্লেট। একটা ভারতীয় প্লেট আরেকটা মিয়ানমারের প্লেট। একটা প্লেটের নিচে আরেকটা প্লেট তলিয়ে যাওয়াকে বলা হয় সাবডাকশন। দুটি প্লেটের যে গতি এর ওপর নির্ভর করে কি পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত হয়ে আছে এবং সে শক্তিটা কখন ভূপৃষ্ঠে বের হয়ে আসতে পারে।’ভূমিকম্পের আগাম পূর্বাভাস না থাকায় ক্ষয়ক্ষতি কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেয়ার পরামর্শ এই বিশেষজ্ঞের।সৈয়দ হুমায়ুন বলেন, ‘ভূমিকম্পের আগে আমাদের ব্যক্তি, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কী ধরনের প্রস্তুতি থাকা দরকার, ভূমিকম্প হলে দু-এক কদমের ভেতরে আমাদের কীভাবে নিরাপদে নিয়ে যাব এবং ভূমিকম্পের পরে কী দায়িত্ব সেগুলো জানতে হবে।’

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মিয়ানমারে ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ
মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ, তাবু, শুকনা খাবার ও চিকিৎসা সেবাসহ রেসকিউ x মেডিকেল টিম প্রেরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার (৩০ মার্চ) বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানায়। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠাতে কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে আজ দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলা থেকে ১টি সি-১৩০জে বিমান এবং আর্মি এভিয়েশনের ১টি কাসা সি-২৯৫ডব্লিউ বিমান মায়ানমারের ইয়াংগুনের উদ্দেশ্যে রওনা করেছে। এর আগে সেখানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন এবং উদ্ধারকারী দলের পূর্বপ্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন। গত শুক্রবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে ৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা মায়ানমারে প্রায় ১৬০০ জনের প্রাণ হানির কারণ হয়েছে। ভূমিকম্পের ফলে মিয়ানমারে খাদ্য, পানি, বাসস্থান সংকট এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার অভাবে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার প্রতিবেশী মিয়ানমারের এই বিপর্যয়ে মর্মাহত এবং তাদের সহায়তা প্রদানে বদ্ধপরিকর। উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১০ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকারের প্রয়োজন সাপেক্ষে পরবর্তী উদ্ধারকারী এবং মেডিকেল দল পাঠানো হবে। বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা মায়ানমারের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে সেনাবাহিনী আশা প্রকাশ করেছে।

ঢাকায় কখন কোথায় ঈদের জামাত
আজ রোববার (৩০ মার্চ) শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে কাল সোমবার (৩১ মার্চ) বাংলাদেশে উদযাপিত হবে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। এক মাস সিয়াম সাধনার পর ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায় করবেন। এবারও রাজধানীতে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, রাজনীতিবিদসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক ইমাম হিসেবে এ জামাতে দায়িত্ব পালন করবেন। ক্বারী হিসেবে থাকবেন বায়তুল মোকাররমের মুয়াজ্জিন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। প্রধান ঈদ জামাতের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠ। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বা অন্য কোনও কারণে জাতীয় ইদগাহ মাঠে জামাত অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এবারও মসজিদটিতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, এর এক ঘণ্টা পর পর তিনটি জামাত এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাত: প্রথম জামাত : সকাল ৭টায় সকাল ৭টায় প্রথম ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মুহিববুল্লাহিল বাকী। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররমের মুয়াজ্জিন হাফেজ মো. আতাউর রহমান। দ্বিতীয় জামাত : সকাল ৮টায় সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাতে ইমাম থাকবেন সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বির থাকবেন প্রধান খাদেম মো. নাসিরউল্লাহ। তৃতীয় জামাত : সকাল ৯টায় সকাল ৯টায় তৃতীয় জামাতে ইমাম থাকবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস ড. মাওলানা মুফতি ওয়ালিউর রহমান খান। মুকাব্বির থাকবেন খাদেম মো. আব্দুল হাদী। চতুর্থ জামাত : সকাল ১০টায় সকাল ১০টায় চতুর্থ জামাতে ইমাম থাকবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদ ও সংকলন বিভাগের সম্পাদক ড. মুশতাক আহমদ। মুকাব্বির থাকবেন খাদেম মো. আলাউদ্দীন। পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত : সকাল ১০ টা ৪৫ মিনিটে বেলা পৌনে ১১টায় পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মো. আব্দুল্লাহ। মুকাব্বির থাকবেন খাদেম মো. রুহুল আমিন। এদিকে প্রতি বছর দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের আয়োজন হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে। এবার সেখানে হবে ঈদুল ফিতরের ১৯৮তম জামাত। সকাল ১০টায় এ জামাতে ইমামতি করবেন বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল খায়ের মো. সাইফুল্লাহ। ঢাকায় যেসব স্থানে ঈদে জামাত হবে: এবার ঢাকার ১ হাজার ৪৩৫টি মসজিদ ও ১৮৯টি ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার বাসিন্দাদের ঈদের জামাতের জন্য এবার প্রস্তুত করা হয়েছে আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠ। সেখানে ঈদের বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে একসঙ্গে ১০ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন। সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামি’আয় পবিত্র ঈদুল ফিতরের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের সিনিয়র ইমাম খতিব হাফেজ মাওলানা নাজীর মাহমুদ এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের সিনিয়র মোয়াজ্জিন এম এ জলিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৭টায় জমিয়তে আহলে হাদিসের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন বংশাল বড় জামে মসজিদের খতিব এবং বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের সেক্রেটারি জেনারেল শাইখ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী। এছাড়া সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মসজিদ ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল লন মসজিদ এবং ঢাবির আবাসিক এলাকার বায়তুন নূর জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ জামাত হবে। সকাল সোয়া ৭টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে খেলার মাঠের পরিবর্তে নামাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে প্রথম জামাত বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত বকসি বাজার বায়তুস সালাম মসজিদে সকাল ৮টায় এবং আজাদ আবাসিক এলাকা মসজিদে সকাল ৮টায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদ জামাত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। এছাড়া মগবাজারের বিটিসিএল (সাবেক টিঅ্যান্ডটি) কলোনির জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এ জামাত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এছাড়া গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে সকাল সাড়ে ৬টা, সাড়ে ৭টা ও ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। লালবাগ শাহী মসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায় ঈদের দুটি জামাত হবে। পুরান ঢাকার তারা মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ও ৯টায় হবে ঈদের জামাত। সোবহানবাগ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় হবে ঈদ জামাত। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ছয়টি জামাত হবে। মারকাজুল ফিকরিল ইসলামি (বড় মসজিদ) মসজিদে সকাল ৭টায়, সকাল সোয়া ৭টায় সি ব্লকের উম্মে কুলসুম জামে মসজিদে, সাড়ে ৭টায় এফ ব্লক জামে মসজিদে, ৮টায় জি ব্লকের বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদে ঈদ জামাত হবে। কে ব্লকের মদিনাতুল উলুম মসজিদে সকাল সোয়া ৮টায় এবং এন ব্লকের ফকিহুল মিল্লাত মুফতি আবদুর রহমান জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত হবে। এছাড়া রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টা ও সাড়ে ৯টায়, ধানমন্ডি ইদগাহ জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, মিরপুর দারুস সালাম এলাকার মীর বাড়ি আদি (মাদবর বাড়ি) জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ও সকাল ৯টায়, মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের হারুন মোল্লাহ্ ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৭টায়, মতিঝিলের আরামবাগের দেওয়ানবাগ শরিফে সকাল ৮টা ও সাড়ে ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। দারুস সালামের মাতবর বাড়ি জামে মসজিদে, সকাল সাড়ে ৭টায় ও সকাল সাড়ে ৯টায় ঈদ জামাত হবে। এলিফ্যান্ট রোডের তাকওয়া মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়, বায়তুল আমান জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়, ইদগাহ মাঠে সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জায়নামাজ না আনার পরামর্শ সিটি কর্পোরেশনের: নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় ইদগাহ মাঠে জায়নামাজ না আনার পরামর্শ দিয়েছেন ডিএসসিসির প্রশাসক শাহজাহান মিয়া। তিনি জানান, এবার জাতীয় ঈদগাহে ৩৫ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। মুসল্লিদের জন্য অজু করার জায়গা, শৌচাগার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ডিএসসিসির প্রশাসক জানান, জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করার জন্য আরামদায়ক কার্পেট বিছানো হয়েছে। তাই কাউকে জায়নামাজ সঙ্গে আনতে হবে না। নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার জন্য দুইটি মেডিকেল টিম থাকবে।

