
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনিশ্চয়তার মেঘ। পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সেই অবস্থান স্পষ্ট করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে দ্বিতীয়বার ইমেইল পাঠিয়েছে বিসিবি।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতে আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও, নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সেগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ। প্রথম চিঠির জবাবে আইসিসি জানায়, টুর্নামেন্ট শুরুর এক মাস আগে ভেন্যু পরিবর্তন করা কঠিন। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট উদ্বেগ জানতে চেয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেয় বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থাটি। তবুও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে বিসিবি আবারও আইসিসিকে চিঠি পাঠিয়েছে।
বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো এই ইমেইলে ভারত সফর নিয়ে নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি পুনরায় জানানো হয়েছে। বিসিবির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিটিআইকে জানায়, ‘ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে আলোচনা শেষে বিসিবিসি আবারও আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে। নিরাপত্তায় কোন কোন জায়গা নিয়ে উদ্বেগ, আইসিসি জানতে চেয়েছিল এবং বিসিবি সেগুলো উল্লেখ করেছে।’ তবে চিঠির বিস্তারিত বিষয়বস্তু প্রকাশ করেনি সূত্রটি।
এর আগে বুধবার ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ অনড়। আজ অথবা আগামীকাল আবার আইসিসিকে চিঠি দেওয়া হবে।’
একই দিনে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও আইসিসির অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা আইসিসি থেকে যে চিঠিটা পেয়েছি সেই চিঠি পড়ে আমাদের কাছে মনে হয়েছে, ভারতে যে প্রচণ্ড একটা নিরাপত্তা ইস্যু তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য তারা সেটা অনুধাবন করতে সক্ষম হয়নি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের মর্যাদা- এটার প্রশ্নে আমরা কোনো আপস করব না। আমরা ক্রিকেট খেলতে চাই, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই। আরেকটা যে আয়োজক দেশ আছে শ্রীলঙ্কা, আমরা সেখানে খেলতে চাই।’
ভারতে না খেলার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘এই পজিশনে (ভারতে খেলতে না যাওয়া) আমরা অনড় আছি। আমরা কেন অনড় আছি আশা করি সেটা আইসিসিকে বোঝাতে সক্ষম হব। আইসিসি আমাদের যুক্তিগুলো হৃদ্যতার সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করে আমরা কষ্ট করে যেটা অর্জন করেছি সেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমাদের খেলার সুযোগ করে দেবে।’ এই বক্তব্যের পরই বিসিবি দ্বিতীয় দফায় আইসিসিকে চিঠি পাঠায়।
উল্লেখ্য, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির কারণে ম্যাচগুলোর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।