বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্কের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) ব্রঙ্কসের নিরব রেস্টুরেন্টে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি সামাদ মিয়া জাকারিয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদকের মো. ইমরান আলী টিপুর পরিচালনায় সভায় সোসাইটির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এ সময় সোসাইটির বিগত দুই বছরের কার্যক্রম ও আয়-ব‍্যয় হিসাব উপস্থিত সকলের মাঝে উপস্থাপন ও কপি সরবরাহ করা হয়। সভায় জানানো হয়, বর্তমান কমিটি গত দুই বছরে সোসাইটির জন্য মোট ৫০ হাজার ৫৮১ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে, যা বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়েছে। বিশেষ করে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানে সংগঠনটি মানবিক সহায়তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সভায় উপস্থিত উপদেষ্টা আবু কায়ছার চিশতি ও হাসান আলী বর্তমান কমিটির সাফল্যে সন্তুষ্ট হয়ে কমিটির মেয়াদ আরও দুই বছর বৃদ্ধির প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এতে প্রচার সম্পাদক মছনুর রহমান গঠনতন্ত্রের কথা উল্লেখ করে দুই বারের বেশি কোনো কমিটি বহাল থাকা যাবে না বলে স্মরণ করিয়ে দেন। এ সময় সামাদ মিয়া জাকারিয়া সংগঠনের স্বচ্ছতা ধরে রাখার জন্য এবং গঠনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একটি নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি উপস্থিত সবাইকে আগামী কমিটি গঠনের জন্য প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান। নির্বাচন কমিশন গঠন ও সদস্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাব আসে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। যারা সোসাইটির সদস্য হতে ইচ্ছুক, তারা মো. সামাদ মিয়া জাকারিয়া ও ইমরান আলীর কাছ থেকে সদস্য ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা আব্দুর রব মিয়া, উপদেষ্টা হাসান আলী ও আবু কায়সার চিসতি, সহ-সভাপতি আমিনুল হক চুন্নু, কোষাধ্যক্ষ মো. বশির মিয়া, প্রচার সম্পাদক মসনুর রহমান, ধর্ম ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আবু সাঈদ এস চৌধুরী, আপ‍্যায়ন সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন।

দুবাইয়ে প্রবাসীদের সমস্যার কথা শুনলেন প্রধান উপদেষ্টা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে সম্প্রদায় সংযোগ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তিনি এই কর্মসূচিতে যোগ দেন। প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, কর্মসূচিতে প্রবাসীরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রধান উপদেষ্টা তাদের কথা ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং সমস্যা সমাধানে আশু পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন। গভর্নমেন্টস সামিট-২০২৫-এ যোগ দিতে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুবাই পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা। দুবাই পৌঁছালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রীড়ামন্ত্রী ড. আহমদ বেলহুল আল ফালাসি তাকে স্বাগত জানান। বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুবাইয়ে গভর্নমেন্টস সামিট-২০২৫’-এর প্লেনারি সেশনে যোগ দেন। ডব্লিউজিএসের সম্মেলনস্থলে অনুষ্ঠিত প্লেনারি সেশনটি পরিচালনা করেন সিএনএনের বেকি অ্যান্ডারসন। দুই দিনের সফর শেষে শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সাংবাদিক জুয়েল সাদতের মা মুহিবুন নাহারের ইন্তেকাল

যুক্তরাষ্ট্রেরসেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় বসবাসরত উত্তর আমেরিকা প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি ও ৩৯তম আটলান্টা ফোবানার মিডিয়া চেয়ারম্যান গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জুয়েল সাদতের মাতা বেগম মুহিবুব নাহার ( ৮৬) গত শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বার্ধক্যজনিত কারণে ওরলান্ডোতে মৃত্যুবরন করেছেন। বেগম মুহিবুন নাহার ১৯৩৮ সালে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার হাসিমপুর গ্রামে এক সম্ভান্ত্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তৎকালীন সমাজ জীবনে মেয়েরা স্কুলে পড়তে না গেলেও তিনি লেখাপড়া করেন। তিনি অনেকটা ব্যক্তিগত আগ্রহেই স্কুলে যেতেন। দুই ভাইয়ের সাথে তিনি লুকিয়ে স্কুলে যেতেন৷ সংবাদপত্রের সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক ছিল। বেগম মুহিবুন পত্রিকা নিয়মিত পড়তেন। চার মেয়ে ও দুই ছেলেদের ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর জন্য ১৯৬৭ সালে মৌলভীবাজার জেলা থেকে সিলেট শহরে স্থানান্তরিত হন। মালিনীছড়া চা বাগানে তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় ছিলেন। তিনি সুচি শিল্পে দক্ষ ছিলেন। তিনি ৮০’-এর দশকে অনেককে সেলাই শিক্ষা দিয়েছিলেন। পড়াশুনার প্রতি অসম্ভব মনোবল থাকায় তিনি নিজের সন্তান ছাড়াও পরিবারের অনেককে উচ্চ শিক্ষার জন্য সহযোগিতা করেন। ৯৩ সাল থেকে ফ্লোরিডার কিসিমিতে আসবাস করতেন, অসম্ভব অমায়িক ও মানবিক গুণাবলীর কারণে তিনি কমিউনিটির সকলের নিকট প্রিয় ছিলেন৷ বেগম মুহিবুন নাহারের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। মরহুমার নামাজে জানাজাতে কয়েক শত গুণগ্রাহী উপস্থিত হন৷ শহরের বড় বড় ৫টি মসজিদের ইমামসহ বিশিষ্ট আলেম উলামা ও ইসলামি স্কলাররা নামাজে জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। বেগম মুহিবুন নাহার নানা জনহিতকর কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন৷ তিনি সাদত ফাউন্ডেশনের একজন ট্রাস্টি। সাদত ফাউন্ডেশনের আওতাধীন মাদরাসাগুলেতে ১৩০ জন হাফিজী পড়ছেন এবং ৩০ জন হাফিজী সম্পন্ন করেছেন। মরহুমার মৃত্যুর সংবাদে সিলেটে ও লন্ডনে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মৃত্যুতে সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা মহানগর আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ সমিতি, বাংলাদেশ সোসাইটি, দৈনিক রুপালি বাংলাদেশ, ফোবানা, বাংলাদেশ গ্রীন ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সিলেট চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি, দৈনিক আমাদের প্রতিদিন, বাংলাধারা শোক প্রকাশ করেছে। মরহুমার দুই মেয়ের পরিবারের চারজন কোরআনে হাফিজ৷ মৃত্যুকালে তিনি চার কন্যা, দুই পুত্র ও অসংখ্য নাতি-নাতনিসহ আত্মীয় স্বজন রেখে যান। শুক্রবার বিকালে কিসিমির মুসলিম সিমেট্রিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হন মুহিবুন নাহার।

ফোবানার ৩৯তম সম্মেলনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত

উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সংগঠন ‘ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অর্গানাইজেশনস ইন নর্থ আমেরিকা’ (ফোবানা) তাদের ৩৯তম সম্মেলনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে। আগামী ২৯, ৩০ ও ৩১ অগাস্ট কানাডার মন্ট্রিয়লের ডাউনটাউনের একটি হোটেলের বলরুমে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ফোবানার চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিক সম্মেলনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ফোবানার ৩৮ বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবারও প্রবাসে বাংলাদেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধ চিত্র তুলে ধরা হবে।বর্তমানে চারটি খণ্ডে বিভক্ত ফোবানার ঐক্য পুনরুদ্ধারের কোনো সম্ভাবনা আছে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব সময় ঐক্যের পক্ষে। যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করেও আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে প্রস্তুত। সবাই একমত যে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।’ ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, ‘সমগ্র উত্তর আমেরিকায় আমাদের প্রজন্মের সাফল্য আমাদের গর্বিত করে। তাদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিতে হবে এবং বাংলা সংস্কৃতি চর্চা ও সংরক্ষণে উৎসাহিত করতে হবে।’ এবারের আয়োজক সংগঠন ‘কানাডা-বাংলাদেশ সলিডারিটি’-এর সভাপতি ও ফোবানা সম্মেলনের আহ্বায়ক জিয়াউল হক জিয়া এবং সদস্য-সচিব ইকবাল কবির সম্মেলনের বিভিন্ন পর্ব নিয়ে আলোচনা করেন। প্রথম দিন থাকবে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও গালা সন্ধ্যা। দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হবে- ব্যবসায় উন্নয়ন সেমিনার, নারী ক্ষমতায়ন সেমিনার, অভিবাসন ও নাগরিক সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার, প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশ সংক্রান্ত আলোচনা, তরুণদের জন্য বিশেষ সেমিনার ও কাব্য জলসা। এছাড়া, বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকার শিল্পীদের অংশগ্রহণে নৃত্য, গান, আবৃত্তি ও গীতিআলেখ্যসহ মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের শেষ দিন ফোবানার নির্বাহী কমিটির সভা, নতুন কমিটি নির্বাচন এবং ৪০তম ফোবানার আয়োজক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি দেশ ও প্রবাসের শিল্পীদের পরিবেশনায় বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন থাকবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে আরও অংশ নেন ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান বেদারুল ইসলাম বাবলা, জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম কলিন্স, আব্দুল কাদের চৌধুরী শাহীন, আয়োজক কমিটির কোষাধ্যক্ষ বজলুর রশীদ ব্যাপারি ও উপদেষ্টা কামাল চৌধুরী।

