
‘এক দফার ঘোষণা কোনো একক ব্যক্তির নয়, এটি এদেশের সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন’—এমন মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, প্রত্যাশা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এক দফার বিষয়টি সামনে এসেছে। এটি কোনো ব্যক্তি বিশেষের সিদ্ধান্ত নয়; বরং জনগণের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৪টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচিতি সভা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে নুরুল হক নুর বলেন, গণঅধিকার পরিষদ ক্ষমতা, মন্ত্রীত্ব বা সংসদ সদস্য হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়নি। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা কিংবা পদ-পদবির জন্য নয়; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই গণঅধিকার পরিষদ রাজনীতি করছে।’
তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণ সমাজকে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম শক্তি হিসেবে সামনে এগিয়ে আসতে হবে। নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে নুর বলেন, নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব হবে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও গণমুখী করে তোলা। একই সঙ্গে মানুষের পাশে থেকে তাদের অধিকার ও ন্যায্য দাবির পক্ষে সোচ্চার থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি নাদিম হাসান বলেন, শহীদ মিনারে ৩ আগস্ট জনগণ এক দফার সিদ্ধান্ত নিয়েই গিয়েছিল, কারো ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করেনি। তিনি বলেন, হাসিনার পিয়ন যেখানে ৪০০ কোটি টাকা মেরে দেয়, গণ-অভ্যুত্থানের পরে একজন উপদেষ্টার পিয়ন ৩০০ কোটি টাকা মেরে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে পরিবর্তন কোথায় হলো? ক্রেডিটবাজির আওয়ামী রাজনীতির বয়ান যারা এখন করতে চায়, তারাই গণ-অভ্যুত্থানের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে। তারাই জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তীতে অনৈক্য তৈরির মূলনায়ক। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ‘কিংস পার্টি’ করে আজকে তারা গণতন্ত্রের ছবক দিচ্ছে, এটাই তাদের ভণ্ডামি।
বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, মুখপাত্র আবু হানিফ, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন, সহ-সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, এরশাদুল হক, সকাল আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ প্লাবন আহমেদ, হাবিবুর রহমান ও আতিকুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ফখরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রাহুল ইসলাম এবং বিভিন্ন যুব সংগঠনের সিনিয়র নেতারা।