
আসন্ন ২১ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস’ যথাযোগ্য সম্মান ও মর্যাদায় পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের গৌরবময় ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস’। ১৯৫২ সালে এ দেশের ছাত্র-যুবসমাজ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে তোলে। আন্দোলন দমনে তৎকালীন রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিছিলকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অনেকেই শাহাদাত বরণ করেন। বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। আমি মহান আল্লাহর কাছে তাঁদের রূহের মাগফেরাত কামনা করছি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২১ ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত—যা ভাষা শহীদদের প্রতি বৈশ্বিক সম্মান ও স্বীকৃতির প্রতীক। বাংলা ভাষার যথাযথ মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনের সব স্তরে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশ ও সুরক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তবেই ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হবে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এবার ভাষা দিবস পালিত হতে যাচ্ছে। তবে পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার, ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি জনগণের জানমাল ও ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তা বজায় রেখে নির্বিঘ্ন চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।
২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজনের মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য দলের সব শাখা এবং দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান তিনি।