
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে ‘রাতের সরকার’ বলে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তেলের দাম বৃদ্ধি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো রাতে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার দিনের আলোকে ভয় পায় কি না, সেটিও এখন প্রশ্নের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী সিলেট মহানগর শাখার আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “সন্ত্রাসী কায়দায় ব্যর্থ, পলাতক, পরিত্যক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নরকে এখানে বসিয়েছেন, ওকে সরান। এমডিকে জোর করে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে তাঁর পদত্যাগ নিয়ে রাতের অন্ধকারে মিটিং করে কবুল করেছেন।”
এরপর তিনি বলেন, “আসলে আমি বুঝতে পারতেছি না, এটা রাতের সরকার কি না। গত পরশু দিন তেলের দাম বাড়াইছে মধ্যরাতে, মানুষ যখন ঘুমাই পড়ছে, তখন। এখন দেখি, বোর্ড মিটিং করে সবচেয়ে বড় ব্যাংকের, এটাও দেখি রাতের বেলা। এরা কি দিনের আলোকে ভয় পায়?”
সমাবেশে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দেওয়ার সমালোচনাও করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গুপ্ত তো অবশ্যই। দেশের ভেতরে গুপ্ত ছিলাম। বাইরে যাইনি। তিন বৎসরের মতো জেলে ছিলাম, ওইটা তো গুপ্তই। ওই রকম গুপ্ত থেকে থেকেই তো লড়াই করে এই দেশটা মুক্ত হয়েছে। আমরা ইনশা আল্লাহ এই দেশেই থাকব। এই দেশে থাকার নাম যদি গুপ্ত হয়, তাহলে অবশ্যই আমি গর্বিত গুপ্ত।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির। তার দাবি, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। তিনি বলেন, “ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। গণনা এবং রেজাল্ট, দুটা দুষ্টু হয়েছে। সত্য চাপা পড়ে না, একসময় বের হয়ে আসে।”
গণভোটের ফলাফলকে সম্মান না দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিএনপির সমালোচনাও করেন তিনি। তার ভাষ্য, দেশের অধিকাংশ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনগণের রায়কে অসম্মান করা হয়েছে।
সুধী সমাবেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যার নিয়োগ নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে।
এ ছাড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির। তার অভিযোগ, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে অনেক পণ্যের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে সংসদে আলোচনা ও সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।