
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার একটি বিশেষ আবদার মেনে নিয়েছে ফিফা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সির বদলে নেভি ব্লু অ্যাওয়ে জার্সি পরার অনুমতি পেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপ ইতিহাসের স্মরণীয় কয়েকটি জয়ের সঙ্গে এই জার্সির সম্পর্ক থাকায় একে ‘লাকি’ জার্সি হিসেবে দেখছেন আর্জেন্টাইনরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক দলের মর্যাদা অনুযায়ী ইংল্যান্ডের সাদা জার্সির বিপরীতে নিয়ম অনুযায়ী আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি পরার কথা ছিল। তবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফিফার কাছে নেভি নীল অ্যাওয়ে জার্সি ব্যবহারের অনুমতি চায়। সেই অনুরোধ অনুমোদন করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এর ফলে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে নীল জার্সিতেই মাঠে নামবেন লিওনেল মেসিরা। ম্যাচজয়ী দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেনের।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত লড়াই। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের ম্যাচে নেভি নীল জার্সি পরেই ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ১৯৯৮ বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একই রঙের জার্সিতে জয় তুলে নেয় দলটি।
অন্যদিকে ১৯৬৬ ও ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা জার্সি পরে মাঠে নেমে পরাজয়ের মুখ দেখেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ইতিহাস থেকেই নীল জার্সিকে শুভ লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করছে দলটি।
বিষয়টি নিয়ে ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেলও রসিকতা করেন। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা নীল জার্সি পরবে আর ইংল্যান্ড সাদা জার্সিতে খেলবে, সেটি কি তাদের সৌভাগ্যের বিশ্বাসের অংশ? পরে তিনি মন্তব্য করেন, যদি এমন বিশ্বাস থেকেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তাহলে সেটিকে দোষের কিছু মনে করেন না; নিজেও এমন পরিস্থিতিতে একই কাজ করতে পারতেন।
এখন দেখার বিষয়, ইতিহাসেরচনীল জার্সি আর্জেন্টিনাকে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট এনে দিতে পারে কি না।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, টিওয়াইসি স্পোর্টস, ইএসপিএন