
দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিসর বাড়াতে বড় পরিকল্পনায় হাত দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের পথে না গিয়ে, বরং পুরোনো ভেন্যুগুলোকে আধুনিক রূপে ফিরিয়ে এনে খেলার আয়োজন বাড়াতে চায় সংস্থাটি।
এক সময় আন্তর্জাতিক ম্যাচ বলতে মূলত মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামই ছিল ভরসা, মাঝে মাঝে আয়োজন হতো চট্টগ্রামে। পরবর্তীতে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম চালু হলেও ম্যাচ সংখ্যা তেমন বাড়েনি। এবার সেই চিত্র পাল্টাতে চায় বর্তমান অ্যাডহক কমিটি।
এ লক্ষ্যে ছুটির দিনেও মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে গ্রাউন্ডস কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যার নেতৃত্ব দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম বাবুল। আগামী ২ মে থেকে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) মাঠে গড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এবারের আসরটি ছয়টি ভেন্যুতে আয়োজনের চিন্তা করছে বোর্ড, যা ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বন্ধ থাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগ পুনরায় চালুর বিষয়েও আশাবাদী বিসিবি। এ বিষয়ে বাবুল বলেন, 'দেশের শীর্ষ ক্লাবগুলো ইতিমধ্যে খেলতে সম্মতি দিয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে মে মাসের শুরুতেই লিগ শুরু হবে। এই লিগকে আরও আকর্ষণীয় করতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মতো সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।'
একই সঙ্গে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা কয়েকটি স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম, খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম এবং ফতুল্লার খান শাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম। একসময় এসব ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হলেও দীর্ঘদিন ব্যবহারের বাইরে থাকায় স্বীকৃতি হারিয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে এগুলোকে আবার আন্তর্জাতিক মানে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, চলতি মাসেই বাংলাদেশ সফরে আসছে নিউজিল্যান্ড দল। তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ সামনে রেখে উইকেট প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিবি। বাবুল জানান, হোম কন্ডিশনের সুবিধা বজায় রেখেই এমন উইকেট তৈরি করা হবে, যাতে দুই দলই স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে অভিজ্ঞ কিউরেটরদের সঙ্গে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নষ্ট সিসি ক্যামেরাগুলো দ্রুত সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আবহাওয়া, বিশেষ করে বৃষ্টিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এছাড়া সাবেক গ্রাউন্ডস কমিটি চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলটের ‘১০০ উইকেট’ প্রকল্প নিয়েও নতুন করে মূল্যায়ন চলছে। বাবুল বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটার তুলে আনতে মানসম্মত উইকেট ও মাঠ অপরিহার্য। পাশাপাশি পূর্বাচল স্টেডিয়ামের মাটি চুরির অভিযোগসহ অবকাঠামোগত অনিয়মগুলোর তদন্তও করা হচ্ছে। জানা গেছে, এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রাথমিক কিছু তথ্য ইতিমধ্যে বিসিবির হাতে এসেছে।