
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে দীর্ঘদিনের জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাইকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে—ঘটনার পরপরই তাকে আটক করেছে জনতা।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের পাশের চতুল রেললাইনসংলগ্ন ইটের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি মিন্টু মোল্লা (৫৭)। অভিযুক্ত বড় ভাই গোলাম কবির (৭১), যিনি ফরিদপুর জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত। দুজনেই চতুল ইউনিয়নের চতুল গ্রামের মৃত মো. ইসহাক মিয়ার সন্তান।
গোলাম কবির কেন্দ্রীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর উপকমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সাবেক সদস্য, পেশায় চিকিৎসক এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালি) আসনে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও অংশ নিয়েছিলেন।
ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা গোলাম কবিরকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ সময় তার ব্যবহৃত গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং এ নিয়ে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। বুধবার সকালে মিন্টু মোল্লা বাড়ির পাশের একটি গাছ কাটতে গেলে গোলাম কবির সেখানে গিয়ে বাধা দেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি তার লাইসেন্সকৃত শর্টগান দিয়ে গুলি চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কথাবার্তার ছলে মিন্টুকে গাছ কাটার স্থান থেকে কিছুটা দূরে ফায়ার সার্ভিসের পেছনের রেলগেট এলাকায় নিয়ে গিয়ে গলার নিচে ও বুকে পরপর ছয় রাউন্ড গুলি করেন গোলাম কবির। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন মিন্টু। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্তকে আটক করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানা–র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং তার ব্যবহৃত অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
প্রসঙ্গত, গোলাম কবির বর্তমানে ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন। পাশাপাশি শহরের পূর্ব খাবাসপুর এলাকায় ‘গোলাম কবির নার্সিং ইনস্টিটিউট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান তিনি।
এর আগে ২০২৩ সালের ৬ জুলাই বোয়ালমারী উপজেলা সদরের খান প্লাজার একটি ভবন দখল সংক্রান্ত বিরোধে ভবন মালিক সালমা বেগমের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়ও তিনি একই শর্টগান দিয়ে গুলি করার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ফরিদপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মারামারি ও অস্ত্র প্রদর্শনসহ ফৌজদারি অপরাধের ১২টি ধারায় দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. রকিবুল হাসান বলেন, আলমগীর কবিরের অস্ত্রটি বৈধ ছিল। এটি নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে কখন তা ফেরত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তার ভাষায়, “এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।”