
আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর প্রায় ছয় বছর পর তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় নতুন একটি সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। ৪৩টি শুনানিতে ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার পর ৪৪তম শুনানিতে এসে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন মামলার শেষ সাক্ষী ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ পাবলো ফেরারি।
তার দাবি, করোনাভাইরাসের সংক্রমণেই ম্যারাডোনার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে—এ সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা যায় না।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে বুয়েনস এইরেসের উপকণ্ঠের একটি বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ম্যারাডোনা।
আদালতে সরকারি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক পাবলো ফেরারি বলেন, করোনাভাইরাস শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একজন রোগীর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটাতে পারে। এমনকি সংক্রমণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যুও ঘটতে পারে বলে জানান তিনি।
ম্যারাডোনার ময়নাতদন্তের সময় কভিড শনাক্তের পরীক্ষা না করানোর বিষয়টিকে ‘পদ্ধতিগত ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেন ফেরারি।
২০২৫ সালে মামলার প্রধান আসামি লিওপোলদো লুকের অনুরোধে পরিচালিত একটি বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ।
মৃত্যুর আগে ১২ ঘণ্টার যন্ত্রণার তত্ত্ব নিয়েও ভিন্নমত
ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগে তিনি কতক্ষণ ধরে শারীরিক যন্ত্রণায় ছিলেন, সে বিষয়েও অন্য সরকারি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একমত নন ফেরারি।
তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ম্যারাডোনার ফুসফুসে কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তরল জমে যেতে পারে। এর ফলে তীব্র শ্বাসকষ্ট তৈরি হয়ে শেষ পর্যন্ত হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হতে পারে।
এর আগে সরকারি অন্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, মৃত্যুর আগে প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে যন্ত্রণায় ছিলেন ম্যারাডোনা।
তবে ফেরারির দেওয়া ব্যাখ্যা আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উপস্থাপিত আকস্মিক মৃত্যুর তত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে প্রধান চিকিৎসক লিওপোলদো লুকসহ মামলার অন্য অভিযুক্তদের আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রে তার বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধান চিকিৎসকসহ সাতজন বিচারাধীন
ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান চিকিৎসক লিওপোলদো লুক ছাড়াও আরও ছয় চিকিৎসাকর্মীর বিরুদ্ধে বিচার চলছে।
তারা হলেন—মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আগুস্তিনা কোসাচভ, চিকিৎসাসমন্বয়কারী ন্যান্সি ফোরলিনি, মনোবিজ্ঞানী কার্লোস দিয়াজ, নার্সিং সমন্বয়কারী মারিয়ানো পেরোনি, নার্স রিকার্দো আলমিরন এবং চিকিৎসক পেদ্রো দি স্পানিয়া।
সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে জানার পরও অবহেলার মাধ্যমে সাধারণ হত্যার অভিযোগে তাদের বিচার করা হচ্ছে।
শেষ পর্যায়ে বিচারপ্রক্রিয়া
মামলাটির বিচার এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর আদালত আসামিদের বক্তব্য আরও বিস্তারিতভাবে শুনবেন।
এরপর ৬ অক্টোবর থেকে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী মাসের মধ্যেই পুরো বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।