
সার্বিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা আলেকসান্দার ভুচিচের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের রাজনৈতিক জোট ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ নির্বাচনে জয় পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ফলাফলকে দেশটির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভুচিচ ২০১৪ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট অথবা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সার্বিয়ার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। তবে দুর্নীতি ও ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে টানা ১৮ মাসের সরকারবিরোধী আন্দোলন তাঁর নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনের মুখে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভুচিচ প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
রোববার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ভুচিচ বলেন, “এটি পরিষ্কার যে আমরা নির্বাচনে হেরে গেছি, স্টুডেন্ট লিস্ট জয় পেয়েছে।”
তাঁর এ ঘোষণার পরপরই রাজধানী বেলগ্রেডের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ নেমে উদ্যাপন শুরু করেন। রাস্তায় নাচ-গানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ‘জয়’ ও ‘তার কাজ শেষ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৬০ লাখ মানুষের দেশ সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ ঘটনাকে গত এপ্রিলে হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের পরাজয়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
ভুচিচের দেওয়া প্রাথমিক ফলাফলের হিসাব অনুযায়ী, ২৫০ আসনের সার্বিয়ার পার্লামেন্টে ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, তাঁর দল ‘সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি’ (এসএনএস) পেতে পারে ১০৫টি আসন।
বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাদোমির সাইচিচ বলেন, “প্রিয় সার্বিয়া, আজ রাতে জনগণের কণ্ঠস্বর শোনা গেছে। আজ রাতে আমরা জয় উদ্যাপন করব, আগামীকাল আমরা ভবিষ্যৎ গড়ব।”
নির্বাচনে জয়ের জন্য ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’কে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা ও কর্মকর্তারা।