কলকাতায় বসে আওয়ামী লীগের নাশকতা পরিকল্পনা, যা বললেন উপদেষ্টা
পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে কোনো নাশকতার শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। কলকাতায় একটি ইফতার পার্টিতে আওয়ামী লীগের সদস্যরা নাশকতার পরিকল্পনা করেছেন, এমন একটি বক্তব্য ছড়িয়েছে। এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কলকাতায় কারা আছে... কলকাতায় আছে ক্রিমিনাল। ক্রিমিনালরা তো সব সময় এ জিনিস চিন্তা করবে। ক্রিমিনালদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, আমরা সেই ব্যবস্থা নেবো।’ রোববার (৩০ মার্চ) দুপুর ১২টায় জাতীয় ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম এসব কথা বলেন। ফাঁকা ঢাকায় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এবং নাশকতা হতে পারে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘গুঞ্জন সব সময় গুঞ্জনই থাকে। আমাদের নিরাপত্তার কোনো অভাব নেই। নাশকতা হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। যদি কোনো ধরনের সংবাদ আপনারা (সাংবাদিকরা) পান, তাহলে আমাদের জানাবেন। আমরা আপনাদের নিয়ে সেটি প্রতিহত করবো।’ জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি ঈদের জামাতে শরীক হন। এখানে অনেক গুণীজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আসেন। তাদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের যত ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। এখানে যেন সবাই ভালোভাবে ঈদের নামাজ পড়তে পারে সেজন্য অজুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খাবার পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদি কারো চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এখানে কারও জায়নামাজ নিয়ে আসার দরকার নেই। সবার জন্য কার্পেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

