
দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তনকে ‘সার্কাস’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে টাকা খরচ করে দেখলেও তা বৃথা যাবে না।
গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ক্রিকেট বোর্ডেও শুরু হয় অস্থিরতার ঢেউ। দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্বে থাকা নাজমুল হাসান পাপন সরে যাওয়ার পর স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার নেতৃত্ব বদল হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়িত্ব নেন ফারুক আহমেদ, পরের বছর নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি হন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ শেষ পর্যন্ত সেই কমিটি ভেঙে দেয়। সর্বশেষ সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেয়, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে আফতাব আহমেদ তাঁর বক্তব্যে ব্যঙ্গ মিশিয়ে বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডে যে ধরনের সার্কাস চলছে, কেউ যদি ২ হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কাটেন, সেটাও বৃথা যাবে না। এখন দেশের সবচেয়ে বড় সার্কাসটাই যেন এখানে।’ তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি করে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এই সাবেক ক্রিকেটার তুলনা টানেন সেখানকার অভিজ্ঞতার সঙ্গে। তিনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তিন বছর ধরে এখানে আছি, কিন্তু ক্রিকেট বোর্ড কোথায় সেটাই জানি না। কারা সদস্য, সেটাও জানার প্রয়োজন পড়ে না। নিজের কাজটাই সবাই করে যায়।’ বিপরীতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি যোগ করেন, ‘এখানে এমনভাবে সবকিছু প্রচার হয় যে না চাইলেও সব জানা হয়ে যায়। যেন ঢোল পিটিয়ে সবাইকে শোনানো হচ্ছে।’
এদিকে ভেঙে দেওয়া কমিটির পক্ষ থেকেও আপত্তি ওঠে। সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ দাবি করে বলেন, বোর্ড ভেঙে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং এতে সংস্থাটির স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনাও করেন তিনি।
সব মিলিয়ে প্রশাসনিক টানাপোড়েন, সিদ্ধান্তের অস্থিরতা ও নেতৃত্বের ঘন ঘন পরিবর্তনে দেশের ক্রিকেট যেন মাঠের বাইরের নাটকেই বেশি আটকে আছে। মাঠের খেলার উত্তাপকে ছাপিয়ে বোর্ডকক্ষের এই অস্থিরতা এখন দর্শকদের কাছে এক অদ্ভুত প্রদর্শনী হয়ে উঠছে, যেখানে খেলোয়াড়ের ব্যাট-বলের চেয়ে আলোচনায় বেশি জায়গা নিচ্ছে ক্ষমতার পালাবদল।