স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কোথায় ছিল জামায়াত: জয়নুল আবদিন ফারুক


5Feb 2025 (Naeem)/faruk-.jpg

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, গত ৫৪ বছরে কোনদিনও দেখিনি স্বাধীনতা দিবসে একটা মিছিল করতে। যখনই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস অক্টোবর-নভেম্বরে একটি নির্বাচনের কথা বলা শুরু করলেন, তখনই আপনাদের মুখে রাম রাম। আবার শুনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন। কীসের ইঙ্গিত? সংস্কারের পর নির্বাচন? কোথায় ছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়? কোথায় ছিলেন ১৬ বছর?

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত ‘জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ও পবিত্র মাহে রমজানের আগে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি’ শীর্ষক নাগরিক সমাবেশে তিনি এসব প্রশ্ন রাখেন।

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, আমরা শুনেছি আপনাদের একটা পত্রিকার মাধ্যমে ১৯৭১ সালে আমরা যারা যুদ্ধ করেছিলাম তাদেরকে অমুসলিম বলা হয়েছে। তাই আবার নতুন চক্রান্ত শুরু করেছেন। আমার নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট যখন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য হাঁটুজলে দাড়িয়ে আন্দোলন করেছেন, যারা কবরস্থানের মধ্যে জঙ্গলে ঘুমিয়ে জীবন কাটিয়েছেন, যারা আয়নাঘরে মানুষকে মারার শিক্ষা দিয়েছেন তখনও আপনাদেরকে এত জোড়ালো কথা বলতে দেখিনাই। এখন আবার এই ষড়যন্ত্র কেন? আমরা বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি ১৬ বছর হাসিনার কাছে মাথানত করিনাই। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলেও আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে মাথানত করবো না।

তিনি বলেন, এখন নির্বাচন নিয়ে তালবাহানা শুরু হয়েছে। কেউ মনে হয় একটু যেন গোলমাল করে ফেলছে। একটা যেন কোথায় কীসের ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এই জামায়াতে ইসলামী আর আওয়ামী লীগকে-শেখ হাসিনাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়ে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে জীবন দিতে হয়েছে। আমি মনে করি তার পেছনে ষড়যন্ত্র ছিল শেখ হাসিনার।

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, জামায়াতে ইসলামী আপনারাও আওয়ামী লীগের সঙ্গে এক হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। পরিণামে আপনাদের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মেরেছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের উদ্দেশে তিনি বলেন, তিনবার জাতীয় নির্বাচনে বৈধতা দিয়ে শেখ হাসিনাকে, আওয়ামী লীগকে আপনি সহযোগিতা করেছেন। আর আপনার দল আজ বিলীন হওয়ার পথে।

বিএনপি চেয়ারপারসন উপদেষ্টা আরও বলেন, বিগত ১৬টি বছরে আমরা অনেক কষ্ট করেছি, অনেক কটুক্তি শুনেছি, অনেক ব্যথা পেয়েছি, অনেক জেল-জুলুম খেটেছি। জনগণের কথা বলতে গিয়ে এই প্রেস ক্লাবের সামনে থেকেই আমাদের নেতৃবৃন্দদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এই দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে আজকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনার সরকার। বাংলাদেশের মানুষ কখনোই চায় নাই যে, বাংলাদেশের সংবিধানকে তার (শেখ হাসিনার) বাবা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিবে। এটা আমরা কখনোই শেখ মুজিবরের কাছে আশা করিনাই। কিন্তু আজকে সেই কারণেই তাকে নির্মমভাবে জীবন দিতে হলো। তার কারণ হলো, সংবিধান, গণতন্ত্র ও মানুষের ভালবাসার সম্মান যে ব্যক্তি দিতে পারে না সে ব্যক্তি কোনোদিনও বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকতে পারে না। তার আরেক প্রমাণ শেখ হাসিনা।

এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের সভাপতি সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন শাহীন, সাধারণ সম্পাদক মো. নবী হোসেন প্রমুখ।

ঢাকাওয়াচ২৪ এর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন ।
ঢাকাওয়াচ২৪ডটকমে লিখতে পারেন আপনিও ফিচার, তথ্যপ্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, ভ্রমণ ও কৃষি বিষয়ে। আপনার তোলা ছবিও পাঠাতে পারেন dhakawatch24@gmail.com ঠিকানায়।
×