ঢাকার ঈদের জামাতের নিরাপত্তায় থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ
ঢাকার সব ঈদ জামাতের নিরাপত্তায় ১৫ হাজার পোশাকধারী পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ‘সমন্বিত নিরাপত্তা বলয়’ গড়ে তোলা হবে। কোনো ধরনের নিরাপত্তার ঝুঁকি না থাকলেও নিষিদ্ধঘোষিত কোনো দল যাতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে সেজন্য সদা সতর্ক থাকতে হবে।’ রোববার (৩০ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহে গৃহিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাজ্জাত আলী এসব কথা বলেন। ডিএমপির কমিশনার বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আর বায়তুল মোকাররমে ৫টি ঈদ জামাতের মধ্যে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়। আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকলে জাতীয় ঈদগাহের জামাতটি সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে মোট ১১১টি ঈদগাহে এবং ১ হাজার ৫৭৭ টি মসজিদে ১ হাজার ৭৩৯টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।’ সাজ্জাত আলী আরো বলেন, ‘সব স্থানের ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি সমন্বিত ও সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা বিধানে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকা সিসিটিভি আওতাভুক্ত থাকবে। প্রায় ১০০ সিসিটিভি ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুম থেকে যা সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘ঈদগাহে প্রবেশের প্রধান তিনটি গেইটে ব্যারিকেড থাকবে, যেখানে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। মৎস্যভবন, প্রেস ক্লাব ও শিক্ষাভবন এবং ঈদগাহ ময়দানের চতুর্পাশে বহির্বেস্টনি দিয়ে তল্লাশির ব্যাবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা এসবির সুইপিং টিম এবং সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড সুইপিং করবে। সোয়াত ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট স্ট্যান্ডবাই থাকবে। সাদা পোশাকে ডিবি ও সিটিটিসি সদ্য মোতায়েন থাকবে। ওয়াচটাওয়ার থেকে মনিটরিংসহ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।’ ‘নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশিকাজে সহায়তার অনুরোধ করা হলো। কোনো প্রকার ব্যাগ, ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ নিয়ে না আসার জন্য অনুরোধ রইল। সকলকে জামাত শেষে তাড়াহুড়া না করে সুশৃঙ্খলভাবে বের হওয়ার অনুরোধ করা যাচ্ছে।’ সন্দেহজনক কিছু মনে হলে নিকটস্থ পুলিশ সদস্যকে জানাতে কিংবা প্রয়োজনে ৯৯৯ অথবা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন সাজ্জাত আলী। এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির কমিশনার বলেন, ‘আমরা দুই ধরনের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা নিয়েছি। একটা হলো- ওভার এবং আরেকটা কভার। সবকিছুতো আমরা ডিসক্লোজ করি না। অনেক কিছু নিরাপত্তার স্বার্থে গোপন রাখি।’ তিনি বলেন,‘ ঈদে কোনো ঝুঁকি নেই। আলহামদুলিল্লাহ আমরা রমজান মাসে ঢাকাবাসী অনেক ভালো ছিলাম বলেই আমি মনে করি। আজকে শেষ দিন রমজানের, ইনশাল্লাহ আজকের দিনটিও আমরা ভালোভাবে পার করতে সক্ষম হবো। ঈদ জামাতের নিরাপত্তায় ১৫ হাজার পোশাকধারী পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। সাথে এটিইউ, সিটিটিসি, ডিবি সবার সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। বাংলাদেশ আর্মিও থাকবে। সাবাই মিলে সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছি।’ ঈদ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতা’ নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির কমিশনার বলেন, ‘আমরা সবসময় সতর্ক আছি। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ না, নিষিদ্ধঘোষিত যে সব দল আছে সেসব দল যাতে কোনো রকম অ্যাকটিভিটিজ পরিচালনা না করতে পারে সে ব্যপারে আমরা সদা সতর্ক।’ জাতীয় ঈদগাহের ঈদ জামাত ঘিরে চারপাশে যান চলাচলের বিষয়ে ডিএমপির ট্রাফিক রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের দিন সকাল ৬টা থেকে ঈদের নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।’ যেসব পয়েন্টে চলবে ডাইভারসন: জিরোপয়েন্ট ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং, সরকারি কমচারী হাসপাতাল ক্রসিং, দোয়েল চত্বর ক্রসিং, মৎস্য ভবন ক্রসিং যে পয়েন্টে বন্ধ করা হবে সড়ক: সচিবালয় পুল গেইটের সামনে, প্রেস ক্লাবের সামনে, সরকারি কমচারী হাসপাতাল ক্রসিং, দোয়েল চত্বর ক্রসিং, মৎস্য ভবন ক্রসিং যানবাহন চলাচলের বিকল্প রাস্তা: শাহবাগ ক্রসিং-মৎস্য ভবন ক্রসিং হয়ে গুলিস্তান অভিমুখী যাত্রীবাহী গণপরিবহন/ব্যক্তিগত যানবাহন মৎস্য ভবন ক্রসিং বামে মোড় নিয়ে কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং-রাজমনি ক্রসিং হয়ে গন্তেব্যে যাবে। বঙ্গবাজার ক্রসিং হয়ে হাইকোর্ট ক্রসিং অভিমুখী যাত্রীবাহী গণপরিবহন/ব্যক্তিগত যানবাহন চাঁনখারপুল-বকশীবাজার- পলাশী ক্রসিং হয়ে গন্তেব্যে যাবে। বাবুবাজার ক্রসিং-গুলিস্তান ক্রসিং হয়ে কদমফোয়ারা ক্রসিং-মৎস্য ভবন ক্রসিং অভিমুখী যাত্রীবাহী গণপরিবহন/ব্যক্তিগত যানবাহন ইউবিএল ক্রসিং- নাইটিঙ্গেল ক্রসিং হয়ে গন্তেব্যে যাবে। গাড়িযোগে ঈদগাহে আগত সম্মানিত নগরবাসী রোড ব্লকে গাড়ি হতে নেমে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশ করবেন এবং গাড়ি নির্ধারিত স্থানে পার্কিং করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।

ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন। রোববার (৩০ মার্চ) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ঈদের দিন বিকেল ৪টায় তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে তিনি বিভিন্ন শ্রেণি পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। প্রসঙ্গত, আজ রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে সোমবার (৩১ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে।