নিউইয়র্কে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অষ্টম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় পালিত হয়েছে সাবেক মন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার, রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অষ্টম মৃত্যু বার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন চাইনিজ পার্টি হলে স্মরণ সভার আয়োজন করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি তোফায়েল চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজনীতিবিদ ডক্টর দিলীপ নাথ। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি পরিষদের সভাপতি রুহেল চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুব্রত তালুকদারের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন আজমল, সাংবাদিক সিতাংশু গুহ, কবি ফকির ইলিয়াস, টেক্সাস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রহিম নেহাল, টাইম টেলিভিশনের সিইও আবু তাহের, সাংবাদিক মাহবুব রহমান, পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজের পরিচালক দেবাশীষ দে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার হোসেন, দিলীপ দে, ঝিলাম চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বায়ক কাজল মাহমুদ, সঙ্গীত শিল্পী বাপ্পি সোম, ফোবানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম কলিন্স, ফারহানা ইলিয়াস তুলি, গৌতম দে, নুপুর দে, বিজু পুরকায়স্থ, বিপ্লব পাল, অমিত জী বাণিয়া, বাবুল চন্দ, জাকির চৌধুরী, সুমন মাহমুদ, তৌকির হোসেন। সভায় বক্তারা জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের আদর্শিক রাজনীতিকে অনুসরণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, ‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সারা জীবন সাম্য ও মানবতার জয় গান গেয়েছেন। তিনি কোন দিন আদর্শিক রাজনীতি থেকে বিচ্যুত হননি। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছেন। বাংলাদেশের আজকের এই ক্রান্তিলগ্নে একজন দেশপ্রেমিক সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের খুবই অভাব। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদদেরকে দিয়ে দেশ পরিচালনা করাতে হবে।’

কামাল মনসুরের মৃত্যুতে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের উদ্যোগে শোক সভা অনুষ্ঠিত

মৌলভীবাজার জেলা সদরের কচুয়া আল মনসুর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ফাউন্ডার্স ট্রাস্টি ও গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের বাংলাদেশ টিমের সংগঠনিক সম্পাদক, ক্রিকেট প্লেয়ার এসোসিয়েশন ইউ সিক্সের উপদেষ্টা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোহাম্মদ কামাল মনসুরে মৃত্যুতে ভার্চুয়ালি শোক সভা ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের উদ্যোগে রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ শোক সভা ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে লন্ডন ছাড়াও বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কামাল মনসুরের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা ও অংশ নেন। গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের কো- কনভেনর মাসুদ আহমদের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ সায়েম করিমের পরিচালনায় সভায় মোহাম্মদ কামাল মনসুরের মৃত‍্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করে তার কর্মময় জীবন নিয়ে বক্তব্য দেন গ্রেটার সিলেটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল কাইউম কয়ছর, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় যুগ্ম কনভেনর হাবিবুর রহমান রানা, ট্রেজারার আশরাফ আহমেদ, সংগঠনের সাউথ ইস্ট রিজিওনাল কনভেনর হারুনুর রশীদ, কো কনভেনর জামাল হোসেন, যুগ্ম কনভেনর শিপার রেজাউল করিম, সদস্য সচিব মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সাউথ শিল্ডের সদস্য সচিব সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম, শাহ শাফি কাদির, কদর উদ্দিন, শেখ নুরুল ইসলাম, শিপন আহমেদ, সৈয়দ জিয়াউল হক, আব্দুর রুউফ তালুকদার, সেবুল আহমেদ, মইনুল ইসলাম আব্দুর রহিম রঞ্জু। সভায় দোয়া পরিচালনা করেন নর্থ টাইন সাইড বাংলাদেশী কমিউনিটি সেন্টার জামে মসজিদের খতীব হাফিজ মাওলানা সাদিক আহমদ। সভায় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ মতব্বির মনসুর, সৈয়দ জাহেদ আহমেদ, আকলাকুল আলম সেবু, মোহাম্মদ কয়েছ মনসুর, মো. শহীদুল ইসলাম, আয়াছুল করিম, মোহাম্মদ বদরুল মনসুর, ময়নুর ইসলাম, সাদ উদ্দিন, হাছাদ মিয়া, ফারছু মিয়া, মোহাম্মদ ফয়ছল মনসুর, এমাদ উদ্দিন, সরোয়ার চৌধুরী ও সামাদ উদ্দিন।

প্যারিসে ফুলতলী কিবলাহ ও হবিবুর রহমানের ঈসালে সওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত

ফ্রান্সের প্যারিসের ওভারভিলা বাংলাদেশী জামে মসজিদে আঞ্জুমানে আল ইসলাহ ফ্রান্স শাখার আয়োজনে আল্লামা ফুলতলী কিবলাহ (রহ) ও উস্তাদুল মুহাদ্দিসীন আল্লামা হবিবুর রহমানের (রহ) ঈসালে সওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শাহজালাল ম্যানচেস্টার ইউকে জামে মসজিদের খতিব ও আনজুমানে আল ইসলাহ যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা খায়রুল হুদা খাঁন। তিনি ফুলতলী কিবলাহর (রহ) জীবনীর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। খায়রুল হুদা বলেন, ‘ফুলতলী (রহ) একজন মকবুল ওলী ছিলেন। তার কুরআনের সবচেয়ে বড় খেদমত রয়েছে। দারুল কেরাত হচ্ছে সবচেয়ে মকবুল খেদমত। ফুলতলী কিবলাহ (রহ) শুধু রাইসুল কোররা ছিলেন না, ছিলেন শায়খুল হাদীস। বিশ্বজুড়ে তার বিভিন্ন ইসলামী খেদমত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘কবর জিয়ারত করা রাসূলের (সা.) সুন্নাত। রাসূলের (সা.) মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, উস্তাদদের কবর জিয়ারত করতে ও তাদের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করতে বলেছেন। ঈসালে সওয়াব মাহফিল হচ্ছে দোয়ার মাহফিল, এখানে আমরা আমাদের সিলসিলাহর বুজুর্গদের পরপারে পাড়ি দিয়েছেন তাদের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করি এবং তাদের দরজা বুলন্দের জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি। আপনারা দেখেছেন ফুলতলীতে প্রতি বছর ১৫ জানুয়ারি কিভাবে ঈসালে সওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এখানে মাজারে সিজদা করা বা ভন্ডামীদের কোন স্থান নেই।’ তিনি মাহফিলে ইসলামের বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক আলোচনা পেশ করেন। আলোচনা শেষে মিলাদ শরীফ ও সকলের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। আনজুমানে আল ইসলাহ ফ্রান্স শাখার সভাপতি মাওলানা মাসুক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে কালামে পাক থেকে তিলাওয়াত করেন শাহ আবুল হাসান, শানে ফুলতলী পরিবেশন করেন কারী রুবেল আহমেদ ও নাতে রাসুল (সা.) পরিবেশন করেন আবু সাঈদ। ফ্রান্স আঞ্জুমানে আল ইসলাহর সাধারণ সম্পাদক কাজী মুহিত আহমেদের পরিচালনায় মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্স আল ইসলাহ শাখার উপদেষ্টা কারী মিজা শফিকুর রহমান, ওভারভিলা জামে মসজিদের খাদেম চৌধুরী সালেহ আহমদ, গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি ফয়সল উদ্দিন, মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, মাওলানা মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক আনসারী, হাফিজ জিল্লুর রহমান।

রাইজ আপ নিউইয়র্ক সিটির অনুষ্ঠানে কমিউনিটির কল্যাণের অঙ্গিকার নিউইয়র্কের মেয়র প্রার্থীদের

