
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) তৈরির মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, তাদের তৈরি এআই মডেল ‘ক্লোড’ ব্যবহার করে ভয়াবহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা শনাক্ত করা হয়েছে। এসব প্রচেষ্টার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কৌশল শেখা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাইবার হামলা এবং গোপনে তথ্য চুরির মতো গুরুতর কর্মকাণ্ডও ছিল।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শনাক্ত করা এসব অপব্যবহারের প্রচেষ্টা তারা প্রতিহত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।
মানব প্রকৌশলী ছাড়াই ক্ষেপণাস্ত্রের সফটওয়্যার তৈরির চেষ্টা
অ্যানথ্রোপিকের নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ইয়েমেনে কোনো মানব প্রকৌশলীর সরাসরি সহায়তা ছাড়াই শুধু এআইয়ের সক্ষমতা ব্যবহার করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও গাইডেড রকেটের সফটওয়্যার তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা এসব কর্মকাণ্ডের অধিকাংশই শনাক্ত করে আটকে দেয়। তবে হ্যাকাররা তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রাখতে পুরো কাজকে অনেকগুলো ছোট অংশে ভাগ করে ক্লোডকে নির্দেশনা দিচ্ছিল।
এভাবে এআইকে একবারে পুরো পরিকল্পনার বিষয়ে না জানিয়ে ধাপে ধাপে কাজ করানোর চেষ্টা করা হয়। শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দিয়েছে অ্যানথ্রোপিক।
ইউরোপ ও ইউক্রেনের সামরিক তথ্য চুরিতে এআই
শুধু ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রেই নয়, বিশ্বজুড়ে নজরদারি ও সাইবার হামলার জন্যও ক্লোডের অপব্যবহারের তথ্য পেয়েছে অ্যানথ্রোপিক।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি হ্যাকার গোষ্ঠী ইউরোপ ও ইউক্রেনের সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং ড্রোন নির্মাতাদের তথ্য হাতিয়ে নিতে এই এআই ব্যবহার করেছিল।
অন্যদিকে, চীনের একটি গোষ্ঠী ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকারি এবং বেসরকারি নেটওয়ার্কে সাইবার হামলা চালানোর ক্ষেত্রেও এআইকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিল।
উইঘুরদের ফাঁদে ফেলতে স্থানীয় ভাষায় ভুয়া বার্তা
চীনা একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আরও গুরুতর ধরনের অপব্যবহারের তথ্য পেয়েছে অ্যানথ্রোপিক। সিরিয়ায় বসবাসরত উইঘুর জনগোষ্ঠীর ওপর গোপনে নজরদারি চালানোর পাশাপাশি তাদের নিজেদের তৈরি জালে ফাঁসানোর জন্য ক্লোড ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এ জন্য ওই গোষ্ঠী উইঘুরদের স্থানীয় ভাষায় ভুয়া বার্তা তৈরি করত এবং সেগুলো পাঠানোর কাজে এআই ব্যবহার করছিল।
এআই নিয়ে গবেষকের সতর্কবার্তা
এদিকে অ্যানথ্রোপিকের গবেষক জ্যাকব কক্সন সম্প্রতি চাকরি ছেড়ে দিয়ে এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। বিভিন্ন কারণের পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টিও উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এআই যেভাবে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তা মানবতার জন্য চরম বিপদ ডেকে আনতে পারে।
ক্লোডের অপব্যবহারের এসব ঘটনা সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রযুক্তির ওপর কঠোর সরকারি নিয়মকানুন আরোপের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।
একই সঙ্গে এআইকে ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা, সাইবার হামলা, তথ্য চুরি ও নজরদারির মতো কর্মকাণ্ডের তথ্য বিশ্বজুড়ে সামরিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।