ফাঁকা ঢাকা, সড়কে নেই গাড়ির চাপ
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি উদযাপনে এরইমধ্যে রাজধানী ঢাকা ছেড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। যে কারণে প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে ব্যস্ততম ঢাকার অধিকাংশ সড়ক। যানবাহনের চাপ নেই প্রধান প্রধান অধিকাংশ সড়কে। অলিগলিতেও গাড়ির চলাচল কম। এর ফলে ঝামেলা ছাড়াই লোকজন স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে যেতে পারছেন। তবে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কিছুটা কম। রোববার (৩০ মার্চ) রাজধানীর একাধিক এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ব্যস্ততম মোড় শাহবাগ মোড়ে সরেজমিন দেখা যায়, রাস্তায় গাড়ির চাপ নেই। মূল সড়ক রিকশার দখলে। গাড়ির চাপ না থাকায় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা পুলিশ বক্সের মধ্যে থেকেই দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে এক পুলিশ সদস্য বলেন, রাস্তায় গাড়ির কোনো চাপ নেই। তাই দায়িত্ব পালনে সমস্যা হচ্ছে না। তবে দুপুরের পর চাপ বাড়তে পারে। তখন হয়তো রাস্তায় দাঁড়িয়ে ডিউটি করতে হতে পারে। এদিকে, আজ ঈদের আগের দিন ধরেই রাজধানীবাসী শেষ সময়ের কেনাকাটা করতে বের হতে পারেন বিকেলের পর। তাই সেই সময় সড়কে চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে মার্কেট এলাকা যেমন নিউমার্কেট, গুলিস্তান, বসুন্ধরাকেন্দ্রীক কারওয়ান বাজার এলাকায় বিকেলে চিত্রটা পাল্টে যেতে পারে। কারওয়ান বাজার মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মো. মুস্তফা বলেন, ‘সকাল থেকে রাস্তায় গাড়ি চাপ নেই বললেই চলে। আমরা বসে বসে সময় পার করছি। তবে দুপুরের পর রাস্তায় গাড়ির চাপ কিছুটা বাড়তে পারে।’ শনিবার (২৯ মার্চ) বেশিরভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গার্মেন্টস কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর কয়েকটি মহাসড়কে ঘরে ফেরা মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। আর যারা গতকাল ঢাকা ছাড়তে পারেননি বিভিন্ন বাস টার্মিনালে তাদের আজ ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ছিল সরকারি অফিসের শেষ কর্মদিবস। ওই দিন বেশিরভাগ মানুষ ঢাকা ছাড়েন। ফলে শুক্রবার (২৮ মার্চ) থেকে রাজধানী ফাঁকা হওয়া শুরু হয়। এবার ঈদের ছুটি বেশি হওয়ায় স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পারছেন সাধারণ মানুষ। প্রসঙ্গত, ২৮ মার্চ (শুক্রবার) ও ২৯ মার্চ (শনিবার) সাপ্তাহিক দুদিনের ছুটি শেষে রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ঈদের ছুটি। ঈদের ছুটি শেষে সরকারি অফিস খুলবে আগামী ৬ এপ্রিল (রোববার)।

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়বেন প্রধান উপদেষ্টা
রাজধানী ঢাকার হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রতি বছরের ন্যায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও এখানে ঈদের জামাতে অংশ নিতে পারেন। মুহাম্মদ ইউনূস ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন। এদিন বিকেল ৪টায় তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে তিনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ। তিনি বলেন, ‘মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। এরপর বিকেলে তিনি তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।’ জাতীয় ঈদগাহ মাঠে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ঈদের জামাতে অংশ নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিস) প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা দুজনই জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আশা করা যাচ্ছে। এছাড়া ৩৫ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজে অংশ নিতে পারবেন।’ এর আগে ডিএসসিসি জানায়, জাতীয় ঈদগাহ মাঠে এবার জামাত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। আবহাওয়া খারাপ হবে না বলেই পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। তবে আবহাওয়া বৈরী হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত হবে। ছাত্র জনতার গণঅভুর্থানের মুখে ৫ আগস্ট পতিত আওয়ামী লীগের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের পালিয়ে যাওয়ার পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছেন তিনি ও তার উপদেষ্টা পরিষদ।

ঈদে ট্রেনযাত্রার শেষ দিনে ঢাকা ছাড়ছেন হাজারো মানুষ
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঘোষিত ট্রেন চলছে। ঈদে ট্রেনযাত্রার শেষ দিনেও হাজারো ঘরমুখো মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। রোববার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে পরিচালিত প্রত্যেকটি আন্তঃনগর ট্রেন নির্ধারিত সময় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে গেছে। কমলাপুর স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, বরাবরের মতই যাত্রীর চাপ রয়েছে স্টেশন এলাকায়। কেউ কেউ প্লাটফর্মে অপেক্ষা করছেন তার নির্ধারিত গন্তব্যের ট্রেনের জন্য। আর যেসব ট্রেন প্ল্যাটফর্মের লাইনে অবস্থান করছে সেসব ট্রেন ইতোমধ্যে যাত্রী বোঝাই হয়ে গেছে। প্রায় প্রতিটি কোচে যেন পা ফেলার জায়গা নেই। জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী শাফিউর রহমান বলেন, ‘ট্রেন ছাড়ার কিছু সময় আগে আমি ট্রেনের কাছে এসেছি। পরিবারসহ আমার সিটে যেতে অনেকটা বেগ পেতে হয়েছে। ট্রেন ভর্তি মানুষ ছিল। ট্রেনের ভেতর অনেক গরম। ট্রেন ছাড়লে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে।’ একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী শাহিদ আল মিনার বলেন, ‘ট্রেন যাত্রায় বরাবর যেরকম ভোগান্তি হয়েছে, এবার তেমন কোনও ভোগান্তি দেখছি না। স্টেশনে কোনও ভিড় নেই। অতিরিক্ত কোনও যাত্রীর চাপও নেই। শুধু কিছু মানুষ দাড়িয়ে যাচ্ছে।’ ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের (কমলাপুর) স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রোববার সকাল ১১টা পর্যন্ত ১৫টি আন্তঃনগর ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে। প্রতিটি ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে ঢাকা ছেড়েছে। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক আছে।’

