
রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে নৈরাজ্য বা অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হলে বিএনপি তা মোকাবিলায় মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোকে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে এর পেছনে বিভিন্ন মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।
রিজভী বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। কম দামে কীভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা না করে লংমার্চে সরকার ও বিএনপিকে নিয়ে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা কাম্য নয়। এক দফা কর্মসূচির মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা হলে বিএনপি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে সন্ত্রাস প্রতিরোধে বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করবে না বলে জানান রিজভী। বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ‘পরাজিত শক্তির’ সঙ্গে গোপনে কারও যোগাযোগ রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। প্রশাসনের ভেতরে থেকেও কেউ কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে এ ধরনের ব্যক্তিদের শনাক্তের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
জনগণের স্বার্থে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও কেউ কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন বলে অভিযোগ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনো কম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেও সরকার জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। মূল্য সমন্বয়ের পরও সরকারকে লোকসান বহন করতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় দলীয় সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের পরিস্থিতি ও স্থানীয় বিষয় বিবেচনায় সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরিকল্পিত সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রিজভী জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রতিবাদে শিগগিরই মিছিল, সমাবেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।