
দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মাধ্যমে গত পাঁচ অর্থবছরে মোট ১৬৩ দশমিক ৯৭ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। একই সময়ে স্যাটেলাইটটির মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৭৬৪ দশমিক ১০ কোটি টাকা।
বুধবার (২৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১-এর বাণিজ্যিক সাফল্য এবং বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-২ প্রকল্পের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা সম্পর্কে লিখিত প্রশ্ন উত্থাপন করেন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্যাটেলাইটটির বাণিজ্যিক ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে এবং এটি দেশের সম্প্রচার ও যোগাযোগ খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার, ডিটিএইচ সেবা, ভি-স্যাট সেবা, বিদেশে স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথ বিক্রি এবং দুর্যোগকালীন জরুরি টেলিযোগাযোগ সেবায় বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ ব্যবহৃত হচ্ছে।
সংসদে উপস্থাপিত বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে স্যাটেলাইটটি ১২৯ দশমিক ১১ কোটি টাকা রাজস্ব আয় এবং ৮৪ দশমিক ২৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা করে। ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্ব আয় ছিল ১৩০ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা ৮৫ দশমিক ২৯ কোটি টাকা।
তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৪৭ দশমিক ৯৯ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হলেও ৭৩ দশমিক ৫৭ কোটি টাকা নিট লোকসান দেখানো হয়। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৬৯ দশমিক ৫৬ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের বিপরীতে ২৯ দশমিক ৬৪ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৮৭ দশমিক ০৭ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের বিপরীতে ৩৮ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে।
মন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, ২০২২ সালের ৩০ জুন স্যাটেলাইটের সম্পদ বিএসসিএলের কাছে হস্তান্তর এবং ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে অবচয়মূল্য (ডেপ্রিসিয়েশন) হিসাবভুক্ত করায় ওই বছর কাগজে-কলমে লোকসান দেখা যায়। তবে পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি আবার মুনাফায় ফিরে আসে।
বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-২ প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি ‘আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট’ হিসেবে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি, মৎস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রপথে জাহাজ পর্যবেক্ষণ, ব্লু ইকোনমি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে এই স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা যাচাইয়ে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের কয়েকটি স্বনামধন্য স্যাটেলাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব বর্তমানে মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে।
সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-২ প্রকল্পের পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংসদকে জানান মন্ত্রী।