শেষ সময়ে বাড়তি ভাড়ায় লোকাল বাসেই ভরসা ঘরমুখো যাত্রীদের
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষ প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে শেষ মুহূর্তে যাত্রা করছেন। তবে সায়েদাবাদ-পদ্মা-খুলনা রুটের সরাসরি পরিবহন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের বাসে সিট না থাকায় অনেক যাত্রীকেই লোকাল বাসে বাড়তি ভাড়া দিয়ে ঘরে ফিরতে হচ্ছে। সায়েদাবাদ-চট্টগ্রাম রুটের কিছু বাসে সিট থাকলেও সেখানে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৩০ মার্চ) রাজধানীর সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করে এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদ সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফেরার জন্য ব্যস্ত। সোহাগ, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, ইমাদ, গ্রীন লাইন, দোলা প্রভৃতি সরাসরি পরিবহন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাসে সিট ফাঁকা নেই। এর ফলে লোকাল বাসগুলো এখন ঘরমুখো যাত্রীদের ভরসা। এসব লোকাল বাসে ঈদের যাত্রায় বিভিন্ন রুটে ১০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে যাত্রীদের। এ পরিস্থিতিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং সরকারের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন অনেক যাত্রী। ইমপেরিয়াল এক্সপ্রেসের ম্যানেজার টুকু মাহমুদ বলেন, ‘ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি রুটে আমাদের বাস চললেও এ বছর যাত্রী সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম।’ শ্যামলী এনআর ট্রাভেলসের ম্যানেজার সোহেল হাসান জানান, এ বছর যাত্রী কম হলেও আমাদের কোনো কোচেই সিট ফাঁকা নেই। আজ দুপুর থেকে কিছু সিট ফাঁকা থাকতে পারে, তবে আশা করছি সেগুলোও বিক্রি হয়ে যাবে। ঢাকা থেকে মোকসেদপুর যাচ্ছিলেন ইব্রাহিম খলিল। তিনি বলেন, ‘ঈদে বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল না, তবে হুট করেই যাচ্ছি। পরিবার ছাড়া ঈদ হয় না। তবে রাস্তায় বেরিয়ে ভাড়া তিনগুণ হয়ে গেছে। ১০০ টাকার সিএনজি ভাড়া ৩০০ টাকা হয়ে গেছে, আর বাসের ভাড়া ৭০০-৮০০ টাকা চাচ্ছে। এভাবে মানুষকে জিম্মি করে ভাড়া আদায় করা সংস্কৃতি আমাদের সমাজে বন্ধ হওয়া উচিত।’ খিলগাঁও থেকে আসা যাত্রী ফারিয়া মাহবুব বলেন, ‘দাদা-দাদির সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামে যাচ্ছি। ঈদে গ্রামে যাওয়ার আনন্দই আলাদা। আমরা আগেই টিকিট কেটেছিলাম, কিন্তু গোপালগঞ্জের ৫০০ টাকার ভাড়া ঈদের জন্য ৬০০ টাকা নিয়ে নিয়েছে।’ বরিশালগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম জানান, সারারাত লঞ্চে না গিয়ে বাসে যাচ্ছি। পদ্মা সেতুর সুবিধা রয়েছে, তবে বাসে ভাড়া অনেক বেশি। ঈদে ভাড়া বাড়ানো তো স্বাভাবিক, তবে লঞ্চে ২৫০ টাকায় যেতে পারলে, বাসে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। সরকারের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। আরেক যাত্রী ফরিদ মিয়া বলেন, ‘ভালো কোনো গাড়ির সিট পাওয়া যাচ্ছে না। লোকাল বাসে যেতে হবে। সাকুরায় যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে সিট নেই। লোকাল বাসে গেলে অনেক ঝামেলা হতে পারে।’

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। রোববার (৩০ মার্চ) সকালে রাজধানীর বেশ কয়েক জায়গায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুসলিম উম্মাহ বাংলাদেশের আয়োজনে রোববার সকাল সোয়া ৭টায় পান্থপথের সামারাই কনভেনশন সেন্টারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। শিশু ও নারীসহ মুসল্লিরা জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।মুসল্লিরা দাবি করেন, পৃথিবীর কোথাও চাঁদ দেখা গেলে রোজা রাখা হারাম। সারা পৃথিবীতে ঈদ হচ্ছে, সে হিসেবে আমরাও পালন করছি। এর আগেও ঈদ পালন করেছি।একই তারিখে রোজা রাখা ও ঈদ উদ্যাপন করার জন্য সব মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানান নামাজে আসা মুসল্লিরা।এ ছাড়া আরও কয়েক জায়গায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস এলাকায়ও ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।জানা গেছে, চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামেও উদ্যাপন হচ্ছে ঈদুল ফিতর। মাদারীপুরের ২৫টি গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ পালন করছেন ঈদুল ফিতর।প্রতি বছর রমজান শেষে ঈদের চাঁদ দেখা ও ঈদ উদ্যাপন নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের অনেক স্থানেই পালিত হয় ঈদের আনুষ্ঠিকতা। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।এবার আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য বলছে, ‘৩০ মার্চ অর্থাৎ ২৯ রমজানে সূর্যাস্তের সময় শাওয়াল মাসের চাঁদের বয়স হবে ১.০৫ দিন। আর পরের দিন ৩১ মার্চ ২.০৫ দিন। এ সময় চাঁদের স্থায়িত্ব হবে ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় ৪৩ মিনিট আর পরের দিন আকাশে চাঁদের উপস্থিতি থাকবে ৫১ মিনিট।’আবহওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে রোববার সন্ধ্যায় খালি চোখেই দেখা যেতে পারে শাওয়াল মাসের চাঁদ। সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে একই দিনে ঈদ উদ্যাপনের বিষয়ে এবার আলোচনা উঠলেও ইসলামি চিন্তাবিদরা কোরআন এবং হাদিসের নির্দেশনাকে মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। সৌদি আরবের সঙ্গে একইসঙ্গে ঈদ উদ্যাপন বিষয়ে শিগগিরই সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ইসলামি ফাউন্ডেশন।

ছাদ ভর্তি যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছাড়ছে ট্রেন
শেষ সময়ে ঈদে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ। ঢাকার কমলাপুরে তাই যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। শুরু থেকে এবারের ট্রেনযাত্রা স্বস্তিদায়ক হলেও শনিবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যার পর তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। শনিবার কুড়িগ্রামগামী আন্তঃনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ও পঞ্চগড়গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেন প্রথমে ছাদ ভর্তি যাত্রী নিয়ে নির্ধারিত সময়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যায়। এরপর লালমনিরহাটগামী আন্তঃনগর ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেস রাত ৯টা ৪৬ মিনিটে ছাদ ভর্তি মানুষ নিয়ে দেশের প্রধান ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন) ছেড়েছে। শনিবার রাতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এমন চিত্র দেখা গেছে। ঢাকা ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোর এসি কোচ ছাড়া প্রতিটি কোচের আসন ছিল যাত্রীতে পরিপূর্ণ। এছাড়া কোচগুলোর ভেতরেও যে যেখানে পেরেছেন দাঁড়িয়ে অবস্থান নিয়েছেন। মানুষের ভিড় এতটাই যে কোচগুলোর দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। দরজাগুলোতে বাদুড়ঝোলা হয়েও মানুষ যাত্রা করেছেন। এসব ট্রেনের ছাদে শত শত মানুষ অবস্থান করছেন। তারা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়েই ট্রেনের ছাদে উঠেছেন। তারপরও রেলওয়ে কর্মীরা ও পুলিশের সদস্যরা তাদের ছাদে উঠতে নিরুৎসাহিত করেছেন।এছাড়া বিভিন্ন ট্রেনের অসংখ্য যাত্রী প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আরিফ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কেউ যেন ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে না পারে, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারপরও ঘরমুখো মানুষ ট্রেনের ছাদে উঠে পড়েছে। এখন যদি আমরা তাদের ফোর্স করে (জোরপূর্বক) নামাতে যাই, এতে যদি কেউ ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে আহত হন, তখন দোষটা রেলওয়েরই হবে।’

