
ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর তা আর ফিরে আসে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জার্মানির অ্যাডলফ হিটলার কিংবা ইতালির বেনিতো মুসোলিনির পতনের পর তাদের আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে রাজধানীর বনানীতে জুলাই আন্দোলন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘জার্মানির এডলফ হিটলার আত্মহত্যা করেছে, আর তার দল ও একইসঙ্গে মুসোলিনিকেও ফেরত আনা যায়নি। ফ্যাসিস্টের পতন হলে আর ফিরিয়ে আনা যায় না।’
তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক কর্মসূচি গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ হতে পারে। তবে শিশু, কিশোর ও তরুণদের হত্যার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে, তাদের কীভাবে ক্ষমা করা যায়— সেই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। তার ভাষ্য, নানা কৌশলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।
রিজভী আরও বলেন, ‘যে রক্তের আলপনা আওয়ামী লীগ এঁকেছে, সেই রক্তের আলপনা মাড়িয়ে আবার এ দেশে রাজনীতি করবে, এটা কীভাবে সম্ভব? এ দেশ বারবার প্রতিরোধ করেছে, আর প্রতিরোধ করতে জানে।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনা যদি এ দেশে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া খানের উত্তরসূরি কিংবা টিক্কা খানের উত্তরসূরিদেরও এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার মেনে নিতে হবে। বলতে হবে, যা হয়েছে হোক, এখন তাদের সন্তান-সন্ততিরাও এসে এ দেশে রাজনীতি করুক।’
বক্তব্যে একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘একটি দল আছে, যারা গোটা দেশ যখন স্বাধীনতার পক্ষে ছিল, তখন তারা ছিল বিপক্ষে। আবার ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনে গিয়েছিল। তাদের রাজনীতি হচ্ছে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা।’