
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক শিবিরের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নয়, বরং নিজস্ব একক শক্তিতে নির্বাচনী মাঠে নামার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তরুণদের হাত ধরে গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের মতে, তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দলীয় ভিত্তি ও সাংগঠনিক কাঠামোকে খোলনলচে বদলে শক্তিশালী করতেই এমন রণকৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে এই একক লড়াইয়ের সিদ্ধান্তে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার কারণে কিছু কিছু আসনে জয়ের পথ কঠিন হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে দলটি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের মাত্র ১২ মাসের মাথায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়ে ছয়টি আসনে বিজয় ছিনিয়ে আনে এনসিপি। সেই অভাবনীয় সাফল্যের পর দলটি এখন দেশজুড়ে তাদের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একেবারে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত নতুন কমিটি গঠনের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
দলের বর্তমান সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানান, সংসদ নির্বাচনের আগের চেয়েও এখন দলের কার্যক্রম অনেক বেশি বেগবান ও গতিশীল। তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন: ‘নির্বাচনের স্বার্থে ওয়ার্ড পর্যন্ত অবশ্যই কমিটি হবে এবং একটা রাজনৈতিক তৎপরতা তৈরি হবে।’
তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পেলেও, নির্বাচনী মাঠে ভোট বিভাজনের সমীকরণে কিছু জায়গায় জয়ের সম্ভাবনা কিছুটা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। তিনি আরও জানান, দেশের যেসব অঞ্চলে পূর্বে দলের কোনো সাংগঠনিক অস্তিত্ব ছিল না, সেখানে নতুন কমিটি দেওয়া হচ্ছে এবং পূর্বের পুরোনো কমিটিগুলোর কাজের পারফরম্যান্স যাচাই করে প্রয়োজনীয় রদবদল আনা হচ্ছে।
জোট গঠনের অনিশ্চয়তা ও দল ভারী করায় কড়া নজরদারি
এদিকে, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে দলের শতভাগ প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি স্পষ্ট করেন যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঠিক কবে এবং কোন পদ্ধতিতে (দলীয় নাকি নির্দলীয়) অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে এখনও এক ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। আর এই অনিশ্চয়তার কারণেই অন্য কোনো দলের সাথে জোট বাঁধার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা উদ্যোগ তারা নেননি।
একই সাথে দলের স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ধরে রাখার ক্ষেত্রে এনসিপি যে বিন্দুমাত্র আপস করবে না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই মুখপাত্র। আসিফ মাহমুদ জানান, দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত ও প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তিত্বই তাদের পতাকাতলে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। কিন্তু দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন করতে পারে— এমন কোনো বিতর্কিত মুখকে তারা সচেতনভাবেই দলে ভেড়াচ্ছেন না। বিতর্কিত কোনো ব্যক্তির আগমনে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে দলের ওপর যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেই শঙ্কা থেকেই সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এমন কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।