কেরানীগঞ্জ কারাগারে ঈদের তিনটি জামাত, থাকছে বিশেষ খাবারের আয়োজন
কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে দুইটি জামাত কারাগারের স্টাফদের জন্য এবং একটি জামাতে অংশ নেবেন কারাবন্দিরা। শনিবার (২৯ মার্চ) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার একেএম মাসুম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল ৭টা ও ১০টায় কারাগারের স্টাফদের জন্য পৃথক দুইটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া সকাল ৮টায় কারাগারের মাঠে বন্দিদের জন্য আরেকটি জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ খাবারের আয়োজন: প্রতি বারের মতো এবারও ঈদের দিনে কারাবন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একেএম মাসুম জানান, সকালে তাদের জন্য থাকবে মুড়ি, পায়েস অথবা সেমাই। দুপুরের খাবারে পরিবেশন করা হবে গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট, ডিম, কোমল পানীয়, সালাদ ও পান-সুপারি। যারা গরুর মাংস খাবেন না, তাদের জন্য খাসির মাংসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাতে থাকবে সাদা ভাতের সঙ্গে রুই মাছ ও আলুর দম। বিনোদন ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ: কারা সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দ্বিতীয় দিনে বন্দিদের জন্য বিশেষ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি ঈদের দিন স্বাভাবিক নিয়মের চেয়ে পাঁচ মিনিট বেশি সময় ধরে ফোনে বন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। ঈদের দিন স্বজনরা কারাবন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে পারলেও ঈদের দ্বিতীয় দিন বাসা থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে আসতে পারবেন। তবে নির্ধারিত নিয়ম মেনে খাবার কারাগারে প্রবেশ করানো যাবে। একেএম মাসুম বলেন, ‘ঈদের দিনে দায়িত্ব পালন করা কারা স্টাফদের জন্য বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে।’

চীন প্রধান উপদেষ্টার সফর গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে: মাহফুজুর রহমান
স্বাগতিক দেশ চীন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফরটিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এক বছরের কম সময়ের মধ্যে চীনে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের দুইটি সফর হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টার সফর তুলনার বিষয় রয়েছে। এর মানে হচ্ছে স্বাগতিক দেশ চীন ড. ইউনূসের সফরটিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে একটা নতুন ভারসাম্য তৈরির প্রচেষ্টা এখানে দেখা গিয়েছে।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘ড. ইউনূসের কারণে পূর্বের ঋণের সুদ হার কমানোতে ইতিবাচক মনোভাব, পানি ব্যবস্থাপনা বা বেল্ট অ্যান্ড রোড (বিআরআই) উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রযুক্তির হস্তান্তর ও চীনা প্রযুক্তি নির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর রিলোকেশনের মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে, যা বাংলাদেশের বাণিজ্য ভবিষ্যতে তৈরি পোশাকখাতের নির্ভরতা কাটিয়ে বৈচিত্র আনতে পারবে।’ অন্য দিকে তিস্তা প্রকল্পের মতো সংবেদনশীল প্রকল্পে চীনকে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে এমন এক অবস্থা তৈরি হয়েছে, যার ফল ইতিবাচক না নেতিবাচকভাবে বাংলাদেশের ঝুলিতে আসবে, তা বুঝতে সময় প্রয়োজন। কারণ এ প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততার বড় বিরোধীতাকারি হচ্ছে ভারত। সেই সঙ্গে বিআরআইতে যুক্ত হওয়াতে বাংলাদেশের জন্য লাভজনক। তবে বিআরআইতে বাংলাদেশকে যুক্ত করে চীন কতটুকু সুফল পাবে, তার প্রশ্ন থেকেই যায়। প্রধান উপদেষ্টার সফরে চীন সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে মোট ২১০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রায় ৩০টি চীনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বিশেষ চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে, যা প্রধান উপদেষ্টা বেসরকারিখাতকে বাংলাদেশের উৎপাদন শিল্পে বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানানোর পর এসেছে। চীন আরও মোংলা বন্দর আধুনিকীকরণ প্রকল্পে প্রায় ৪০ কোটি ডলার ঋণ প্রদান, চীনা শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নে ৩৫ কোটি ডলার এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা হিসেবে আরও ১৫ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বাকি অর্থ অনুদান ও অন্যান্য ঋণ সহায়তা হিসেবে আসবে।

মেডিকেল সহায়তা নিয়ে মিয়ানমার যাচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী
মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা দ্রুত বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে আহতের সংখ্যা। এমন সময় পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে কাল রোববার (৩০ মার্চ) বিশেষ বিমানে মেডিকেল সহায়তা নিয়ে দেশটিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর উদ্ধারকারী দল। শনিবার (২৯ মার্চ) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো সংবাদ বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বার্তায় বলা হয়, ‘ভূমিকম্পে ক্ষয়-ক্ষতির প্রেক্ষিতে জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী, উদ্ধার এবং মেডিকেল সহায়তা দিতে বিশেষ বিমানে কাল রোববার মিয়ানমারে যাচ্ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর উদ্ধারকারী দল।’ উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার (২৮ মার্চ) মিয়ানমারে সংঘটিত ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য বললেও বিবিসি জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা এক হাজার ৬৪৪ জনে পৌঁছেছে।