‘রাইজ আপ নিউইয়র্ক সিটির উদ্যোগে শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জ্যাকসন হাইটসের গুলশান টেরেস মিলনায়তনে নিউইয়র্ক সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের এজেন্ডা নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মূলধারায় জোরালো সম্পর্কের মধ্য দিয়ে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা আদায়ে এ ধরনের সম্মেলনের গুরুত্ব অপরিসীম বলে সিটি মেয়র, সিটি কম্পট্রোলার, পাবলিক এডভোকেট ও কাউন্সিলম্যান প্রার্থীরা উল্লেখ করেছেন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মো. শামসুল হকের উপস্থাপনায় মার্কিন রাজনীতিতে প্রবাসীদের অন্যতম পথিকৃত গিয়াস আহমেদ বলেন, ‘২০ বছর আগে আমি নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। তাই, আমি জানি মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা কতটা জরুরী। কারণ, রাজনীতি ও প্রশাসনের পরতে পরতে অভিবাসন আর মুসলিম বিদ্বেষীরা দিন-রাত আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এ জন্যই আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; যাতে রাজনীতি ও প্রশাসনের সকলের বোধোদয় ঘটে যে আমরাও একটি অবস্থানে আছি। সব নির্বাচনে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে আরো যত্নসহকারে।’ গিয়াস আহমেদ উল্লেখ করেন, ২০ বছর আগে কোথাও কোন প্রবাসী ছিলেন না। এমনকি কমিউনিটি বোর্ডেও দেখিনি। ‘আর এখন অনেক সিটির মেয়র, কাউন্সিলম্যান, স্টেট সিনেটর, স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ রয়েছে আমাদের কমিউনিটির। অন্তত: ৫০ জন কমিউনিটি বোর্ডের মেম্বার ছাড়াও জজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিতরা আছেন। অর্থাৎ দিন বদলের সাথে সাথে মার্কিন রাজনীতিতে সম্পৃক্ততাও বেড়ে চলছে।’ সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-২৫ থেকে রিপাবলিকান পার্টির নমিনেশনের লড়াইয়ে অবতীর্ণ শাহ শহীদুল হক সাঈদ বলেছেন, ‘আমরা অন্য কমিউনিটি ও ভাষার মানুষের জন্যে নির্বাচনী তহবিল গঠন করি। ওদেরকে ভোট দিয়ে সিনেট-কংগ্রেস-সিটি কাউন্সিলে পাঠাচিছ। এভাবে আর চলতে পারে না। এখোন নিজেদেরকেই ঐসব আসনে জিততে হবে। এ জন্য দরকার ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং সংগঠিত হলেই জ্যাকসন হাইটসের মত বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকার নিরাপত্তা সুসংহত করা সম্ভব হবে। তার ফলে কমিউনিটি এগিয়ে চলার পথও বিস্তৃত হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সাম্প্রতিক গাজা ইস্যুতে কেউ সেভাবে কথা বলেননি। আমাদের কমিউনিটির গিয়াস আহমেদ সর্বপ্রথম স্লোগান উঠিয়েছেন ‘মুসলিম ভোটার্স ম্যাটার’। তিনি সোচ্চার রয়েছেন গাজায় যুদ্ধ-বিরতি দাবিতে। অন্য যাদের জন্যে আমরা তহবিল গঠন করেছি তারা ভোট শেষে কোন উচ্চবাচ্য করেননি ফিলিস্তিনিদের পক্ষে।’ ‘প্রবাস-বন্ধু’ ও ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এটর্নী মঈন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যদি আলোচনার টেবিলে বসতে না পারি তাহলে কেউই আমাদের সমস্যা নিয়ে সরব হবেন না। আমি ২০১৬ সাল থেকে ডিস্ট্রিক্ট লিডারশিপে আছি, আমি সব সময় চেষ্টা করি কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুসমূহ রাজনীতি ও প্রশাসনের সামনে উপস্থাপনের জন্য। যারা সুপ্রিম কোর্টে জজ হিসেবে প্রার্থী হোন তাদের মনোনয়ন আমাকে দিতে হয়। এভাবেই আমরা কম্যুনিটির গুরুত্ব মার্কিন ধারায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’ আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার এসোসিয়েশনের পরিচালক মঈন চৌধুরী আরো বলেন, ‘আমরা শুধু সিটি কাউন্সিলের মেম্বার অথবা স্টেট এ্যাসেম্বলীম্যান কিংবা সিনেটর-মেয়র হলেই বুঝি যে লিডার হয়েছি। অথচ বহুাজাতিক এ সমাজে সব ক্ষেত্রেই লিডার হবার সুযোগ রয়েছে এবং সে সবের গুরুত্বও আছে। আমি সব সময় ভালো কাজের সাথে আছি। ভবিষ্যতেও পাশে থাকবো।’ কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার শাহনেওয়াজ বলেন এই সিটির স্বল্প ও মাঝারি আয়ের কর্মচারিদের নিদারুন কষ্টের কথা। ‘বাসা ভাড়াসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সাথে সঙ্গতি রেখে বেতন-ভাতা বাড়ানো হচ্ছে না। একই অবস্থা অন্য পেশার লোকজনেরও। সিটি প্রশাসনকে এ ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তাকে আরো গুরুত্ব দেয়াও জরুরি।’ বাংলাদেশী আমেরিকান এডভোকেসি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে হবে এবং কেন্দ্রে যেতে হবে। তাহলেই কমিউনিটির গুরুত্ব বাড়বে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের ন্যায্য হিস্যা নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হবে না।’ সিটি মেয়র পদে ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নের দৌড়ে অবতীর্ণ একমাত্র মুসলিম প্রার্থী যোহরান মামদানি বলেন, ‘৩০ বছর ধরে এই সিটিতে বাস করছি। আমি জানি, অভিবাসীদের স্বপ্নের পরিধি কত বিস্তৃত। এই সিটির ৫ বরোর অভিবাসীদের একই স্বপ্ন। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে, সেই স্বপ্নগুলোর কথা স্মরণ করতেও কষ্ট হচ্ছে। কীভাবে এই সিটিতে নিরাপদে বসবাসের উপযোগী একটি পরিবেশ তৈরী করা যাবে-সেটিও অসম্ভব হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক স্টেট এ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ থেকে ডেমক্র্যাটিক পার্টির এ্যাসেম্বলীম্যান যোহরান ইতিমধ্যেই খেটে খাওয়া অভিবাসীদের সব আন্দোলনে সরব রয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছেন শুরু থেকেই। ট্যাক্সি ড্রাইভারদের দাবি আদায়ের আন্দোলনের সময় অনশন করেছেন। গ্রেফতারও হয়েছিলেন অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষার আন্দোলনের সময়। এভাবেই নিজেকে বাংলাদেশীদের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে পরিগণিত করতেও সক্ষম হয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই সিটির অধিবাসিরা প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় থাকেন কীভাবে বাসা ভাড়া কিংবা মর্টগেজ পরিশোধ করবেন, কোত্থেকে সংগৃহিত হবে কনএডিসন অথবা পানির বিল। এমনকি সাবওয়ে/বাসের টিকিটের অর্থ নিয়েও অনেকে দুশ্চিন্তায় থাকেন। কারণ, যা আয় হচ্ছে তার পুরোটাই ব্যয় হয় খাদ্য-সামগ্রি ক্রয়ে। কেন হয়েছে এমন অসহনীয় পরিস্থিতি? কে দায়ী এ জন্য? এসবের জবাব খুঁজতে হবে এব্ং সে অনুযায়ী সামনের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।’ যোহরান বলেন, ‘এই সিটিতে কারোরই নিরাপত্তা নেই। সকলেই সন্ত্রস্ত। নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে সকলের সুচিন্তিত মতামতের ভিত্তিতে।’ মেয়র প্রার্থী ব্র্যাড লেন্ডার নিজেকে বাংলাদেশী লিডার হিসেবে দাবি করে বলেন, ‘ব্রুকলীনের চাচ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকা থেকে ২০১০ সালে সর্বপ্রথম আমি সিটির কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হয়েছি সেখানকার বাংলাদেশীদের অকুন্ঠ সমর্থনে। এরপর আমি ২০২১ সাল পর্যন্ত একই আসনে বিজয়ী হয়েছি। এরপর আমার আসনটি ছেড়ে দিয়েছি বাংলাদেশী আমেরিকন শাহানা হানিফের সমর্থনে। শাহানা হয়েছেন এই সিটির প্রথম বাংলাশেী এবং প্রথম নারী কাউন্সিলম্যান। ২০২১ সালের নির্বাচনে আমি বিজয়ী হয়েছি সিটি কম্পট্রোলার পদে। চার বছরের দায়িত্ব শেষে লড়ছে মেয়র পদে। ডেমক্র্যাটিক পার্র্টির মেয়র হিসেবে বিজয়ী হতে পারলে এই সিটির অভিবাসী সমাজের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কাউকে টানাটানি করতে দেব না। ব্র্যাড লেন্ডার বলেন, আমি হচ্ছি নিউইয়র্ক সিটির সর্বোচ্চ পর্যায়ে জুইশ কম্যুনিটির একজন। সে আলোকে সকল কম্যুনিটির স্বার্থকে আমি বরাবরই প্রাধান্য দিয়ে আসছি। শুধু তাই নয় নিউইয়র্ক স্টেটে আমিই প্রথম জুইশ লিডার, যিনি গাজায় যুদ্ধ বিরতির আন্দোলনে সরব ছিলাম।’ প্রধান শামসুল হক স্বাগত বক্তব্যে তথ্য-উপাত্তের আলোকে উল্লেখ করেন যে, আমেরিকায় বাঙালিদের আগমণ শুরু হয়েছে ১৮৮৭ সালে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর আগমণের হার ক্রমান্বয়ে বাড়তে বাড়তে এখোন বিশেষ একটি পরিচিতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশীরা। তবে সংখ্যার অনুপাতে মার্কিন রাজনীতি ও প্রশাসনে যেভাবে ঠাঁই পাওয়া উচিত ছিল তা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। সেই সংকট কাটিয়ে উঠার অভিপ্রায়ে ‘রাইজ আপ নিউইয়র্ক সিটি’ কাজ করছে। আজকের এ আয়োজনে অনেক ভাল লাগছে। নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রার্থীর সমাগম ঘটায় আশা করছি কম্যুনিটি আরো উজ্জীবিত হবে। এতে প্রার্থীগণের মধ্যে আরো ছিলেন হায়রাম মনসেরাত, জেনিফার রাজকুমার, ইসমাইল মালাভি, মাইকেল ব্ল্যাক, জাস্টিন ব্র্যানন, মার্ক লেভিন, জুমানি উইলিয়ামস, স্টেট সিনেটর জন ল্যু প্রমুখ। কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, প্রচার সম্পাদক অনিক রাজ, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বদরুন নাহার মিতা, হোমকেয়ার ব্যবসায়ী আকাশ রহমান, খোরশেদ খন্দকার, অজিৎ ভৌমিক, এনওয়াইপিডির কর্মকর্তা জামিল সরোয়ার জনি, ডিটেকটিভ মাসুদ প্রমুখ।

ব্রঙ্কসে বাংলা ক্লাব নিউইয়র্ক ইউএসএর পিঠা উৎসব

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা ক্লাব নিউইয়র্ক ইউএসএর পিঠা উৎসব শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার ঐতিহ্যবাহী পিঠার সমন্বয় ঘটিয়ে ব্রঙ্কসের বারী পার্টি সেন্টারে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের গ্রাম বাংলার সংষ্কৃতির পিঠা উৎসবটি পরিণত হয় বাঙালিদের মিলন মেলায়। উচ্চারিত হয় বাঙালি সংস্কৃতির জয় গান। উৎসবে বিভিন্ন স্বাদের দেশীয় ঐতিহ্যবাহী মুখরোচক পিঠার প্রাচুর্য দেখা যায়। দেশীয় সাজে সজ্জিত হয়ে বাংলা ক্লাব পরিবার হাতে তৈরি বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা আকৃতি, নানা স্বাদ আর রঙের পিঠা নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। উৎসবে বাসায় তৈরি পিঠা আনার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন যেন আয়োজকরা। আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার ঐতিহ্যবাহী সব পিঠাই তাদের এ উৎসবে ছিল। ভাপা পিঠা, পাটিশাপটা পিঠা, চিতুই পিঠা, জিলাপী পিঠা, রসভরা পিঠা, পুলি পিঠা, নক্সি পিঠা, কলা পিঠা, ফুলঝুরি পিঠা, ভালবাসার পিঠা, বুলশা, বিবিখানা, তেলেপিঠা, চানার সন্দেষ, গজাগজা, পাকুনপিঠা, মাংশেরপিঠা, নারিকেল পুলি, নিমকি, চুপতি পিঠা, ঝালপিঠা, সাবুদানার, ডালপুরি, ডালপাকনসহ হরেক রকম মজার মজার পিঠার মৌ মৌ সুবাসে চারদিক ভরপুর করে রাখে। সারি সারি পিঠার এ উৎসব ক্ষনিকের জন্য হলেও বাংলাদেশের শীতকালীন দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয় প্রবাসীদের। নস্টালজিক অনুভুতি কিছঝুটা হলেও নিউইয়র্কের বাঙালিরা অনুভব করেছে। এসব পিঠা সকলের জন্যে ছিল ফ্রী। গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান উপভোগ করেন অতিথিরা। উৎসবে যোগ দেয়া হল ভর্তি অতিথিদের তৃপ্তি মিটিয়েও পিঠার বিপুল ভান্ডার থেকে যায় অনুষ্ঠান শেষে। অনেকে বাড়ি নিয়ে যান স্বাদের সেসব পিঠা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। সংগঠনের সভাপতি আবুল কালাম পিনুর সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সহ সভাপতি মো. মমিনুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সারাহ কেয়ারের পরিচালক মোহাম্মদ এ খালেক ও পরিচালক রেদওয়ানা রাজ্জাক, বাংলাদেশ সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভুইয়া রুমি। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সোনার বলাই, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট মাঈন উদ্দিন নটু, লিপি আক্তার। অনুষ্ঠানে কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বাংলা ক্লাব ইউএসএর সদস্যরা স্বপরিবারে অংশ নেন। মহিলা ও নতুন প্রজন্মের উপস্থিতিতে এটি পরিণত হয় ক্লাব সদস্যদের মিলন মেলায়। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রধান অতিথি আতাউর রহমান সেলিম অন্যান্য অতিথিসহ বাংলা ক্লাব নিউইয়র্ক ইউএসএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে গান করেন সঙ্গীত শিল্পী রৌশন আরা কাজল, রোজী সামাদ। দর্শকরা প্রাণভরে উপভোগ করেন মনোজ্ঞ এ আয়োজন। অনুষ্ঠানে আবুল কালাম পিনু, মো. মমিনুল ইসলাম ও দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এখানে জন্ম নেয়া ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালি সংস্কৃতিকে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। সকলের আন্তরিক সহযোগিতার এই আয়োজন সফল হয়েছে।’ তারা এ আয়োজনে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সংগঠনকে আরো এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। অথিতিরা মনোমুগ্ধকর এ আয়োজনের জন্য আয়োজকদের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, ‘প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে দেশের সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করাতে বাংলা ক্লাবের এ আয়োজন অসাধারণ ছিল।’

