
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মাদক সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে পড়েছেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা। দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শেষমেশ ওই দুজনকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে পাঁচবিবি পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাংগঠনিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করা হয়।
বহিষ্কারের তালিকায় থাকা দুই নেতা হলেন— পাঁচবিবি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আমিনুল সরকার এবং একই ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ মণ্ডল। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাপরিপন্থী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমিনুল সরকার ও ফিরোজ মণ্ডলকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাঁচবিবি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আবু হাসনাত মণ্ডল ও যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল ফেরদৌস যৌথভাবে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও আইডিতে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ওই দুই নেতাকে মাদকজাতীয় দ্রব্য সেবন করতে দেখা যায়। এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমিনুল সরকার কিংবা ফিরোজ মণ্ডলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে পাঁচবিবি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আবু হাসনাত মণ্ডল সংবাদমাধ্যমকে বলেন,
‘ফেসবুকে আমিনুল সরকার ও ফিরোজ মণ্ডলের মাদক সেবনের ভিডিও দেখা গেছে। এটি দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড। এ কারণে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, জয়পুরহাটে এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর কিছুদিন আগে আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর ইসলামেরও একটি মাদক সেবনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ঘটনায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ার পাশাপাশি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল জেলা বিএনপি।