বিল্ডিং কোড না মানলে নগরে ভূমিকম্প মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে: আইপিডি
ঢাকা-চট্রগ্রামসহ বাংলাদেশের অধিকাংশ বড়-মাঝারি-ছোট শহরগুলো ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় একেবারেই অপ্রস্তুত। শনিবার (২৯ মার্চ) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শুক্রবার (২৮ মার্চ) মিয়ানমারে সংঘটিত ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় ও আশপাশের দেশ ও অঞ্চলে সেটির বিরূপ প্রভাব পড়ে। এই ঘটনা আমাদের আরও একবার বাংলাদেশের নগরগুলোর ভূমিকম্প প্রস্তুতি না থাকা, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড এবং মহাপরিকল্পনা ও ভূমি ব্যবহার জোনিং না মানার প্রবণতার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট অনেকগুলো ভূমিকম্প বড় আকারের ভূমিকম্পের আসন্ন পূর্বাভাস দিলেও আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শূন্য। ফলে যে কোনো সময়ে ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটার আগেই ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে এখনই যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে আইপিডি।’ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে অনেকগুলো সংস্কার কমিশন করলেও দেশের পরিকল্পিত নগরায়ন, টেকসই আবাসন ও ভবনের নিরাপত্তা বিষয়ক কোনো কমিশন করেনি। এই বিষয়টিকে অনভিপ্রেত বলে মনে করে আইপিডি। রাজউক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনেকের বিরুদ্ধেই আবাসন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিভিন্ন আঁতাত করে দূর্নীতির মাধ্যমে যত্রতত্র অনুমোদনহীন ভবন গড়ে উঠতে দেওয়া এবং পরবর্তীতে মহাপরিকল্পনা সংশোধনের নামে সেসব ভবন ও প্রকল্পের বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সরু রাস্তায় বহুতল ভবন নির্মাণের অবাধ স্বাধীনতা কিংবা ১০ তলা পর্যন্ত আবাসিক ভবনকে বহুতল বিবেচনা না করে কাঠামোগত ও অগ্নি নিরাপত্তায় ছাড় দেওয়ার উদ্যোগগুলো অত্যন্ত বিপদজনক। নাগরিক, পেশাজীবী ও পরিকল্পনাবিদদের পক্ষ থেকে এই বিষয়গুলোকে বারংবার তুলে ধরা হলেও রাজউক ও মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে আবাসন ব্যবসায়ীদের গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষায় অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছে আইপিডি।’ আইপিডি আরও মনে করে, ঢাকার ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনায় মাটির ভূতাত্ত্বিক গঠন ও গুণাগুণকে বিবেচনায় নিয়ে ভূমি ব্যবহার এবং ভবনের আকার-আয়তন নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অথচ ঢাকার নগর পরিকল্পনায় এই বিষয়গুলোকে সেভাবে বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে না। ঢাকার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলসহ ঢাকার চারিদিকে বন্যা প্রবাহ অঞ্চল ও জলাশয়-জলাভূমি ভরাট করে অধিকাংশ অনুমোদনহীন যেসব আবাসিক প্রকল্প গড়ে উঠেছে, সেখানে ইতোমধ্যে অসংখ্য বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। ভূমিকম্পে দুর্বল মাটির ওপর গড়ে ওঠা এসব ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকার ড্যাপে এলাকাভিত্তিক ভিন্নতাকে মাথায় নিয়ে ভবনের আকার-আয়তন নির্দিষ্ট করার প্রস্তাবনা থাকলেও ইমারত নির্মাণ বিধিমালার সংশোধন প্রস্তাবনায় মন্ত্রণালয় এলাকাভিত্তিক ভিন্নতাকে বাদ দিয়ে পুরো ঢাকা মহানগরীর জন্য একই ধরনের এফএআর বা ফার মান প্রস্তাব করেছে। পৃথিবীর কোনো শহরের নগর পরিকল্পনায় এ ধরনের পরিকল্পনা ও নির্মাণ কৌশল না থাকলেও এভাবেই চলছে ঢাকার মতো অত্যন্ত অবাসযোগ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ শহরের নগর পরিকল্পনা। এই ধরনের আত্ম-বিধ্বংসী প্রবণতা থেকে বের না হতে পারলে ঢাকার কাছাকাছি এপিসেন্টারে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