রাইজ আপ নিউইয়র্ক সিটির আয়োজনে কমিউনিটির কল্যাণের অঙ্গিকার নিউইয়র্ক সিটির মেয়র প্রার্থীদের

‘রাইজ আপ নিউইয়র্ক সিটির ব্যানারে শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জ্যাকসন হাইটসের গুলশান টেরেস মিলনায়তনে নিউইয়র্ক সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের এজেন্ডা নিয়ে খোলামেলা আলোচনার মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে পছন্দের প্রার্থী বাছাইয়ের পথ সুগমের সমাবেশ হয়েছে। এটি ছিল এ ধরনের দ্বিতীয় সম্মেলন। মূলধারায় জোরালো সম্পর্কের মধ্য দিয়ে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা আদায়ে এ ধরনের সমাবেশের গুরুত্ব অপরিসীম বলে সিটি মেয়র, সিটি কম্পট্রোলার, পাবলিক এডভোকেট ও কাউন্সিলম্যান প্রার্থীরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মো. শামসুল হকের উপস্থাপনায় মার্কিন রাজনীতিতে প্রবাসীদের অন্যতম পথিকৃত গিয়াস আহমেদ বলেন, ‘২০ বছর আগে আমি নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। তাই, আমি জানি মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা কতটা জরুরী। কারণ, রাজনীতি ও প্রশাসনের পরতে পরতে অভিবাসন আর মুসলিম বিদ্বেষীরা দিন-রাত আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এ জন্যই আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; যাতে রাজনীতি ও প্রশাসনের সকলের বোধোদয় ঘটে যে আমরাও একটি অবস্থানে আছি। সব নির্বাচনে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে আরো যত্নসহকারে।’ গিয়াস আহমেদ উল্লেখ করেন, ২০ বছর আগে কোথাও কোন প্রবাসী ছিলেন না। এমনকি কমিউনিটি বোর্ডেও দেখিনি। ‘আর এখন অনেক সিটির মেয়র, কাউন্সিলম্যান, স্টেট সিনেটর, স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ রয়েছে আমাদের কমিউনিটির। অন্তত: ৫০ জন কমিউনিটি বোর্ডের মেম্বার ছাড়াও জজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিতরা আছেন। অর্থাৎ দিন বদলের সাথে সাথে মার্কিন রাজনীতিতে সম্পৃক্ততাও বেড়ে চলছে।’ সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-২৫ থেকে রিপাবলিকান পার্টির নমিনেশনের লড়াইয়ে অবতীর্ণ শাহ শহীদুল হক সাঈদ বলেছেন, ‘আমরা অন্য কমিউনিটি ও ভাষার মানুষের জন্যে নির্বাচনী তহবিল গঠন করি। ওদেরকে ভোট দিয়ে সিনেট-কংগ্রেস-সিটি কাউন্সিলে পাঠাচিছ। এভাবে আর চলতে পারে না। এখোন নিজেদেরকেই ঐসব আসনে জিততে হবে। এ জন্য দরকার ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং সংগঠিত হলেই জ্যাকসন হাইটসের মত বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকার নিরাপত্তা সুসংহত করা সম্ভব হবে। তার ফলে কমিউনিটি এগিয়ে চলার পথও বিস্তৃত হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সাম্প্রতিক গাজা ইস্যুতে কেউ সেভাবে কথা বলেননি। আমাদের কমিউনিটির গিয়াস আহমেদ সর্বপ্রথম স্লোগান উঠিয়েছেন ‘মুসলিম ভোটার্স ম্যাটার’। তিনি সোচ্চার রয়েছেন গাজায় যুদ্ধ-বিরতি দাবিতে। অন্য যাদের জন্যে আমরা তহবিল গঠন করেছি তারা ভোট শেষে কোন উচ্চবাচ্য করেননি ফিলিস্তিনিদের পক্ষে।’ ‘প্রবাস-বন্ধু’ ও ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এটর্নী মঈন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যদি আলোচনার টেবিলে বসতে না পারি তাহলে কেউই আমাদের সমস্যা নিয়ে সরব হবেন না। আমি ২০১৬ সাল থেকে ডিস্ট্রিক্ট লিডারশিপে আছি, আমি সব সময় চেষ্টা করি কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুসমূহ রাজনীতি ও প্রশাসনের সামনে উপস্থাপনের জন্য। যারা সুপ্রিম কোর্টে জজ হিসেবে প্রার্থী হোন তাদের মনোনয়ন আমাকে দিতে হয়। এভাবেই আমরা কম্যুনিটির গুরুত্ব মার্কিন ধারায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’ আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার এসোসিয়েশনের পরিচালক মঈন চৌধুরী আরো বলেন, ‘আমরা শুধু সিটি কাউন্সিলের মেম্বার অথবা স্টেট এ্যাসেম্বলীম্যান কিংবা সিনেটর-মেয়র হলেই বুঝি যে লিডার হয়েছি। অথচ বহুাজাতিক এ সমাজে সব ক্ষেত্রেই লিডার হবার সুযোগ রয়েছে এবং সে সবের গুরুত্বও আছে। আমি সব সময় ভালো কাজের সাথে আছি। ভবিষ্যতেও পাশে থাকবো।’ কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার শাহনেওয়াজ বলেন এই সিটির স্বল্প ও মাঝারি আয়ের কর্মচারিদের নিদারুন কষ্টের কথা। ‘বাসা ভাড়াসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সাথে সঙ্গতি রেখে বেতন-ভাতা বাড়ানো হচ্ছে না। একই অবস্থা অন্য পেশার লোকজনেরও। সিটি প্রশাসনকে এ ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তাকে আরো গুরুত্ব দেয়াও জরুরি।’ বাংলাদেশী আমেরিকান এডভোকেসি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে হবে এবং কেন্দ্রে যেতে হবে। তাহলেই কমিউনিটির গুরুত্ব বাড়বে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের ন্যায্য হিস্যা নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হবে না।’ সিটি মেয়র পদে ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নের দৌড়ে অবতীর্ণ একমাত্র মুসলিম প্রার্থী যোহরান মামদানি বলেন, ‘৩০ বছর ধরে এই সিটিতে বাস করছি। আমি জানি, অভিবাসীদের স্বপ্নের পরিধি কত বিস্তৃত। এই সিটির ৫ বরোর অভিবাসীদের একই স্বপ্ন। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে, সেই স্বপ্নগুলোর কথা স্মরণ করতেও কষ্ট হচ্ছে। কীভাবে এই সিটিতে নিরাপদে বসবাসের উপযোগী একটি পরিবেশ তৈরী করা যাবে-সেটিও অসম্ভব হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক স্টেট এ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট-৩৬ থেকে ডেমক্র্যাটিক পার্টির এ্যাসেম্বলীম্যান যোহরান ইতিমধ্যেই খেটে খাওয়া অভিবাসীদের সব আন্দোলনে সরব রয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছেন শুরু থেকেই। ট্যাক্সি ড্রাইভারদের দাবি আদায়ের আন্দোলনের সময় অনশন করেছেন। গ্রেফতারও হয়েছিলেন অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষার আন্দোলনের সময়। এভাবেই নিজেকে বাংলাদেশীদের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে পরিগণিত করতেও সক্ষম হয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই সিটির অধিবাসিরা প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় থাকেন কীভাবে বাসা ভাড়া কিংবা মর্টগেজ পরিশোধ করবেন, কোত্থেকে সংগৃহিত হবে কনএডিসন অথবা পানির বিল। এমনকি সাবওয়ে/বাসের টিকিটের অর্থ নিয়েও অনেকে দুশ্চিন্তায় থাকেন। কারণ, যা আয় হচ্ছে তার পুরোটাই ব্যয় হয় খাদ্য-সামগ্রি ক্রয়ে। কেন হয়েছে এমন অসহনীয় পরিস্থিতি? কে দায়ী এ জন্য? এসবের জবাব খুঁজতে হবে এব্ং সে অনুযায়ী সামনের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।’ যোহরান বলেন, ‘এই সিটিতে কারোরই নিরাপত্তা নেই। সকলেই সন্ত্রস্ত। নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে সকলের সুচিন্তিত মতামতের ভিত্তিতে।’ মেয়র প্রার্থী ব্র্যাড লেন্ডার নিজেকে বাংলাদেশী লিডার হিসেবে দাবি করে বলেন, ‘ব্রুকলীনের চাচ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকা থেকে ২০১০ সালে সর্বপ্রথম আমি সিটির কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হয়েছি সেখানকার বাংলাদেশীদের অকুন্ঠ সমর্থনে। এরপর আমি ২০২১ সাল পর্যন্ত একই আসনে বিজয়ী হয়েছি। এরপর আমার আসনটি ছেড়ে দিয়েছি বাংলাদেশী আমেরিকন শাহানা হানিফের সমর্থনে। শাহানা হয়েছেন এই সিটির প্রথম বাংলাশেী এবং প্রথম নারী কাউন্সিলম্যান। ২০২১ সালের নির্বাচনে আমি বিজয়ী হয়েছি সিটি কম্পট্রোলার পদে। চার বছরের দায়িত্ব শেষে লড়ছে মেয়র পদে। ডেমক্র্যাটিক পার্র্টির মেয়র হিসেবে বিজয়ী হতে পারলে এই সিটির অভিবাসী সমাজের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কাউকে টানাটানি করতে দেব না। ব্র্যাড লেন্ডার বলেন, আমি হচ্ছি নিউইয়র্ক সিটির সর্বোচ্চ পর্যায়ে জুইশ কম্যুনিটির একজন। সে আলোকে সকল কম্যুনিটির স্বার্থকে আমি বরাবরই প্রাধান্য দিয়ে আসছি। শুধু তাই নয় নিউইয়র্ক স্টেটে আমিই প্রথম জুইশ লিডার, যিনি গাজায় যুদ্ধ বিরতির আন্দোলনে সরব ছিলাম।’ প্রধান শামসুল হক স্বাগত বক্তব্যে তথ্য-উপাত্তের আলোকে উল্লেখ করেন যে, আমেরিকায় বাঙালিদের আগমণ শুরু হয়েছে ১৮৮৭ সালে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর আগমণের হার ক্রমান্বয়ে বাড়তে বাড়তে এখোন বিশেষ একটি পরিচিতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশীরা। তবে সংখ্যার অনুপাতে মার্কিন রাজনীতি ও প্রশাসনে যেভাবে ঠাঁই পাওয়া উচিত ছিল তা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। সেই সংকট কাটিয়ে উঠার অভিপ্রায়ে ‘রাইজ আপ নিউইয়র্ক সিটি’ কাজ করছে। আজকের এ আয়োজনে অনেক ভাল লাগছে। নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রার্থীর সমাগম ঘটায় আশা করছি কম্যুনিটি আরো উজ্জীবিত হবে। এতে প্রার্থীগণের মধ্যে আরো ছিলেন হায়রাম মনসেরাত, জেনিফার রাজকুমার, ইসমাইল মালাভি, মাইকেল ব্ল্যাক, জাস্টিন ব্র্যানন, মার্ক লেভিন, জুমানি উইলিয়ামস, স্টেট সিনেটর জন ল্যু প্রমুখ। কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, প্রচার সম্পাদক অনিক রাজ, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বদরুন নাহার মিতা, হোমকেয়ার ব্যবসায়ী আকাশ রহমান, খোরশেদ খন্দকার, অজিৎ ভৌমিক, এনওয়াইপিডির কর্মকর্তা জামিল সরোয়ার জনি, ডিটেকটিভ মাসুদ প্রমুখ।

