
ছোটবেলা থেকেই লক্ষ্য ছিল একটাই—ফুটবলার হওয়া। সেই স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে নিরলস পরিশ্রমের পথেই আজ আর্জেন্টিনার অন্যতম নির্ভরযোগ্য তারকায় পরিণত হয়েছেন হুলিয়ান আলভারেজ। অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের ক্যারিয়ারের উত্থান যেন অধ্যবসায়, নিষ্ঠা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনুপ্রেরণার গল্প।
আর্জেন্টিনার কর্ডোবা প্রদেশের ছোট শহর ক্যালচিনে একটি কর্মজীবী পরিবারে জন্ম আলভারেজের। মা মারিয়ানা ছিলেন নার্সারি স্কুলের শিক্ষক এবং বাবা গুস্তাভো কৃষিখামারে কাজ করতেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট আলভারেজ মাত্র দুই বছর বয়সেই বড় দুই ভাই অগাস্টিন ও রাফায়েলের সঙ্গে ‘ফিউচুরাস এস্ট্রেলিটাস’ ফুটবল স্কুলে যাওয়া শুরু করেন। মা-বাবা কর্মব্যস্ত থাকায় দাদি তিতাই তিন ভাইকে নিয়মিত সেখানে নিয়ে যেতেন। শুরুতে ভাইদের খেলা দেখে অনুকরণ করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ফুটবলের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা তৈরি হয়।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় শিক্ষকরা ভবিষ্যতে কী হতে চান জানতে চাইলে লাজুক স্বভাবের আলভারেজ কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলতেন—তিনি ফুটবলার হবেন। সেই লক্ষ্য থেকে তিনি কখনো সরে যাননি।
দশ বছর বয়স হওয়ার আগেই ফুটবল ছিল তার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। একাডেমির আনুষ্ঠানিক অনুশীলন শেষ হলেও অন্যরা যখন বাড়ি ফিরত, আলভারেজ তখনও মাঠে থেকে যেতেন। কোচ রাফায়েল ভারাজের কাছে আরও কিছু সময় অনুশীলনের সুযোগ চাইতেন তিনি। ক্রস, ফ্রি-কিক, পেনাল্টি, হেড, ড্রিবলিং এবং প্রথম স্পর্শে বল নিয়ন্ত্রণ—প্রতিটি দিকেই নিজেকে আরও নিখুঁত করে তুলতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করতেন।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে নিজ শহরের ক্লাব অ্যাথলেটিকো ক্যালচিনের যুব দলে যোগ দেন আলভারেজ। দুই বছর পর সুযোগ পান আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিভার প্লেটের যুব দলে। সেখান থেকে দ্রুতই সিনিয়র দলে জায়গা করে নেন এবং নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেন।
তার পারফরম্যান্স নজর কাড়ে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর। ২০২২ সালে প্রায় ১৪ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ১৯ মিলিয়ন ডলার) ট্রান্সফার ফিতে দেড় বছরের চুক্তিতে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালে প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১০৯ মিলিয়ন ডলার) ব্যয়ে তাকে দলে ভেড়ায় স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ।
জাতীয় দল ও ক্লাবের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন হিসেবে পরিচিত আলভারেজ ২০২১ সাল থেকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। এরই মধ্যে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে অনূর্ধ্ব-২০ ফিফা বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা, একটি ফিনালিসিমা এবং ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন।
শৈশব থেকেই আলভারেজের অসাধারণ সম্ভাবনা দেখেছিলেন তার কোচ রাফায়েল ভারাজ। ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড সম্পর্কে তিনি ফিফাকে বলেন, ‘আমার মনে পড়ে, একদিন আমি তাঁর দাদিকে বলেছিলাম, এই শিশুই আমাদের সবাইকে রক্ষা করতে যাচ্ছে। তখনই শিশু আলভারেজের বড় মাপের ফুটবলার হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিলাম।’