
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত কার্যালয়ে গোপনে রেকর্ডিং যন্ত্র স্থাপনের অভিযোগে সৌদি নাগরিক আবদুলরহমান আলফোজানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও আড়াই লাখ ডলার জরিমানা হতে পারে।
মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গোপনে কথোপকথন ধারণের উদ্দেশ্যে আলফোজান ইলেকট্রনিক বা যান্ত্রিক যন্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে মঙ্গলবার আদালতে হাজির হন তিনি। তবে তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সম্মেলনকক্ষে লুকানো ছিল রেকর্ডার
ওপেনএআই জানিয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোর কার্যালয়ে উন্নত প্রযুক্তির একটি রেকর্ডিং যন্ত্র লুকানো অবস্থায় পাওয়ার পর তারা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে বিষয়টি জানায়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল ব্যবহার করে যন্ত্রটির উৎস অনুসন্ধান করা হয় এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, যন্ত্রটি টয়লেট টিস্যু দিয়ে মোড়ানো ছিল। একটি নির্বাহী সম্মেলনকক্ষের টেলিভিশনের পেছনে থাকা ইউএসবি সংযোগস্থলে সেটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বর যন্ত্রটি সেখানে স্থাপন করা হয়। দুই দিন পর, ৩০ সেপ্টেম্বর, কর্মীরা সেটি খুঁজে পান। যন্ত্রটিতে তথ্য এনক্রিপশনের ব্যবস্থাও ছিল বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটররা।
এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিয়োগকর্তার নির্বাহী সম্মেলনকক্ষে গোপনে রেকর্ডিং যন্ত্র রেখে সংবেদনশীল কথোপকথন ধারণের চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাপণ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।
যন্ত্র তৈরি ও গোপনে রেকর্ডিং নিয়ে অনুসন্ধানের অভিযোগ
প্রসিকিউটরদের দাবি, আলফোজান ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ওপেনএআইয়ে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছিলেন। রেকর্ডিং যন্ত্র স্থাপনের আগে তিনি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থান সম্পর্কে জানতে একটি উৎপাদনশীলতাবিষয়ক প্রযুক্তি এবং একটি চ্যাটবট ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া কীভাবে গোপনে শব্দ ধারণের যন্ত্র স্থাপন করা যায়, সে বিষয়ে অনুসন্ধান করার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি চ্যাটবটের কাছে এমন একটি যন্ত্র তৈরির বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন, যা একটানা শব্দ ধারণ করতে পারে। পাশাপাশি ওয়াই-ফাই সংযোগব্যবস্থা নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন, সরাসরি শব্দ শোনার সক্ষমতা বাড়ানো এবং এসডি কার্ডের তথ্য এনক্রিপ্ট করার বিষয়েও প্রশ্ন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ৫ অক্টোবর যন্ত্রটি পরীক্ষা করতে আলফোজান আবারও কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রসিকিউটররা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাস্থলে তাঁর উপস্থিতির যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
একই দিন ভবনের অন্য একটি স্থানে তিনি একটি ব্যাগ ফেলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা ব্যাগটি খুলে তাঁর মানিব্যাগ ও পরিচয়পত্রের পাশাপাশি সম্মেলনকক্ষে পাওয়া যন্ত্রটির মতো আরেকটি রেকর্ডিং ডিভাইস খুঁজে পান।
তথ্য চুরির প্রমাণ পায়নি ওপেনএআই
ওপেনএআই জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সোর্স কোড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরির গুরুত্বপূর্ণ পরামিতি বা ‘মডেল ওয়েটস’ এবং গ্রাহকদের তথ্য অননুমোদিতভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে গোপনে রেকর্ডিং যন্ত্র স্থাপনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আলফোজানকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।