
জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের আদর্শকে সামনে রেখে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক পথচলায় দলটি কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায়, কখনো বিরোধী দলের ভূমিকায় থেকে নানা আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে এগিয়েছে।
গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা—বাংলাদেশের রাজনীতির বিভিন্ন বাঁকে বিএনপির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দীর্ঘ এই পথচলায় দলটি যেমন সাফল্য পেয়েছে, তেমনি পার হতে হয়েছে নানা প্রতিকূলতা ও কঠিন সময়।
বিএনপির যাত্রা শুরু হয়েছিল জিয়াউর রহমানকে ঘিরে। তার মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে নির্বাচনী রাজনীতি—সব ক্ষেত্রেই তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একাধিকবার সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনাও করেছেন তিনি।
তবে গত দেড় দশকের বেশি সময়ে বিএনপির রাজনীতি ছিল আরও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। রাজপথের আন্দোলন থেকে কারাবন্দিত্ব—নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের নেতৃত্ব ধরে রেখেছেন খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুর পর বিএনপির নেতৃত্বের ভার এখন তারেক রহমানের হাতে। তার নেতৃত্বেই আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে দলটি।
ফলে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিএনপির জন্য অতীতের অর্জন, বর্তমান সাফল্য এবং ভবিষ্যতের নানা প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জের এক ভিন্ন বাস্তবতা সামনে নিয়ে এসেছে।
তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় একের পর এক প্রতিকূলতা মোকাবিলার অভিজ্ঞতা থাকায় বর্তমান পরিস্থিতিকে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, “চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই প্রতি পদে পদে। এটিকে মোকাবিলা করে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়াটাই হলো প্রধান কাজ। অনেক সংকট থাকবে অনেক সমস্যা থাকবে সেগুলোকে নিরসন করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।”
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে তাই শুধু অতীতের গৌরব ও সাফল্য স্মরণ করাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশের সামনে থাকা নানা সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখাই এখন দলটির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।