
রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি ছেড়েছেন, কিন্তু ক্লাবটির প্রতি ভালোবাসা এখনো অটুট লুকা মদ্রিচের। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও সাবেক এই ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডারের মনে রয়েছে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফেরার ইচ্ছা। তবে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে নিজের জন্য একটি শর্তও ঠিক করে রেখেছেন তিনি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মদ্রিচ জানিয়েছেন, রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি তার সমর্থন ও ভালোবাসা সবসময় থাকবে। পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই এসি মিলানের প্রতিও তার বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। বর্তমানে মিলানে নিজের জীবন নিয়েও সন্তুষ্ট তিনি।
নতুন ক্লাবে অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মদ্রিচ বলেন, শুরু থেকেই মিলান ও সমর্থকদের কাছ থেকে তিনি দারুণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন। শহরটিও তার ভালো লেগেছে। মাদ্রিদের সঙ্গে মিলানের পার্থক্য থাকলেও ইতালির এই শহরে সময়টা উপভোগ করছেন বলেও জানান তিনি।
দুই ক্লাবের তুলনা করতে গিয়ে তাদের সমৃদ্ধ ইতিহাসের কথাও তুলে ধরেন মদ্রিচ। তার মতে, রিয়াল মাদ্রিদ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্লাব। একইভাবে ইউরোপীয় সাফল্যের বিচারে এসি মিলানের মর্যাদাও অনেক উঁচুতে। পুরোনো গৌরব ফিরে পেলে মিলান আবারও নিজেদের সেরা অবস্থানে ফিরতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
তবে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মদ্রিচের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। খেলোয়াড় হিসেবে নয়, ভবিষ্যতে অন্য কোনো ভূমিকায় রিয়াল মাদ্রিদে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। তবে কেবল অতীতের পরিচিতি কিংবা ক্লাবটির সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ককে ভিত্তি করে ফিরতে চান না এই মিডফিল্ডার।
মদ্রিচের ইচ্ছা, রিয়ালে ফিরলে এমন দায়িত্ব নিতে, যেখানে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে এবং ক্লাবের জন্য তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। অর্থাৎ শুধুই পরিচিত মুখ হিসেবে নয়, গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তব কোনো দায়িত্ব নিয়েই বার্নাব্যুতে ফিরতে চান তিনি।
অবসর নিয়েও এখনই ভাবতে চান না মদ্রিচ। তার কাছে বয়সের চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যতদিন নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট থাকবেন এবং ফুটবল উপভোগ করবেন, ততদিন খেলা চালিয়ে যেতে চান তিনি।
মাত্র ছয় বছর বয়সে ফুটবলে হাতেখড়ি নেওয়া মদ্রিচের খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার এরই মধ্যে তিন দশক পেরিয়েছে। এই পথ যে চিরস্থায়ী নয়, সেটি ভালোভাবেই জানেন তিনি। তবে শরীর ও পারফরম্যান্স যতদিন সঙ্গ দেবে, ততদিন ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার কোনো তাড়া নেই তার।