ইতালিতে প্রবাসীদের খিচুড়ি পার্টির আয়োজন

ইতালি: ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের একত্রিত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি আয়োজিত হলো এক বিশেষ খিচুড়ি পার্টি। এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝে একটুখানি স্বস্তি এবং দেশীয় সংস্কৃতির স্বাদ ফিরিয়ে আনা।বিএনপি নেতা শিকদার মোহাম্মদ কায়েস এর উদ্যোগে খিচুড়ি পার্টিটি আয়োজন করা হয় ভিচেন্সার আলতে এলাকায়।যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একসঙ্গে মিলিত হয়ে আনন্দঘন সময় কাটান। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ছুটির দিনে সন্ধ্যার পর পার্টির আয়োজন করা হয়। যাতে সবাই সহজেই অংশ নিতে পারেন।পার্টির মূল আকর্ষণ ছিল সুস্বাদু খিচুড়ি। যা পরিবেশন করা হয় বিভিন্ন স্বাদের সাথে। গরুর ও খাসির মাংস , ডিম ভুনা, বেগুন ভর্তা,বেগুন ভাজি, আলু ভর্তা, মাছ ভর্তা, টক দই ও পেঁয়াজ ভাজা, শুটকি ভর্তা, লেবুর শরবত ও চা।এই খিচুড়ি পার্টি শুধুমাত্র খাবার আয়োজনেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং এটি ছিল প্রবাসীদের এক মিলনমেলা। এই আয়োজনে বিভিন্ন পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজক শিকদার মোহাম্মদ কায়েস জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে প্রবাসীদের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন, কাজী সাত্তার, রফিকুল ইসলাম মান্না, ইমরান খান, জাফর আহমেদ, কামাল মাঝি, মাইনুদ্দিন প্রিন্স, জাকির খন্দকার, আব্দুল ওয়াহাব, মামুন খান, আব্দুল হালিম, নেহা দাস নয়ন, মোহাম্মদ পারভেজ, অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান, আফতাব উদ্দিন শাকিল, সাইফুল ইসলাম জুয়েল, শরিফুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, মির ইসমাইল, প্রমুখ বিএনপি নেতা কর্মী।

১৯ ও ২০ এপ্রিল নিউইয়র্কে রেমিট্যান্স ফেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দুই দিনের ‘চতুর্থ রেমিট্যান্স ফেয়ার ২০২৫’ ১৯ ও ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ফেয়ার আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরো বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করছে আয়োজক কমিটি। বাংলাদেশ-ইউএসএ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিইউসিসিআই) এবং ইউএসএ-বাংলা বিজনিস লিংক যৌথভাবে এ মেলার আয়োজক। এবারের মেলা নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জ্যাকসন হাইটে অনুষ্ঠিত হবে। সঙ্গে অর্থনীতিবিষয় বাংলাদেশের দুটি দৈনিক, বণিক বার্তা (বাংলা), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের (ইংরেজি) সঙ্গে টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর এবং নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল টিবিএন২৪ ও সাপ্তাহিক ‘ঠিকানা’ মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য হলো ‘লিগ্যাল রেমিট্যান্স, বেটার বাংলাদেশ’। বৈধ পথে আসা প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে যেমন দেশের রিজার্ভ স্থিতিশীল থাকবে, তেমনি উন্নয়েনযাত্রা থাকবে অব্যাহত। চতুর্থ রেমিট্যান্স ফেয়ার ২০২৫ উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ড. আহসান এইচ মনসুর। অনুষ্ঠানে করবেন সরকারী ও বেসরকারী খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং, অ্যাপ ডেভলোপার, মানি একচেঞ্জ ও বিভিন্ন চ্যানেল পার্টনার। মেলায় এসব প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবার প্রদর্শনীর পাশাপাশি এ নিয়ে বিভিন্ন সেমিনাল সিম্ফজিয়াম, কিউ অ্যন্ড এ সেশন এবং নেটওয়ার্কিং ডিনার অনুষ্ঠিত হবে। মেলা আয়োজক কমিটির রেমিট্যান্স ফেয়ার এবং অফশোর ব্যাংকিং নিয়ে একটি বিশেষ প্রকাশনাও রাখছে। যেখানে লিখছেন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, অধ্যাপক, ব্যাংকার। নেটওয়ার্কিং সেশনে অংশ নিবেন নিউইয়র্ক ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট এবং প্রধান প্রধান মানি একচেঞ্জ কোম্পানিগুলো। যার মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন ও রেমিট্যান্স খাতের সর্বশেষ উদ্ভাবনগুলো এখানে প্রদর্শিত হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, আগের আয়োজনগুলোতে দেশের বৃহৎ ব্যাংক, মানি একচেঞ্জ কোম্পানি, রেমিট্যান্স চ্যানেল পার্টনার অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঢাকা ব্যাংক পিএলসি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড পিএলসি, উত্তরা ব্যাংক পিএলসি ইত্যাদি। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত মেলায় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স সরবরাহকারী হিসেবে পুরস্কার পায় ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং ব্যাংক এশিয়া পিএলসি। এছাড়া সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পার্টনাল চ্যানেল হিসেবে পুরস্কার লাভ করে বিএ এক্সপ্রেস, সানম্যান এক্সপ্রেস এবং স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস। ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিতব্য রেমিট্যান্স ফেয়ারে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে দৈনিক ‘বণিক বার্তা’। অর্থনীতি নিয়ে বিশেষায়িত এ পত্রিকাটি রেমিট্যান্স ফেয়ার উপলক্ষ্যে বিশেষ ক্রোড়পত্র পকাশ করবে। অর্থনীতি বিষয়ক ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডও ও সাপ্তাহিক ‘ঠিকানা’ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এছাড়া একাত্তর টিভি ও নিউইয়র্ক ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল টিবিএন২৪ রেমিট্যান্স ফেয়ারের উপর বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশী-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশী-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের (বিএসিসি) ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ইয়াঙ্কার্সের নেহা প্যালেস পার্টি হলে ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আয়োজিত এ উৎসবে কমিউনিটির উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্য বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বাংলাদেশী-আমেরিকানদের অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। আয়োজনে পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ছিলো আকর্ষণীয় ফ্রি র‌্যাফেল ড্রও। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ও ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ড ৯’-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এন মজুমদারের সভাপতিত্বে ও ট্রাস্টি বোর্ড মেম্বার হারুন আলী, ভাইস প্রেসিডেন্ট নজরুল হক ও সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল গাফফার চৌধুরী খসরুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান শেলি মেয়ার, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর নাথালিয়া ফার্নান্দেজ, জর্জ লাটিমার, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান কেন জেনকিন্স, ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টি এক্সিকিউটিভ করাজন পিনেডা-আইজাক, ইয়ঙ্কার্স সিটি কাউন্সিল মেম্বার তাশা ডিয়াজ ও ভেরিস শাকো, অ্যাটর্নি এইচ ব্রুশ ফিশার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিটেক্টিব মাসুদ রহমান, আহাদ আলী, ক্যালেকা’স অটো রিপেয়ার অ্যান্ড বডি শপের প্রেসিডেন্ট জুলফিজার আকতার জুয়েল, জোসেফ সাইয়েঘ, মেডিক্যাল ছাত্র কাটোরি ওয়াকার, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট মৌরা রেইলি লাইট, ইভেন্ট সাপোর্টসি মিশেল শিভার্স। নতুন প্রজন্মসহ বিভিন্ন ভাষা-ভাষী মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক মিলন মেলায়। প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের মনমুগ্ধকর পরিবেশনা মাতিয়ে রাখে হল ভর্তি দর্শক শ্রোতাদের। শিল্পী তানভীর শাহীনসহ অন্যান্যরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। মোহাম্মদ এন মজুমদার ও আবদুল গাফফার চৌধুরী খসরু উৎসবে সংগঠনের নানা কার্যক্রম তুলে ধরেন। সব সময় তাদের সহযোগিতার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান তারা। মোহাম্মদ এন মজুমদার প্রবাসে জন্ম নেয়া ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সমন্বয়ে কমিউনিটির মূলধারায় ভূমিকা জোরদারে তাদের পথচলা অব্যহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘কমিউনিটির নানা ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ব্যক্তিদের পুরস্কার ও সম্মাননা দিতে পেরে আমরা গর্বিত।’

