
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে চাকরিচ্যুত, গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। একই সঙ্গে পরীক্ষা দিতে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্ষতিগ্রস্ত চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী—বাক্স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত চাকরিপ্রার্থীদের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনীর সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, সংশোধনী কার্যকর হলে গুজব, অপতথ্য ও মানহানির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে কথা বলা নাগরিকদের হয়রানি করার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে প্রস্তাবিত সংশোধনী থেকে সরে এসে বাক্স্বাধীনতা ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানান তিনি।
আখতার হোসেনের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগে সাংবাদিক, লেখক ও সাধারণ মানুষ গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাও ওই আইনের অপপ্রয়োগের ভয়াবহতা তুলে ধরে। এসব অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে অপরাধের সংজ্ঞা অস্পষ্ট ও ব্যাপক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবিধান সংশোধন নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করা এবং এককভাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গণভোটের রায় ও জাতীয় ঐকমত্যকে উপেক্ষা করার শামিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা ভবিষ্যতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী প্রসঙ্গে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার-সমর্থকদের গালিগালাজ, গুজব ও মানহানিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ সরকারের সমালোচনা করলেই বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে আইনি হয়রানির মুখে পড়তে হতে পারে। অস্পষ্ট আইনের মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে ভীতি তৈরির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা বলেন, চাঁদাবাজি, লুটপাট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মতো সমস্যার কার্যকর সমাধান প্রয়োজন। এলপিজি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির পেছনে সিন্ডিকেটের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষাবিদ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস।
এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার, ডেইলি ওয়াদারের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ, লেখক ও বিশ্লেষক অপূর্ব জাহাঙ্গীর এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন।