
কৃষক মাঠে ফসল ফলালেও উৎপাদিত পণ্যের দামের বড় ব্যবধানের সুফল পাচ্ছেন না তাঁরা। সার সংকট, চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট ও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের সংকট বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
পঞ্চগড়ে দুই টাকায় পাওয়া একটি লাউ ঢাকায় ৬০ টাকায় বিক্রির উদাহরণ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কৃষক কেন তাঁর উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন না?
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর তিন নেতার মাজার প্রাঙ্গণে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে এনসিপির অঙ্গসংগঠন জাতীয় কৃষক শক্তি। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আখতার হোসেন এসব কথা বলেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আকরাম হোসাইন, জাতীয় কৃষক শক্তির সদস্যসচিব কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম, মুখ্য সংগঠক নফিউল ইসলাম, এনসিপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব মাহদী এবং কেন্দ্রীয় সদস্য দিদার শাহসহ সংগঠনগুলোর অন্য নেতারা।
আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একজন নেতাকে কেন্দ্র করে অন্য জাতীয় নেতাদের অবদান আড়াল করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকারও জাতীয় নেতাদের যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের জীবন, রাজনৈতিক দর্শন ও অবদান তুলে ধরতে পাঠ্যপুস্তক ও গণমাধ্যমে আলোচনা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
শেরে বাংলার কৃষকবান্ধব রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন কাজ করেছেন। সাম্প্রদায়িক বিভেদ উপেক্ষা করে হিন্দু-মুসলমান কৃষকদের ঐক্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। শেরে বাংলার আদর্শ অনুসরণ করে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান আখতার হোসেন।
দেশের কৃষি খাতের সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে সার সংকট, ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, বাজারে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বন্ধ করা এবং হিমাগার ও শস্য সংরক্ষণাগার নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষিঋণের ক্ষেত্রে সহানুভূতিশীল নীতি গ্রহণ এবং সরকারি প্রণোদনা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
আখতার হোসেন বলেন, কৃষকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় শেরে বাংলার কৃষকবান্ধব আদর্শ দেশের সব রাজনৈতিক দলের অনুসরণ করা উচিত।