
চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগ তুলে সরকারের প্রতি নিজ দলের কথিত ‘নব্য জমিদারদের’ লাগাম টানার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম।
বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সরকারের প্রশ্রয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কিছু ‘নব্য জমিদারের’ উত্থান ঘটেছে। তারা দেশকে নিজেদের জমিদারি মনে করছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জায়গায় খাজনার মতো চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলেই হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় জুলাইয়ের ‘অকুতোভয় কণ্ঠস্বর’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে বিএনপির সন্ত্রাসীরা ব্যাপক ভাঙচুর, ছিনতাই ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার ভাষায়, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং সারাদেশে চাঁদাবাজি ও দখলদারির যে ‘ত্রাস’ তৈরি হয়েছে, এটি তারই একটি নমুনা।
তবে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার কারণ নিয়ে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলের পুলিশ জানিয়েছে, নিউ গিনি প্রপার্টিজের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশের দাবি, স্টুডিওটি হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল না এবং চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
সাদিক কায়েম বলেন, মানুষের তিলে তিলে গড়ে তোলা স্বপ্ন, বছরের পর বছর পরিশ্রমে দাঁড় করানো ব্যবসা কিংবা প্রতিষ্ঠান মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজ দলের ‘নব্য জমিদারদের’ লাগাম টেনে ধরা সরকারের জন্যই মঙ্গলজনক হবে।
বাংলাদেশকে কারও জমিদারিতে পরিণত হতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘এই দেশ হবে জনগণের।’