
বাংলাদেশের বিপক্ষে বল হাতে প্রত্যাশিত দাপট দেখাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। উল্টো ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই সফরকারী বাংলাদেশ বেশ আত্মবিশ্বাসী ক্রিকেট খেলছে। ফলে স্বাগতিকদের বিপক্ষে লিড নেওয়ার পথে শান্ত-তানজিদদের অবস্থান এখন বেশ শক্ত। দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরুর আগে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করার পাশাপাশি নিজেদের বোলিং পরিকল্পনার ঘাটতিও স্বীকার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক।
শুক্রবার দিনের খেলা শুরুর আগে চ্যানেল সেভেনের সঙ্গে আলাপকালে স্টার্ক জানান, বাংলাদেশের ব্যাটিং সামলাতে বোলিংয়ের কৌশলে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ওরা স্পষ্টতই খাটো গড়নের ব্যাটিং ইউনিট। তাই আমাদের সম্ভবত বলটা একটু বেশি ফুল লেংথে করতে হবে। স্টাম্পের বাইরে থাকা বলগুলো বেশ কমপ্যাক্টভাবে ছেড়ে দেওয়ায় তারা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই ছিল, যখন বলটা খেলার মতো অবস্থায় ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন বেশি ফুল লেংথে করেছি, তারা সম্ভবত সেসব ওভারপিচড বলে কিছুটা রান তুলে নিয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়ার বোলিংয়ের পরিসংখ্যানেও কৌশল পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট। প্যাট কামিন্স প্রথম দিনে গড়ে ৭.৬ মিটার লেংথে বল করলেও দ্বিতীয় দিনে তার গড় লেংথ কমে হয়েছে ৬.৩ মিটার। অর্থাৎ স্টাম্পের তুলনায় আরও কাছাকাছি জায়গায় বল ফেলেছেন তিনি।
প্রথম দিনে উইকেটের প্রকৃতি পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া—এমনটিও জানিয়েছেন স্টার্ক। তিনি বলেন, ‘প্রথম দিনটা আমাদের সেরা ছিল না। সম্ভবত দুই দলের জন্যই বিষয়টি কিছুটা অজানা ছিল। এই উইকেট কেমন আচরণ করবে, তা আমাদের অনেকেরই জানা ছিল না। গত বছর যারা এখানে সাদা বলের (সীমিত ওভার) ম্যাচ খেলেছিল, তারা বলেছিল উইকেটটা সাদা বলের ক্রিকেটের জন্য বেশ ভালো ছিল। বুধবার যারা এখানে ছিল, তারা বলেছিল উইকেট বেশ শক্ত ছিল। এরপর গতকাল যখন কভার সরানো হলো, তখন উইকেটে কিছুটা আর্দ্রতা ও স্যাঁতসেঁতে ভাব দেখা যায়।’
অচেনা কন্ডিশনেও বাংলাদেশের ব্যাটারদের স্বাভাবিক ও কার্যকর ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেছেন এই বাঁহাতি পেসার। তিনি বলেন, ‘আজ সকালে কভার থাকার কারণে এবং কিছুটা ঘাম জমায় একই অবস্থা থাকবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়। আশা করি আমাদের জন্যও সেটাই হবে। তবে আমরা দেখেছি, দিন যত গড়িয়েছে উইকেট তত ভালো হয়েছে। (প্রথম) দিনের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশও বেশ ভালো ব্যাটিং করেছে।’