
প্রচণ্ড তাপদাহ ও অসহ্য গরমে যখন সাধারণ এয়ার কন্ডিশনার (এসি) পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছে, ঠিক তখনই চরম দাবদাহ ঠেকাতে অভিনব এক যন্ত্র আবিষ্কার করেছে প্রযুক্তিভিত্তিক দেশ জাপান। ফ্রিজে খাবার বা পানীয় ঠাণ্ডা করার সনাতন ধারণা ভেঙে এবার সরাসরি মানুষকে শীতল ও সতেজ করতে তৈরি করা হয়েছে বিশেষায়িত ফ্রিজ, যাকে বলা হচ্ছে ‘হিউম্যান রেফ্রিজারেটর’।
বিশ্বজুড়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও তীব্র দাবদাহের রেকর্ড ভাঙার মুখে জাপানের খ্যাতিমান রেফ্রিজারেশন প্রতিষ্ঠান ‘এসডিআরএস’ (SDRS) বাজারজাত করেছে তাদের চমকপ্রদ প্রযুক্তি ‘ডো হিয়েমন বক্স’। সহজ ভাষায় মানুষ যাকে এখন বলছে ‘হিউম্যান ফ্রিজ’।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই বুথের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা সব সময় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে স্থির রাখা হয়। ভেতরে রাখা আরামদায়ক একটি চেয়ারে বসামাত্রই শুরু হয় স্বস্তিদায়ক শীতল প্রক্রিয়া। মানুষের শরীরের যেসব অংশ দ্রুত দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে— যেমন মাথা, ঘাড়, কাঁধ ও পিঠ— সেই স্থানগুলোকে নিশানা করে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস প্রবাহিত করা হয়। গবেষকদের দাবি, চড়া রোদে ঘেমে-নেয়ে আসার পর মাত্র ৫ মিনিট এই ফ্রিজে অবস্থান করলেই শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা দ্রত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
মূলত কারখানার শ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক এবং দিনভর কড়া রোদে মাঠে কাজ করা মানুষদের হিটস্ট্রোক ও সানস্ট্রোকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতেই এই বুথ তৈরি করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, মাত্র ১০ মিনিট বুথের ভেতর কাটালেরই হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা এক নিমেষে উধাও হয়ে যায়।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্রযুক্তি সাধারণ এসির তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ খরচ করে। এছাড়া নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে টানা ২০ মিনিট ব্যবহারের পর বুথটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে জাপানের গুন্মা প্রিফেকচারের মায়েবাশি সিটি হলসহ বিভিন্ন জনবহুল স্থানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এটি স্থাপন করা হয়েছে। বাজারমূল্যের হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে এর দাম রাখা হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১ লাখ টাকারও বেশি।