লাখ টাকার জাল নোটসহ প্রস্তুতকারী চক্রের সদস্য ধরা
বিপুল পরিমাণ জাল টাকা জব্দসহ জালনোট প্রস্তুতকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেপ্তারকৃতের নাম রুবেল বিশ্বাস। শুক্রবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর মালিবাগ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৩’-এর একটি দল। র্যাব-৩’-এর স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারি পরিচালক সনদ বড়ুয়া জানান, র্যাব-৩’-এর একটি দল গোয়েন্দা তথ্যর ভিত্তিতে গতরাতে জালনোট প্রস্তুতকারী চক্রের সদস্য রুবেল বিশ্বাসকে (৩২) গ্রেপ্তার করে। এ সময় ১ লাখ ৯ হাজার টাকার জালনোট জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, গ্রেপ্তার রুবেল জানান, সে একটি সংঘবদ্ধ জালনোট প্রস্তুতকারী চক্রের মূলহোতা। এই চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে বাংলাদেশী বিভিন্ন মূল্যমানের টাকার জালনোট প্রস্তুত করে তা ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করে আসছে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রুবেল বিশ্বাস স্বীকার করেন যে তিনি জালনোট প্রস্তুত করে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সিল-সই জালিয়াতি: চাকরি-পদোন্নতির নামে প্রতারণার ফাঁদ
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সই-সিল জালিয়াতি ও প্রতারণায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাফর ইকবাল (৪৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি প্রতারক জাফর ইকবাল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পরিচয়ে অফিসিয়াল স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষকে চাকরি দেওয়া, পদোন্নতি প্রদান, বদলি সংক্রান্ত এবং পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গবাদি পশুসহ অন্য দ্রব্যসামগ্রী আমদানির জন্য অনুমতি প্রদান সংক্রান্ত দালালি কার্যক্রম করে প্রতারণামূলকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। র্যাব ওই প্রতারককে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। গতকার শুক্রবার (২৮ মার্চ) রাতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা এবং র্যাব-১ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক জাফর ইকবালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গাইবান্ধা জেলার নবাব হোসেন প্রামাণিকের ছেলে। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ভুয়া স্বাক্ষরিত বিভিন্ন নথিপত্র, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া সিল, ভিজিটিং কার্ডসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার জাফর বিভিন্ন প্রতারণার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি র্যাবকে জানিয়েছে, উচ্চাভিলাষী জীবনযাপন করার উদ্দেশে গ্রেপ্তার জাফর প্রতারণার কাজ বেছে নেয়। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে এই প্রতারণা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। গ্রেপ্তার জাফর ইকবাল বিভিন্ন এলাকার চাকরি প্রত্যাশীদের বলতেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। এভাবে চাকরি প্রত্যাশীদের বিশ্বাস অর্জন করে এবং চাকরি দেওয়ার কথা বলে নগদ অর্থ হাতিয়ে নিত। তিনি প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি দেওয়াসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতি, বদলি সংক্রান্ত এবং ব্যবসায়ীদের পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে গবাদি পশুসহ বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী আমদানি ও রপ্তানির অনুমতি দেওয়া কথা বলে অসংখ্য ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। গ্রেপ্তার জাফর ইকবাল মূলত মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। সম্প্রতি এক ব্যবসায়ীকে সীমান্ত এলাকায় গবাদি পশুর বিট, খাটাল স্থাপনের ও গবাদি পশু আমদানির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভুয়া স্বাক্ষরিত অনুমতিপত্র দেন। গ্রেপ্তার জাফর ইকবালের স্থায়ী কোনো অফিস না থাকায় বিভিন্ন সময়ে ভাড়া বাসাকে অফিস হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। গ্রেপ্তার জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সাদুল্যাপুর থানায় মামলায় অভিযুক্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আসছিল। সর্বশেষ রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় আত্মগোপনে থাকাবস্থায় গ্রেপ্তার জাফরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সই জালিয়াতিকারী র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার জাফর ইকবালকে ডিএমপিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

চাঁদের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
সারা বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে একই সঙ্গে বাংলাদেশে ঈদ উদযাপন নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। যদিও ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, ‘কোরআন এবং হাদিসে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সিয়াম এবং ঈদ পালনের ওপর একাধিকবার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’ প্রতি বছর রমজান শেষে ঈদের চাঁদ দেখা ও ঈদ উদযাপন নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের অনেক স্থানেই পালিত হয় ঈদের আনুষ্ঠিকতা। এবার আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য বলছে, ‘৩০ মার্চ অর্থাৎ ২৯ রমজানে সূর্যাস্তের সময় শাওয়াল মাসের চাঁদের বয়স হবে ১.০৫ দিন। আর পরের দিন ৩১ মার্চ ২.০৫ দিন। এসময় চাঁদের স্থায়িত্ব হবে ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় ৪৩ মিনিট আর পরের দিন আকাশে চাঁদের উপস্থিতি থাকবে ৫১ মিনিট।’ আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, আকাশ মেঘ মুক্ত থাকলে ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় খালি চোখেই দেখা যেতে পারে শাওয়াল মাসের চাঁদ। সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে একই দিনে ঈদ উদযাপনের বিষয়ে এবার আলোচনা উঠলেও ইসলামি চিন্তাবিদরা কোরআন এবং হাদিসের নির্দেশনাকে মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। গত কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে একই সঙ্গে ঈদ উদযাপন বিষয়ে শিগগিরই সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ইসলামি ফাউন্ডেশন। কাল রোববার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬ টা ৩২ মিনিট থেকে ৭ টা ২০ মিনিটি পর্যন্ত চাঁদ দেখার সময় নির্দিষ্ট করেছে আবহওয়া অধিদফতর।

দেশে পৌঁছেছেন ড. ইউনূস
চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (২৯ মার্চ) রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী এয়ার চায়নার বাণিজ্যিক বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এর আগে চার দিনের আনুষ্ঠানিক সফর শেষে শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫৭ মিনিটে বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চিফ প্রোটোকল অফিসার হং লেই বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টাকে বিদায় জানান। মুহাম্মদ ইউনূস গত ২৭ মার্চ চীনের হাইনান প্রদেশে আয়োজিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনের ফাঁকে তিনি বেশ কয়েকটি বৈঠকও করেন। প্রধান উপদেষ্টা ২৮ মার্চ বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। তিনি টেকসই অবকাঠামো ও জ্বালানি বিনিয়োগ, বাংলাদেশ ২.০ উৎপাদন ও বাজার সুযোগ এবং সামাজিক ব্যবসা, যুব উদ্যোক্তা এবং তিন শূন্যের বিশ্ব- এসব বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তিনটি গোলটেবিল বৈঠকেও যোগ দেন। মুহাম্মদ ইউনূস ২৯ মার্চ পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভাষণ দেন।

ক্রেতাকে মারধর: হকার সিন্ডিকেটের চারজনকে পুলিশে দিল ছাত্র-জনতা
পণ্য কেনার সময় দরদাম করতে চাইলে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে হকারদের মারধরের শিকার হন এক যুবক। পরে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ওই হকার সিন্ডিকেটের কয়েকজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকালে পণ্য কেনার সময় দরদাম নিয়ে ফুটপাতের এক দোকানদারের সঙ্গে এক যুবকের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় কয়েকজন হকার মিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।পরে শনিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে ছাত্র-জনতা মিলে অভিযুক্তদের দোকানে যান। এ সময় হকার সিন্ডিকেটের কয়েকজনকে চিহ্নিত করে আটক করেন এবং গণধোলাই দিয়ে পুলিশের সোপর্দ করেন তারা।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার রমজান। তিনি বলেন, ‘যুবককে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় আজ দুপুরে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়।’