
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে তবেই পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে সম্মত হবে—এমন মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফ। বাংলাদেশের পক্ষে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অবস্থানকে তিনি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন এবং মনে করছেন, এতে বৈশ্বিক ক্রিকেট বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি উঠলে তাতে সমর্থন জানায় পিসিবি। তবে আইসিসি বাংলাদেশের আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তান আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ক্রিকেটের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচ না হলে আইসিসির কোটি কোটি ডলার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে রশিদ লতিফ বলেন, “পাকিস্তান সরকার নিজেই প্রেস রিলিজ বা টুইট করেছে, যাতে আইনি জটিলতা থেকে বাঁচা যায়। কারণ যখন সরকার কোনো বিষয়ে সরাসরি জড়িত হয়ে পড়ে, তখন আইসিসির আর করার কিছু থাকে না।”
পাকিস্তানের অবস্থানের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ এটি বিলিয়ন ডলারের ব্রডকাস্টারদের বাজার, যা এখন মিলিয়নে নেমে আসবে। আইসিসি প্রায় ১০০-১৫০টি সদস্য দেশকে ফান্ডিং দেয়। যেখানে ৩ বিলিয়ন ডলারের বাজার ছিল, সেটি ১ বিলিয়নে নেমে আসলে সবার ফান্ডিংয়ে টান পড়বে।”
রশিদ লতিফের মতে, সমাধান একটাই—বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনা। তাঁর ভাষায়, “এখন পাকিস্তানকে মর্যাদা দিলে এবং বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দেওয়া হলেই কেবল পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে খেলবে। না খেললে আইসিসির ওপর অবশ্যই এর বড় প্রভাব পড়বে। বর্তমানে আইসিসি মূলত বিসিসিআইয়ের লোকেরাই চালাচ্ছে। জয় শাহ এখন বুঝতে পারবেন যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল কীভাবে পরিচালনা করতে হয়।”
একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যান্য শক্তিশালী দেশগুলোকেও বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। বলেন, “অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ডকে এখন আলোচনার টেবিলে আসতে হবে এবং স্বীকার করতে হবে যে বাংলাদেশের সাথে অবিচার হয়েছে।”