চট্টগ্রামে ২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের অর্ধেকের বেশি ব্যাটার এখনই সাজঘরে ফেরায় চাপ ক্রমশ বাড়ছে সফরকারীদের ওপর, যেখানে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পাশাপাশি ধারালো ফিল্ডিংও বড় পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে।
ইনিংসের শুরুতে মোস্তাফিজুর রহমান চোট কাটিয়ে ফিরে এসে নিজের দ্বিতীয় ওভারেই হেনরি নিকোলসকে ফেরান। এরপর নাহিদ রানার গতির সামনে থিতু হতে পারেননি উইল ইয়াং। টম ল্যাথামও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, শরিফুল ইসলামের বলে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। শুরুতেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড।
মাঝের ওভারে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন কেলি ও নিকোলস। তবে বাংলাদেশের বোলাররা ধারাবাহিক লাইন ও লেন্থে চাপ ধরে রাখে, আর ফিল্ডাররা ইনফিল্ডে তীক্ষ্ণ অবস্থানে থেকে প্রতিটি রান আটকে দেয়। ফলে রান তোলার গতি স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি।
এরপর ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মোড় ঘুরে যায় কেলির বিদায়ে। ৫৯ রানে মোস্তাফিজের স্লোয়ারে টাইমিং মিস করে কাভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার বিদায়ের পর নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে আবারও ধস নামে।
সবশেষে আসে ইনিংসের পঞ্চম উইকেট। শরিফুল ইসলামের একটি বল ব্যাটের ইনসাইড-এজ হয়ে সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করে আব্বাসকে ফিরিয়ে দেয় সাজঘরে। এই উইকেটের পরই নিউজিল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১২৪, আর পুরো ইনিংস আরও বড় চাপে পড়ে যায়।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের স্কোর ১৩২/৫, ৩২ ওভার শেষে বেশ চাপের মুখেই রয়েছে দলটি। যেখানে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ যেমন নিয়ন্ত্রিত, তেমনি ফিল্ডিংও প্রতিটি ব্যাটারকে বাড়তি সতর্ক থাকতে বাধ্য করছে। ইনফিল্ডে দ্রুততা ও আউটফিল্ডে নিখুঁত থ্রো বারবার সফরকারীদের রান থামিয়ে দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে। পেস ও স্পিনের সমন্বিত আক্রমণের সঙ্গে ফিল্ডিংয়ের ধারালো মানসিকতা ম্যাচকে পুরোপুরি তাদের দিকে ঠেলে দিয়েছে, আর নিউজিল্যান্ড এখন ইনিংস বাঁচানোর লড়াইয়ে ব্যস্ত।