
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় জারি করা অধ্যাদেশগুলো পুনর্বহাল করে দেশে স্থায়ীভাবে গুম বন্ধের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
গুমের অভিযোগ তদন্তের জন্য স্বাধীন কোনো প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে কার্যকর ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব দাবি জানান আখতার হোসেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন প্রণয়ন, বিরোধী মত দমন এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে আখতার হোসেন বলেন, ‘কোনো বাহিনী গুম, খুন করতে পারবে না। একই দেশের সঙ্গে মানুষের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র সুরক্ষিত এবং রাষ্ট্রে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের মানুষ যে সংসদ গঠন করবে, সেখান থেকে নতুন একটা রাষ্ট্রকাঠামোর দিশা পাবে।’
গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও বিএনপি সরকার গঠনের প্রথম দিনেই সেই গণরায় অস্বীকার করেছে।
তার দাবি, সংস্কার, মানবাধিকার এবং গুম-খুন বন্ধের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সেগুলো ল্যাপস করে দেওয়া হয় এবং বাতিল ঘোষণা করা হয়।
গুম বন্ধ ও মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী করতেই হয়েছিল অধ্যাদেশ
আখতার হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুম বন্ধ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সে সময় সরকার আরও শক্তিশালী আইন প্রণয়নের কথাও জানিয়েছিল।
তার ভাষ্য, জনগণের প্রত্যাশা ছিল—এসব আইনের মাধ্যমে অপরাধ দমন ও বিচারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।
তবে সংসদে আনা নতুন আইনগুলোর সমালোচনা করে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, সরকার শক্তিশালী আইন প্রণয়নের কথা বললেও সংসদে এমন আইন আনা হয়েছে, যার ফলে অপরাধ আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং বিচারব্যবস্থা দুর্বল হয়েছে।
গুমের তদন্ত স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার দাবি
গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব স্বাধীন কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার দাবি জানান আখতার হোসেন।
তিনি বলেন, ‘যদি গুমের পরে স্বাধীন তদন্ত না হয়, যদি মানবাধিকার কমিশন সরকারের ইচ্ছামতো গঠিত হয়, মানবাধিকার কমিশন যদি সঠিকভাবে, স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে না পারে—সেক্ষেত্রে কেমন করে আমরা বাংলাদেশের মানুষের অধিকারগুলোকে সুরক্ষিত করতে পারবো?’
তার মতে, গুমের অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্ত প্রক্রিয়া স্বাধীন না হলে নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
‘অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অভিযোগকারীই শাস্তি পাবেন’
বিরোধী দলে থাকার সময়ে জাতিসংঘের অধীনে গুমের ঘটনাগুলোর তদন্তের দাবি করা হলেও সরকারে এসে স্বাধীন কোনো সংস্থাকে সেই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন আখতার হোসেন।
তিনি বলেন, যে বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠেছে, তদন্তের দায়িত্ব যদি সেই বাহিনীকেই দেওয়া হয় এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলে অভিযোগকারীই যদি শাস্তির মুখে পড়েন, তাহলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।