বাংলাদেশে হিন্দুদের সুরক্ষা: ব্রিটিশ হিন্দু প্রতিনিধিদলের সাথে সাক্ষাৎ যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীর

গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনায়, ব্রিটিশ হিন্দু প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে ধর্মীয় নিপীড়নের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ মোকাবেলায় ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্টের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। গত বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এ সাক্ষাৎপর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বিএইচএএসইউকের বিক্রম ব্যানার্জির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে সহিংসতা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বৈষম্যের প্রতিবেদন। পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ অফিসের বৈঠকে বিএইচএইউকের প্রশান্ত পুরকায়স্থ পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ করেন, যেখানে হিন্দু এইড ইউকের অজিত সাহা পরিস্থিতির সরাসরি রিপোর্ট করেন। ইনসাইট ইউকের প্রতিনিধিত্বকারী মিতেশ সেভানি ব্রিটেনের হিন্দু, শিখ ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাতীয় হিন্দু ছাত্র ফোরাম (এনএইচএসএফ ) থেকে শুচিস্মিতা মৈত্র যুব দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এনে ও শিক্ষাগত সংস্কারসহ মূল প্রস্তাবগুলি তুলে ধরেন। ক্যাথরিন ওয়েস্ট, যিনি পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন অফিসের সংসদীয় আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি সরকারে এই উদ্বেগগুলি এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলির প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের ক্ষেত্রে এই বৈঠকটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যেখানে ব্রিটিশ হিন্দু সংগঠনগুলি অ্যাডভোকেসি প্রচেষ্টায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

মেরিল্যান্ডে বিসিএর প্রথম বই উৎসব ২২ ফেব্রুয়ারি

আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ খ্রীষ্টান এসোসিয়েশন (ইনক) মেরিল্যান্ড মহান একুশে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সাথে বই উৎসবের আয়োজন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের রোসকো আর নিক্স এলিমেন্টারি স্কুলের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এবারের অনুষ্ঠানমালায় থাকছে অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ, একুশের গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও শিশু-কিশোরদের জন্য অংকন। একুশে উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক নিয়তি নির্মলা রেগো জানান, এই প্রথম একুশে অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে যাচ্ছে বই উৎসব। বই উৎসবে সার্বিক সহযোগিতায় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ফোরাম, মেট্রো ওয়াশিংটন। ফোরামের তত্ত্বাবধানে বইয়ের স্টলে থাকবে বাংলা বই। সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক লিমা কোরাইয়া ও মুক্তা মেবেল রোজারিও জানান, অনুষ্ঠানের শুরুতে থাকবে শহীদ মিনারে পুস্প অর্পণ, বাংলাদেশের পতাকা হাতে শিশুদের শোভাযাত্রা, মঞ্জুরি নৃত্যালয় ও সৃষ্টি নৃত্যাঙ্গনের পরিবেশনা, আবৃত্তি ও একুশের গান। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকবে খাবারের দোকান। শীতকালীন, পিঠা, চা, ভর্তা ও পায়েস থাকবে খাবারের দোকানে। মেলায় কোন প্রবেশ মূল্য থাকবেন না।

নিউইয়র্কে নড়াইল জেলা প্রবাসী ইউএসএর উৎসবমুখর পিঠা-পুলি উৎসব

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে নড়াইল জেলা প্রবাসী ইউএসএর শীতকালীন পিঠ-পুলি উৎসব। ইকরা পার্টি হলে রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) এ উৎসব। হাসি উচ্ছ্বাস, শুভেচ্ছা, অভিনন্দন এসবের মধ্য দিয়ে বসেছিল নড়াইল প্রবাসীদের মিলন মেলা। সংগঠনের আহ্বায়ক আবুল কাশেম আজম মামুনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল আলম, প্রধান সমন্বয়কারী সৈয়দ হাসমত আলী ও সদস্য সচিব নূর ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাজনীতিক আব্দুল লতিফ সম্রাট, মামুন’স টিউটোরিয়ালের অধ্যক্ষ শেখ আল মামুন, রাজনীতিক শরিফ কামরুল আলম হীরা, মো. সাইফুল ইসলাম, শাহনাজ মমতাজ আহাদ, লিয়াকত। অনুষ্ঠানের শুরুতে হয় পরিচিতি পর্ব। একে একে মঞ্চে এসে নিজেরা নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরেন। নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকা থেকে নড়াইল জেলা প্রবাসীরা উপস্থিত হতে থাকেন ইকরা পার্টি হলে। বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপন করে শীতকালীন এ উৎসব। বিকেল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলে এ উৎসব। ছিল হরেক রকমের পিঠা। শোভা পাচ্ছিল পাটিসাপ্টা, ভাপাপিঠা, তেলে পিঠা, চিতই পিঠা, চানার সন্দেষ, ঝাল পিঠা, পাকুন পিঠা, নিমকি, ডালপুরিসহ নাম না জানা নানা রকমের পিঠা। উৎসবে বাসায় তৈরি পিঠা আনার প্রতিযোগিতায় যেন মেতে ওঠেন আয়োজক ও তাদের বন্ধু-বান্ধবরা। পিঠার মৌ মৌ গন্ধে উৎসব প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক ভিন্ন আমেজের। আয়োজক ও তাদের বন্ধু-বান্ধবীদের হাতে তৈরি বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা আকৃতি, নানা স্বাদ আর রঙের এসব পিঠা অতিথিদের জন্যে ছিল ফ্রী। উৎসবে যোগ দেয়া হলভর্তি অতিথিদের তৃপ্তি মিটিয়েও থেকে যায় অনেক পিঠা। অনুষ্ঠানে শেষে অনেকে বাড়ি নিয়ে যান স্বাদের সেসব পিঠা। সব শেষে পরিবেশন করা হয় ডিনার। অনুষ্ঠানে বক্তারা এ ধরনের আয়োজনের প্রসংশা করে সংগঠনের নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘পিঠা উৎসব বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতির অংশ। এ ধরনের উৎসব আমাদের মন প্রাণ বাঙালিত্বের আমেজে ভরে দেয়। সুযোগ করে দেয় পারস্পারিক বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি, নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের কৃষ্টি-কালচারের সাথে পরিচিত হবার।’

নিউইয়র্কে একুশের বইমেলা: ৮৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি

