
ধর্মের নামে দেশে আবারও ভিন্ন রূপে ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে—এমন আশঙ্কা জানিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘নতুনভাবে, নতুন কায়দায়, নতুন অবয়বে কেউ যেন স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রিজভী। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
রিজভী অভিযোগ করেন, গত দেড় দশক ধরে দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তার ভাষায়, ভোটের উৎসবের পরিবেশ ধ্বংস করে ভয় ও আতঙ্কের সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘সম্প্রতি কিছু রাজনৈতিক অসভ্য ও উগ্র আচরণ দেখা যাচ্ছে, যা ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে ধর্মকে ব্যবহার করে যদি কোনো শক্তি স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে চায়, তবে তা হবে আরও ভয়াবহ।’
সেনাবাহিনীর সঙ্গে এক প্রার্থীর অশোভন আচরণের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ‘জনগণ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে। ১২ তারিখ ভোটের মাধ্যমেই তারা এসবের জবাব দেবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠা সহজ নয়। এই সংকট থেকে উত্তরণে ভোটের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব তুলে দেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপির পক্ষে নয়, বরং জনগণের ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানাই।’
এ সময় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহাদী আমিন ভোট কারচুপির আশঙ্কা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান।
এর আগে রাজনৈতিক নিপীড়নের সময়ে সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘গভীর রাতে নেতাকর্মীদের তুলে নেয়ার ঘটনাগুলো সাংবাদিকরা প্রকাশ করায় অনেকের জীবন রক্ষা পেয়েছে। পুলিশ অস্বীকার করলেও গণমাধ্যমের ভূমিকার কারণে সত্য সামনে এসেছে।’
মতবিনিময় সভায় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসলাম জবিউল্লাহসহ কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।