
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
আগামী ১২ মার্চ সংসদের যাত্রা শুরুর আগে ৬ ও ৭ মার্চ গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মশালার উদ্বোধন করবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এই অধিবেশনকে সামনে রেখেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সংসদীয় রীতি-নীতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষ করে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়া বিএনপির ২০৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৪৬ জনই প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন। মন্ত্রিসভার অনেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীও এবারই প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ফলে সংসদীয় কার্যপ্রণালি ও মন্ত্রণালয় পরিচালনায় তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা সীমিত।
কর্মশালায় সংসদের কার্যপ্রণালি, আচরণবিধি, বিল প্রণয়ন ও পর্যালোচনা, বাজেট-সংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ, পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপন এবং নীতিগত প্রস্তাব যাচাই-বাছাই বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যরা নতুনদের সঙ্গে তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন। মূল লক্ষ্য—সরকার পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, স্থানীয় উন্নয়ন তদারকি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার কৌশল নিয়েও আলোচনা হবে।
গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিন ৬ মার্চ সকালে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা অংশ নেবেন। বিকেলের সেশনে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ফরিদপুর বিভাগের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। দ্বিতীয় দিন ৭ মার্চ সকালে ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর জেলার বাকি সদস্যরা এবং বিকেলে সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংসদ সদস্যরা অংশ নেবেন।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম জানিয়েছেন, ৭ মার্চ বিকেল আড়াইটার মধ্যে তাকে গুলশান কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এখনো কর্মশালার নির্দিষ্ট অ্যাজেন্ডা চূড়ান্তভাবে জানানো হয়নি। তবে দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যক্রম, বাজেট বরাদ্দ, আর্থিক শৃঙ্খলা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে করণীয় বিষয়েও দিকনির্দেশনা থাকবে।
নিজ নিজ এলাকার সমস্যা সংসদে উপস্থাপন এবং ইশতেহার বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার ও মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদারকির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।