‘শুদ্ধ শিল্পের নিবিড় চর্চা’ - এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত ১১ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে শিল্প-সাহিত্যের চর্চা করছে ঊনবাঙাল। সংগঠনটির স্বপ্নদ্রষ্টা কবি কাজী জহিরুল ইসলাম, যদিও তিনি সংগঠনের কোনো পোর্টফলিও ধারণ করেন না। ঊনবাঙালের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন মুক্তি জহির। গত ২৬ জানুয়ারি ঊনবাঙালের ৪৭তম সাহিত্য সভায় সকলের আগ্রহে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এ- বছর একুশে বইমেলা আয়োজন করবে ঊনবাঙাল। এই লক্ষে বইমেলা আয়োজনের জন্য ফখরুল আলমকে আহ্বায়ক ও আহসান হাবিবকে সদস্য সচিব করে ৮৩ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি এবং ১৩ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যরা হলেন যুগ্ম আহ্বায়ক আবু নাসের, সারোয়ার হোসাইনী, যুগ্ম সদস্য সচিব কাজী ফৌজিয়া, শামসুদ্দিন শামীম, সদস্য আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু, ডাক্তার ওয়াজেদ, ড. আবুল কাশেম, মো. শহীদুল্লাহ, আব্দুল্লাহ জাহিদ, সৈয়দ ফজলুর রহমান, রাগীব আহসান, আজিজুল হক মুন্না, ইমরান আনসারী, আলী সাঈদ টিপু, শেখ সিরাজ, এবিএম সালাহউদ্দিন, আদিত্য শাহীন, দিমা নেফারতিতি, সৈয়দ রাব্বী, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, ওয়াহেদ হোসেন, হাসান আমজাদ খান, আহসান হাবীব, সুমন শামসুদ্দিন, জিএম ফারুক খান, নুরুল খান, ইমাম চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, সোহেল হামিদ, ফিরোজ আহমেদ, দেওয়ান নাসের রাজা, এইচবি রিতা, এসএম মোজাম্মেল হক, আসাদুজ্জামান বাবু, রওশন হক, এবিএম ওসমান গণি, ফরিদা ইয়াসমিন, কাজী আজম, রফিক পাটওয়ারী, সোহানা নাজনীন, রেণু রোজা, কাওসার পারভীন চৌধুরী, হারুন-অর-রশিদ তানভীর, মুশফিক অন্তু, আহনাফ আলম, নেসার ভূঁইয়া রাসেল, টুটুল, মুন্না চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, আব্দুল কাইয়ুম, মিজানুর রহমান, নেলী ইসলাম, জেবুন্নেসা জ্যোৎস্না, ভায়লা সালিনা লিজা, লুৎফা শাহানা, শেলী জামান খান, সায়েব খালিসদার, শামসুন ফৌজিয়া, মিয়া এম আসকির, মিজান রহমান, আব্দুল মতিন, নাজমুল হোসেন, খালেদা আক্তার রুবী, জে মোল্লা সানী, শাহ আলম, মোহাম্মদ আলী, নুরুল আজিম, সৈয়দ জিন্নাত আলী, জিকরুল আমিন জুয়েল, ইসমাইল হোসেন স্বপন, শেখ হায়দার আলী, আমীন মেহেদী বাবু, কাজী সেলিম খান, আব্দুর রশিদ বাবু, মো. বিলাল চৌধুরী, মো. সাইফুল ইসলাম, কাশেম আবুল বাবু, সুলতান এ আলম বোখারী, শহীদুল্লাহ কায়সার, সৈয়দ আজাদ, আম্বিয়া বেগম, সেলিম ইব্রাহীম।উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি মনজুর আহমদ, সদস্য ড. মহসিন পাটওয়ারী, হাসান ফেরদৌস, ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ, ড. মোস্তফা সারওয়ার, মুজিব বিন হক, মতলুব আলী, সৈয়দ টিপু সুলতান, শাহিদা আরবী, আজহারুল হক মিলন, তাসের মাহমুদ, আব্দুল মালেক, ডাক্তার চৌধুরী মো. সারোয়ারুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ার আলতাফ চৌধুরী।ঊনবাঙালের সভাপতি, মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব যৌথ বিবৃতিতে জানান, একুশের চেতনা সমুন্নত রেখে একটি সর্বজনীন বইমেলা করাই আমাদের উদ্দেশ্য। ধর্ম ও রাজনীতি নিরপেক্ষ এই মেলায় উত্তর আমেরিকার বইপ্রেমী মানুষের ঢল নামবে বলেই তারা বিশ্বাস করেন।কাজী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভিশন হচ্ছে একটি লেখকের বইমেলা হোক, যেখানে প্রকাশকেরা নয়, লেখকেরা স্টল নেবেন, লেখক-পাঠক সরাসরি সংযোগ ঘটবে। এ-ছাড়া বই-কেন্দ্রীক নানা অনুষ্ঠান দিয়ে ৩ দিনের এই বইমেলা সাজানো হবে। আহ্বায়ক কমিটিতে কমিউনিটির যোগ্য মানুষেরা আছেন, তাদের নেতৃত্বে আমরা একটি সফল বইমেলা উপভোগ করতে চাই।’

গোয়াইনঘাট এসোসিয়েশন অব মিশিগানের ফ্যামিলি ডিনার অনুষ্ঠিত

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়াইনঘাট এসোসিয়েশন অব মিশিগানের ফ্যামিলি গেট টুগেদার ও ডিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) ওয়ারেন সিটির আলিফ রেস্টুরেন্টে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গোয়াইনঘাট এসোসিয়েশন অব মিশিগানের সভাপতি এজেডএম ওবায়দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক দীপক চৌধুরী, উপদেষ্টা গোলাম কিবরিয়া হেলাল, কাউন্সিলম্যান আবু মুসা, ডিনার পার্টির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম বদরুল, দিলওয়ার হোসেন, তরিক উদ্দিন, মফিজুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। অনুষ্ঠানে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের পুস্তিকার মোড়ক উম্মোচন, সংগঠনের গ্রাজুয়েটদের সম্মাননা সনদ প্রদান, সংগঠনের স্পন্সর দাতাদের সম্মাননা প্রদান, সংগঠনের কর্মকর্তাদের সম্মাননা দেয়া হয়। রাতের প্রীতিভোজের পর র‍্যাফেল ড্র করা হয়। সবশেষে মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

বাংলাদেশ-কুয়েতের সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি

বাংলাদেশ ও কুয়েতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর (সুবর্ণজয়ন্তী) পূর্তি এবং তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ উদযাপনের অংশ হিসেবে শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুয়েতের জাবরিয়া সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ দূতাবাস কুয়েত এবং ইউএন-হ্যাবিট্যাটট কুয়েত। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন। ইউএন-হ্যাবিট্যাট জিসিসি আঞ্চলিক অফিসের হেড অফ মিশন আমিরা আল হাসানসহ আরো অনেকেই উপস্থিত এ সময় উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিদেশে মাটিতে দেশের মান সমুন্নত করাই তরুণ প্রবাসীদের লক্ষ্য বলে মনে করি।’ মানবতার সেবায় এ ধরনের কার্যক্রমে অন্য প্রবাসীদেরও এগিয়ে আসা দরকার বলে মনে করেন স্বেচ্ছাসেবী প্রবাসী বাংলাদেশিরা।বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ কুয়েত শাখার অসংখ্য সদস্য রক্তদান করেন। এছাড়া, সাধারণ প্রবাসীরা রক্তদান কর্মসূচিতে উপস্থিতি ছিলেন।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশী মালিকানাধীন ক্যালেকা’স অটো রিপেয়ার অ্যান্ড বডি শপে নাইট শিফট চালু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ব্রঙ্কস এক্সপ্রেসওয়ে এলাকার ক্যালেকা’স অটো রিপেয়ার অ্যান্ড বডি শপে নিয়মিত ডে শিফটের পাশাপাশি নাইট শিফট চালু হয়েছে। এ উপলক্ষে গত শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশী-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও কার স্পেশালিস্ট জুলফিজার আকতার জুয়েলের মালিকানাধীন এ অটো রিপেয়ার কারখানায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে কামনা জানাতে উপস্থিত হন নিউইয়র্কের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শপের কর্ণধার জুলফিজার আকতার জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কুরআন থেকে তেলাওয়াত ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন বাংলাবাজার জামে মসজিদের খতীব মাওলানা আবুল কাশেম এয়াহইয়া। এ সময় দেশ, প্রবাস ও বিশ্ব মানবতার শান্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। বক্তব্য দেন রাজনীতিবিদন মোহাম্মদ এন মজুমদার, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট শেখ জামাল হুসেন, আব্দুর রহিম, নুরুল ইসলাম মিলন। জুলফিজার আকতার জুয়েল বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশীসহ সকলকে উন্নতমানের সেবা প্রদানের লক্ষে ব্রঙ্কসের অন্যতম বৃহৎ অটো রিপেয়ার কারখানাটি গড়ে তুলতে পেরে আল্লার নিকট শুকরিয়া আদায় করছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আধুনিকতার ছোয়ায় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছে।’ জুয়েল জানান, তারা সব ধরনের দেশীয় ও আমদানীকৃত গাড়ী, ছোট ট্রাক ও ভ্যান রিপেয়ারের কাজ করেন। কম্পিউটার ডাইগনোস্টিক সার্ভিসসহ সব ধরনের কার সার্ভিসিং ও বডিশপের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। তাদের সেবার মধ্যে রয়েছে ব্রেক চেঞ্জ, ওয়েল চেঞ্জ অ্যান্ড লুব, মেইনটেনেন্স, সার্ভিস অ্যান্ড রিপেয়ার. টাইমিং বেল্ট, টোইং সার্ভিস, মাফলার অ্যান্ড এক্সাস্ট, ট্রান্সমিশান রিপেয়ার. চেক ইঞ্জিন লাইট, এসি/হিটিং, ইলেকট্রিক্যাল, ইঞ্জিন চেঞ্জ ইত্যাদি। জুলফিজার আকতার জুয়েল জানান, একই ছাদের নীচে তাদের এখানে অনেক সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। তারা সব ধরনের দেশীয় ও আমদানীকৃত গাড়ী ক্রয়-বিক্রি ও ভাড়া দিয়ে থাকেন। তাদের এখান থেকে ব্রোকারেজ, টিএলসি ইন্স্যুরেন্স সেবা দেয়া হয়। উবার, লিফট, ভায়া ও অন্যান্য বেস সুবিধাও রয়েছে। তিনি বলেন, ‘শুধু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেই নয়, সেবার মানসিকতা নিয়েই কাজ করছেন তারা। কমিউনিটিকে সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত সেবা প্রদান তাদের লক্ষ।’ তিনি জানান, যে কোন মডেলের ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি সার্ভিসিংয়ে ডিলারের চাইতেও সাশ্রয়ী সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর তারা। পূর্বে সপ্তাহের সোমবার থেকে শনিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যে ৬ টা পর্যন্ত খোলা ছিল। বর্তমানে গ্রাহকদের সুবিধার্থে সপ্তাহের সাত দিনই সকাল আটটা থেকে ভোর চারটা পর্যন্ত খোলা থাকছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘নিউইয়র্কে অটো রিপেয়ার ব্যবসায়ী হিসেবে জুয়েল এ সেক্টরে ইতোমধ্যে অনেক সুনাম অর্জন করেছেন। ব্রঙ্কসের প্রাণকেন্দ্র এ ধরনের আধুনিকমানের অটো রিপেয়ার শপ গড়ে ওঠায় হাতের নাগালেই সাশ্রয়ী মূল্যে তারা সেরে নিতে পারবেন গাড়ীর প্রয়োজনীয় সব কাজ।’

সংখ্যালঘু স্বীকৃতি, সেপারেট ইলেক্টরেট ও সংরক্ষিত সংখ্যালঘু এলাকার দাবি যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের

যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের মত বিনিময় সভা গত ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের ফ্লোরাল পার্কের গোল্ডেন ইয়ার্স কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনের অন্যতম সভাপতি টমাস দুলু রায়ের সভাপতিত্বে এবং অন্য সভাপতি দ্বিজেন ভট্টাচার্য্যের তত্বাবধানে ও সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণু গোপের সঞ্চালনায় সভায় সংগঠনের সদস্য, ডিরেক্টর ও কর্মকর্তা ছাড়াও সমাজের অন্য প্রতিষ্ঠানের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।সভায় গতে ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে সরকারি প্রশ্রয়ে ও কোন কোন ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় সংঘটিত সামপ্রদায়িক সন্ত্রাস ও সংস্কারের নামে স্বাধীনতার মূল চেতনা ভাষা-ভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা বিরোধী অশুভ কার্যক্রম সম্পর্কে বক্তব্য দেন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নবেন্দু দত্ত ও সদস্য সচিব চন্দন সেনগুপ্ত, টম্স দুলু রায় ও রণবীর বড়ুয়া, ডিরেক্টর শিতাংশু গুহ, দিলীপ নাথ. পরেশ সাহা, তপন সেন, প্রদীপ মালাকার, ইউনাইটেড হিন্দুজ অফ ইউএসএর সভাপতি ভজন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক রামদাস ঘরামী, বীর মুক্তিযোদ্ধা অবিনাশ আচার্য্য, রোজালিন কষ্টা, রিণা সাহা, রূপকুমার ভৌমিক, রণজিৎ রায়, অজিত চন্দ, অনুকুল অধিকারী, রণজিৎ ভাদুড়ী, রমেশ নাথ, রাখি মিত্র, পার্থ তালুকদার, কুমার বাবুল সাহা, রণজিৎ পুরকায়স্থ, পরেশ ধর, চঞ্চনা চাকমা, সুভাষ সাহা, গৌতম সরকার, মৈত্রিশর বড়ুয়া, পিয়াস দাস সুমন, সুজন রায, অমিত ঘোষ, সুকান্ত দাস টুটুল, সুমন মিত্র, রাজীব নন্দী, জলি সাহা, প্রদীপ কুন্ডু, মুনমুন সাহা, বামেশ রায়, বিকাশ বড়ুয়া, সঞ্জিত ঘোষ, ইন্দ্রজিৎ সরকার, হরিগোপাল বর্ম্মণ, আশীস কুমার পাল, সাধন দাস, গোপাল গোপ, নিতাই নাথ, প্রদীপ সূত্রধর, মোহনজী বানিয়া, মিতুল ভৌমিক, স্টিফেন মন্ডল।দেশে তাদের বিপন্ন স্বজনদের মর্মস্পর্শী দু:খ দুর্দশার করুণ বিবরণ দিতে গিয়ে বক্তারা বলেন, ‘দেশ এখন কার্যত: তারাই চালাচ্ছে যারা ১৯৭১ সালে গণহত্যা করেছিল এবং আজও সেটাকে জোর গলায় সমর্থন করে।’ তারা বলেন, ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তির ক্রীড়ানক ড. ইউনূস-রিয়াজ ও ছাত্র সমন্বয়ক মাহফুজরা সংবিধানে রাষ্ট্র ধর্ম-ইসলাম বহাল রেখে, ধর্মনিরপেক্ষতা ও ভাষা-ভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদ ছেঁটে দিয়ে বাংলাদেশেকে মুসলিম বাংলায় পরিণত করতে উদ্যত। গত ৫ আগষ্টের পর থেকে দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যে বর্বর আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে, সেটা ঐ পরিকল্পনারই অংশ।’বক্তারা বলেন, ‘যেহেতু কোন সরকারই কোন দিন সংখ্যালঘু নির্যাতকদের বিচার করেনি, এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারও ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশ করেনি, তাই বাংলাদেশের ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু নাগরিকদের বাঁচার একমাত্র পথ দেশে তাদের জন্য কয়েকটি সংরক্ষিত স্বায়ত্বশাসিত এলাকা গঠন করা এবং সেপারেট ইলেক্টরেট চালু করা যা ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের জন্য ইংরেজ সরকার করেগিয়েছিল তারা স্রেফ সংখ্যালঘু বলে এবং যা ১৯৫৪ সালের নির্বাচন পর্যন্ত পাকিস্তানে চালু ছিল।’ সভায় বলা হয়, ‘একটি বিশদ সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশ করতে হবে, যার মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ‘সংখ্যালঘু’ বলে এবং অদিবাসীদের ‘অদিবাসী’ বলে স্বীকৃতি দিতে হবে, ইসলামী ফাউন্ডেশনের আদলে হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান ফাউন্ডেশন ও একটি সংখ্যালঘু কমিশন ও মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মত হেইট ক্রাইম ও স্পিচ আইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’বিষ্ণু গোপ ও দ্বিজেন ভট্টাচার্য্য যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী সংখ্যালঘু ব্যক্তিদের দেশে বিপন্ন সংখ্যালঘু নাগরিকদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান।

নিউইয়র্কে আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের ‍নুতন কমিটির অভিষেক

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের নব-নির্বাচিত কমিটির অভিষেক গত ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডের গুলশান প্যালেস পার্টি হলে বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে প্রেস ক্লাব পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশনের সম্পাদক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, কবি, লেখক, সংস্কৃতি ও সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বালাদেশী উপস্থিত ছিলেন। ২০২৫-২৬ মেয়াদে নব-নির্বাচিত কমিটির অভিষেক ছাড়াও আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পর্বে কন্ঠ শিল্পী চন্দন চৌধুরী, লিনা সাবরিনা, নাজু আখন্দ, কৃষ্ণা তিথি, অভীক রাজ গান করেন। ফারাহ হাসিন ও দর্পণ কবীরের সঞ্চালনায় অভিষেক অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদা ও ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ। অনুষ্ঠানে বক্তারা যুক্তরাষ্ট্রের চলমান পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মিডিয়ায় যেন যথাযথ তথ্যের খবর প্রকাশিত হয়। অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে- এমন সংবাদ প্রকাশে যেন মিডিয়াগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখে।’ তারা আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত। আইন লঙ্ঘন করে কোন পদক্ষেপ পারবে না যে কোন সংস্থা। তবে অভিবাসীরা আইন লঙ্ঘন বা কোন অপরাধ যেন না করেন, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। সু-নাগরিকদের জন্য কোন বিপদের আশঙ্কা নেই।’ অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ক্লাবের সভাপতি শওকত ওসমান রচি। বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, এটর্নী মঈন চৌধুরী, উৎসব গ্রুপের সিইও রায়হান জামান, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন, ক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মাদ সাঈদ, দর্পণ কবীর, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মজুমদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল হক মঞ্জু, যুগ্ম সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, বাংলা চ্যানেলের সিইও শাহ জে চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ক্লাবের সাবেক সদস্য প্রয়াত এ হাই স্বপনের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনা পর্ব শেষে অতিথিদের সাথে ফটোসেশনে অংশ নেন ক্লাবের কার্যকরী কমিটি ও সাধারণ সদস্যরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে কবিতা আবৃত্তি করে ছোট্ট শিশু পর্ণা উত্তম সাহা, ভাষা সাহা ও বায়োলিন পরিবেশন করেন প্রজ্ঞা উত্তম সাহা। এরপর করেন অনীক রাজ, লিনি সাবরিন, কৃষ্ণা তিথি, নাজু আকন্দ ও চন্দন চৌধুরী।

আটলান্টিক সিটিতে ‘মুসলিম ঐতিহ্য মাস’ পালিত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি রাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে ‘মুসলিম ঐতিহ্য মাস’ পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গত ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সিটির শোবোট হোটেলে উপলক্ষে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। আয়োজনে ছিল সুধী সমাবেশ, কথামালা, সম্মাননা প্রদান, ধর্মীয় পুস্তক প্রদর্শনী, ধর্মীয় কুইজ প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। কুরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে আমের কাশ্মীরি স্বাগত বক্তব্য দেন। হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ইমাম আমিন মুহাম্মদ ও ইমাম আবদুল মুইজ। অনুষ্ঠানে নিউ জার্সি রাজ্যের এসেম্বলিম‍্যান ডন গার্ডিয়ান, আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র, আটলান্টিক কাউন্টির কমিশনার এট লার্জ জন রিসলি, শোবোট হোটেলের স্বত্বাধিকারী বার্ট ব্লাটস্টেইন, সিটির পুলিশ প্রধান জেমস সারকোস, সিটি কাউন্সিলের সহসভাপতি কলিম শাহবাজ, আটলান্টিক কাউন্টির ডেমোক্র্যাটিক কমিটির চেয়ারম্যান মাইক সুলেমান, প্রাক্তন কাউন্সিলম‍্যান আনজুম জিয়া, আটলান্টিক সিটি স্কুল বোর্ড সদস্য সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সির (বিএএসজ) সভাপতি জহিরুল ইসলাম বাবুল ও ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি আব্দুর রফিক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল আটলান্টিক সিটি মার্চেন্ট এসোসিয়েশন ও সাউথ এশিয়ান এসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সি। আয়োজকদের পক্ষে আমের কাশ্মীরি, মালিক সোহেল, আবিদ কাইউম, আসাদ চৌধুরী, আদিল মালিক, সরফরাজ আহমদ, মো. ইমরান, মঈন খান, বেনহুর সলোমন, কামরান আজিজ, মো. জামিন, মো. ওয়াইস, মো. সেলিম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আটলান্টিক সিটিতে বিএএসজের ফুড ব্যাংক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি রাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সির (বিএএসজ) উদ্যোগে ‘ফুড ব্যাংক’ আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।গেল ৩০ জানুয়ারি সকালে ফেয়ারমাউন্ট এভিনিউতে অবস্থিত বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টারে পর্যন্ত ফুড ব্যাংকের কার্যক্রম চলে।কার্যক্রমের আওতায় তাজা শাকসবজি, ফলমূল, টিনজাত খাবারসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।সিটির বিভিন্ন কমিউনিটির লোকজন এই ফুড ব্যাংক কার্যক্রমে অংশ নেয়। কার্যক্রমে সহায়তা করে কমিউনিটি ফুড ব্যাংক অব নিউজার্সি। কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মো. আইউব, মনিরুজামান মনির, বেলাল হোসেন, আবদুল জব্বার প্রমুখের সার্বিক সহযোগিতায় ফুড ব্যাংকের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির সময়কালে এই ফুড ব্যাংকের কার্যক্রম কমিউনিটিতে বেশ সাড়া ফেলে। উল্লেখ‍্য, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সির মহতী কার্যক্রমের অংশ হিসাবে মাসে চার বার ফুড ব্যাংকের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সির সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. জাকিরুল ইসলাম খোকা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুর রফিক ফুড ব্যাংকের কার্যক্রম সফল করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।