
সীমান্তে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং জোরপূর্বক পুশ-ইনের (অবৈধ অনুপ্রবেশ) মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে ভারতের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে সার্বক্ষণিক সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ভারতীয় আধিপত্যবাদের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ডাক দেন।
১১ দলীয় ঐক্যজোটের যৌথ ব্যানারে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আগ্রাসন রুখে দিতে দেশের সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ শক্তির ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সাথে সীমান্তে নির্মম হত্যাকাণ্ড বন্ধে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন জোটের শীর্ষ নেতারা।
সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার ভারতের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে বলেন, "ভারত আমাদের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, তাই দেশের মানুষকে তাদের আধিপত্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে সবসময় সজাগ থাকতে হবে।"
উক্ত প্রতিবাদ সভায় সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলো দিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে পুশ-ইন বা জোরপূর্বক পুশ ব্যাক করার অপচেষ্টা বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন উপস্থিত বক্তারা। ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, দেশের সচেতন জনগণ যেকোনো মূল্যে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সক্ষম।
এর আগে মূল বিক্ষোভ মিছিল শুরুর প্রাক্কালে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা, কিন্তু বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।"
বিকেলের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শাহবাগ মোড় থেকে ঐক্যজোটের হাজারো নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে উত্তাল স্লোগান দিতে দিতে শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে মৎস্য ভবন মোড় অতিক্রম করে পল্টন মোড়ে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাপ্তি সভার মাধ্যমে শেষ হয়।