
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে গ্রেপ্তারকৃত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতা আনোয়ার হোসেনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় এজাহারনামীয় অপর আসামি ইমনকে জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল হক আনিসুল হক এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তেজগাঁও থানায় দায়েরকৃত একটি মামলায় (নম্বর ২৪/৩৫২) গ্রেপ্তার দেখানোর (শ্যোন অ্যারেস্ট) জন্য আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে আবেদন করেছেন ঢাকার উত্তরা ডিবির এসআই শাহ মিনহাজ উদ্দিন।
এর আগে, গত রোববার (৩১ মে) দুপুরে স্থানীয় এক যুবদল নেতা বাদী হয়ে দণ্ডবিধি ও সাইবার সুরক্ষা আইনের বিভিন্ন ধারায় রায়পুর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। তারও আগে শনিবার (৩০ মে) রাতে রায়পুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে স্থানীয় জনতা আনোয়ারকে আটক করে পুলিশে দেয়। আটক করার সময় তাকে শারীরিকভাবে মারধর করা হয়েছে বলে এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
আটক আনোয়ার হোসেন জাতীয় নাগরিক পার্টির শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। দণ্ডবিধি ও সাইবার আইনের এই মামলায় আনোয়ারের তিন ভাই ইমন হোসেন, রুবেল হোসেন ও দিপুর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার বাদী রুহুল আমিন সোনাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং চরবগা গ্রামের শফিক আহম্মদের ছেলে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে তীব্র কুরুচিপূর্ণ ও সম্মানহানিকর বক্তব্য লিখে আনোয়ার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে প্রচার করেন। শুধু তা-ই নয়, তার ফেসবুক আইডিতে স্বাধীন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম কাগজে লিখে, তা পায়ের নিচে রেখে ছবি তুলে পোস্ট করা হয়। এসব আপত্তিকর কর্মকাণ্ডে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। যুবদল নেতা রুহুল আমিনসহ স্থানীয়রা এই পোস্টের কারণ জানতে চাইলে আনোয়ার ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর চড়াও হন এবং একপর্যায়ে বাদীকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার চেষ্টা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে যুবদল নেতা রুহুল আমিন বলেন, "প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পানিসম্পদ মন্ত্রীর নামে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর কথা বলে আনোয়ার তা ফেসবুকে প্রচার করে। এর কারণ জানতে চাইলে তিনিসহ অভিযুক্তরা আমাদের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি।"
অন্যদিকে আনোয়ারের ওপর হামলা ও মামলার নিন্দা জানিয়ে এনসিপির জেলা কমিটির সিনিয়র সদস্য সচিব আলমগীর হোসাইন জানান, "প্রায় ২ হাজার লোক নিয়ে আনোয়ারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পরে তাকে মারধর করে পুলিশে সৌপর্দ করে। এখন আবার তার নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, তার ওপর হামলার ঘটনা ন্যক্কারজনক।"
আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, "আনোয়ারসহ কয়েকজনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় আনোয়ারকে আদালতে সৌপর্দ করা হয়েছে।"