
বিশ্বকাপের মঞ্চে সফলতম দল হওয়া সত্ত্বেও গত ২৪ বছর ধরে ট্রফির দেখা পায়নি লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই খরা কাটাতে এবার সম্পূর্ণ আঁটসাঁট ও ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে মাঠে নেমেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ডাগআউটে ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তির ক্ষুরধার রণকৌশলকে সঙ্গী করে সেলেসাওরা এবার বুনেছে হেক্সা জয়ের স্বপ্ন।
তবে মাঠের বাস্তবতায় শুরুটা মোটেও আশানুরূপ হয়নি তাদের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে আনচেলত্তির শিষ্যদের। প্রথম ম্যাচের এই ধাক্কা সামলে টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই চেনা ছন্দে ফিরতে চাইছে ব্রাজিল। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ হাইতি।
পরিসংখ্যান এবং শক্তির বিচারে হাইতির চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে রয়েছে সেলেসাওরা। অতীতে দু'দলের তিনবারের দেখায় প্রতিবারই দাপুটে জয় পেয়েছে ব্রাজিল।
মুখোমুখি লড়াইয়ের অতীত ইতিহাস
১৯৭৪ সালের প্রথম সাক্ষাৎ: দুই দলের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৭৪ সালের এক প্রীতি ম্যাচে। সেই ম্যাচে হাইতিকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় ব্রাজিল, যেখানে দলের অন্যতম তারকা রিভেলিনো একটি গোল করেছিলেন।
২০০৪ সালের গোলবন্যা: দীর্ঘ ৩০ বছর পর ২০০৪ সালে আবারও একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় দল দুটি। এবার ব্যবধান আরও বাড়িয়ে হাইতিকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে সেলেসাওরা। ব্রাজিলের তৎকালীন মহাতারকা রোনালদিনহো সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন।
২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা: হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় জয়টি আসে ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকায়। আমন্ত্রিত দল হিসেবে খেলতে আসা হাইতিকে সেবার ৭-১ গোলে গুঁড়িয়ে দেয় ব্রাজিল। ম্যাচটিতে ফিলিপ কৌতিনহো হ্যাটট্রিক এবং রেনাতো আগুস্তো জোড়া গোল করেন।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও অতীত রেকর্ডের সমীকরণ বলছে, হাইতির বিপক্ষে এই ম্যাচে বড় ব্যবধানের জয় পাওয়ার কথা ব্রাজিলেরই। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চ সবসময়ই অনিশ্চয়তায় ঘেরা, যেখানে অঘটন যেকোনো মুহূর্তেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।