
ব্রাজিলের ডাগআউটে বসার একটি বছর পেরিয়ে এসে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ অভিযানে দারুণ আত্মবিশ্বাসী কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপানকে বিদায় করার পর এবার শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে নরওয়েকে রুখতে রণকৌশল সাজাচ্ছেন এই ইতালীয় কিংবদন্তি। এর মধ্যেই এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন, আমি জিনিয়াস নই, আবার বোকাও নই।
আগামী রবিবারের (৫ জুলাই) গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যম ‘ফোলহা ডি এস. পাওলো’কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে দলগত ভারসাম্য, নেইমারের ফিটনেস ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে নিয়ে নিজের খোলামেলা মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন ৬৭ বছর বয়সী এই মাস্টারমাইন্ড।
জাপানের বিপক্ষে সাহসী সিদ্ধান্ত ও ব্রাজিলিয়ান সংস্কৃতি
জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে অভিজ্ঞ কাসেমিরোর পরিবর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে মাঠে নামানোর সাহসী সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন আনচেলত্তি। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি জানিয়ে দেন, দলের ভারসাম্য রক্ষার্থেই এই কৌশলগত পরিবর্তন এবং যেকোনো হারের দায় শেষ পর্যন্ত কোচের ওপরই বর্তায়। নিজের ফুটবলীয় দর্শন তুলে ধরে রসিকতার সুরে তিনি বলেন, তিনি কোনো জিনিয়াস নন, আবার বোকাও নন। সেলেসাওদের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির সংস্কৃতি ও মানুষের বিনয়ী স্বভাবের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। প্রথমবার কার্নিভালে যাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি জানান, ব্রাজিলিয়ানরা অত্যন্ত আনন্দময়, সুশৃঙ্খল ও ঐক্যবদ্ধ এবং নিজের কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে মেডিকেল টিম—সবার মাঝেই এই বিনয় কাজ করে।
হলান্ড জুজু ও নেইমারের ৯০ মিনিট খেলার সবুজ সংকেত
রবিবারের প্রতিপক্ষ নরওয়ের কোচ স্টেল সোলবাকেনের ছুড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত ব্রাজিল। আনচেলত্তি স্বীকার করেছেন, বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে আর্লিং হলান্ডের মতো বিশ্বসেরা স্ট্রাইকারের মুখোমুখি হওয়া কঠিন, যেখানে মানসিক শক্তি ও কৌশল বড় ভূমিকা রাখে। তবে নিজের দলের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
এদিকে ভক্তদের বহুল প্রতীক্ষিত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কোচ নিশ্চিত করেছেন, তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার এখন পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো সম্পূর্ণ ফিট। রিজার্ভ বেঞ্চে থাকা নিয়ে নেইমারের পেশাদার আচরণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বেঞ্চে বসে কেউ খুশি হয় না, তবে নেইমার অত্যন্ত বিনয়ী এবং সতীর্থদের কাছে ভালোবাসার পাত্র। সে সরাসরি খেলার জন্য জেদ না ধরলেও মাঠে নামতে তার ইচ্ছাটা স্পষ্ট।
ভিনিসিয়ুসের বিনয় ও ইনজুরির শঙ্কা
দলে কোনো একক মহাতারকার চেয়ে দলগত পারফরম্যান্সকে এগিয়ে রেখেছেন এই ইতালীয় কোচ। নেইমারের অনুপস্থিতিতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রই একমাত্র ভরসা কি না—এমন প্রশ্নে ভিন্ন মত পোষণ করেন তিনি। এই মাস্টারমাইন্ড জানান, ভিনির অসাধারণ প্রতিভার পাশাপাশি তার বিনয়ই তাকে সফল করেছে। ইউরোপে ভিনিসিয়ুসের ওপর বর্ণবাদী হামলার কঠিন সময়ে রিয়াল মাদ্রিদ ও নিজের পক্ষ থেকে দেওয়া জোরালো সমর্থনের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
অন্যদিকে বর্তমান ফুটবলের ঠাসা সূচির কারণে রাফিনিয়া ও লুকাস পাকেতার ইনজুরি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও রাফিনিয়ার দ্রুত সুস্থতায় আশাবাদী কোচ। গত ২ জুলাই নিউ জার্সির মরিসটাউনে কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিতে ফুরফুরে মেজাজে অনুশীলন করা আনচেলত্তির কৌশল নরওয়েকে কতটা পরাস্ত করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।