
বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৩২৮ দশমিক ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার। সংসদে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের চতুর্দশ বৈঠকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য উপস্থাপন করেন।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে—৪ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে সৌদি আরব (৪ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (৪ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার)।
এই তিন দেশ থেকে মোট এসেছে ১৩ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রায় ৪৩.৪ শতাংশ।
চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখান থেকে এসেছে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার।
সংসদে উপস্থাপিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, উপসাগরীয় শ্রমবাজার এখনো বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রধান উৎস। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইন থেকে সম্মিলিতভাবে এসেছে প্রায় ১৩.৬৬ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৪৫ শতাংশ।
ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে ইতালি থেকে এসেছে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া ফ্রান্স, গ্রিস, জার্মানি ও পর্তুগাল থেকেও এসেছে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার করে।
এশিয়া ও অন্যান্য দেশের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালদ্বীপ, মরিশাস, জাপান ও ব্রুনাই থেকেও উল্লেখযোগ্য রেমিট্যান্স দেশে এসেছে বলে সংসদে জানানো হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।