
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে সততা, মানবিক গুণাবলি, হালাল উপার্জন, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে জেলা ও মহানগর কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের সমাপনী দিনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। যারা হালাল উপার্জন করেন, সমাজে গ্রহণযোগ্য এবং নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন, তাঁদেরই দায়িত্ব দেওয়া উচিত। তিনি যে স্তরের জনশক্তিরই হোন না কেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই তাঁকে মূল্যায়ন করতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনসহ জামায়াত বর্তমানে জাতীয় সংসদে ৯০টি আসনে প্রতিনিধিত্ব করছে। জনগণ দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা থেকেই তাঁদের ওপর আস্থা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, দলের লক্ষ্য যদি শুধু ক্ষমতায় যাওয়া হয়, তবে তার পরিধি সীমিত থাকবে। কিন্তু লক্ষ্য যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়, তাহলে সেই লক্ষ্য আখিরাত পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তিনি বলেন, দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার আগে প্রত্যেককে নিজের চরিত্র ও নৈতিকতা গঠনের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার চেতনা দলটির অন্যতম শক্তি। একজন মানুষের দীর্ঘদিনের সুনামও একটি ছোট ভুলের কারণে ম্লান হয়ে যেতে পারে। তাই সব পর্যায়ে সতর্কতা ও আত্মশুদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর কিতাব ও রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণকারীরা কখনো পথভ্রষ্ট হন না। সমাজ, সংগঠন ও রাষ্ট্র গঠনে নারী-পুরুষ উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি মায়েদের যথাযথ সম্মান দেওয়া, তাঁদের সহযোগিতা করা এবং দ্বীনি কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম, ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম এবং অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।