
‘আমরা সরকারের সবকিছু ভেঙে তছনছ করে দেব’—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণ পাশে থাকলে সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন করে ছাড়বেন। সরকার আগামী ৯ তারিখের আগে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ঘোষণা না দিলে দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকা, খুলনা ও কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চের পথে শরীয়তপুরের নাওডোবায় পদ্মা সেতু এলাকায় এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পথসভায় জামায়াত আমির বলেন, সাত দফার মূল দাবি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। এই একটি দাবি পূরণ না হওয়ায় বাকি ছয় দফার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিএনপি জাতির গণরায়কে উপহাস করছে এবং জনগণের সঙ্গে মিথ্যাচার, ধোঁকা ও প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সরকার জনগণের ওপর স্বৈরশাসন চালিয়ে যেতে চায়।
তিনি আরও বলেন, ‘যে জাতি স্বাধীনতার জন্য বুকে গুলি নেয়, সে জাতি কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না।’ সাত দফা দাবি আদায়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘কার্ডের সরকারকে বলে দিতে চাই, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডের ভেলকিবাজির মাধ্যমে জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে এবং পাঁয়তারা বন্ধ না করলে জনগণ চূড়ান্তভাবে তোমাদের লাল কার্ড দেখাবে।’
জেলা জামায়াতের আমির আবদুর রব হাসেমীর সভাপতিত্বে পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ—এই সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে।