
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মানবপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য ও দেশপ্রেমের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে আলোকিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
আজ সোমবার বিকেলে আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী সকল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ের পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মানবতাবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্য ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। নজরুলচর্চার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করা সম্ভব। সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ একটি আলোকিত, মানবিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ত্রিশালে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছেন। এর মাধ্যমে সারা দেশে নজরুলচর্চাকে নতুন গতি ও মাত্রা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নজরুলের জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে আগ্রহ বাড়াবে।
তিনি নজরুলকে এক অসাধারণ ও বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁর সৃষ্টিকর্মে প্রেম ও দ্রোহ একই সঙ্গে শক্তিশালীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ইসলামী সংগীতের পাশাপাশি শ্যামাসংগীত রচনা করে নজরুল ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িকতার যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আজও আমাদের সমাজের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি বহুমাত্রিক ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। নৌকাবাইচ, যাত্রাশিল্প, বাউলগান, হাছন রাজা, লালন ও বিজয় সরকারের গানসহ দেশের লোকজ ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির চর্চা ও প্রসারে গুরুত্ব দিতে হবে।পাহাড় ও সমতলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির সম্মিলনেই গড়ে উঠেছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় সংস্কৃতি সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এর মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয় কবির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীল ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়া। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশের পাশাপাশি তাদের মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজমুল হক, আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নুরজাহান আক্তার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হেলাল খান ও সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন।
পরে অতিথিবৃন্দ প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিভাগের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।