
বিশ্বকাপে প্রিয় দলের জয়-পরাজয় ঘিরে তর্কাতর্কির জের ধরে ফতুল্লায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কায়সার-অপুর্ব ও হাবিবের অনুসারীদের এই সহিংসতায় নারী ও পুরুষসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন হাজীগঞ্জ ঈদগাহ সড়ক এলাকায় এই সংঘর্ষের সূচনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, হাজীগঞ্জ ঈদগাহ সড়ক এলাকার বাসিন্দা ফারুক মিয়ার ছেলে অপূর্ব ব্রাজিল ফুটবল দলের গোঁড়া সমর্থক, যার সাথে স্থানীয় প্রায় অর্ধশত কিশোর ও তরুণ যুক্ত রয়েছে। অপরদিকে, একই এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে হাবিব (২০) সমর্থক আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের; তার সাথেও সমপরিমাণ সমর্থক ছিল।
আগের খেলায় ব্রাজিল হেরে গেলে আর্জেন্টিনার সমর্থক হাবিব ও তার দলবল এলাকা জুড়ে আনন্দ-উল্লাস করেছিল, যা ব্রাজিলের ভক্ত অপুর্ব ও তার সঙ্গীরা মেনে নিতে পারেনি। পরবর্তীতে সোমবার আর্জেন্টিনা হেরে গেলে অপুর্ব ও তার লোকজন প্রতিশোধমূলকভাবে আনন্দ-মিছিল বের করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হাবিবের দলবল ব্রাজিল সমর্থকদের ধাওয়া করে।
ধাওয়া খেয়ে পিছিয়ে গেলেও ব্রাজিলের সমর্থকরা পরে বাড়তি লোকবল নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় তারা নারীদেরসহ কয়েকজনকে মারধর করে এবং এলাকা ত্যাগ করার সময় একাধিক ককটেল বা হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সাথে স্থানীয় এলাকাবাসী যোগ দিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের কয়েকজনকে গণধোলাই দেয়।
ঘটনার বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম জানান:
বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে যারা সংঘর্ষে জড়িয়েছে তারা সবাই কিশোর বয়সের।
ওসি আরও জানান, সহিংসতার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং জড়ো হওয়া দুপক্ষকে আটকের চেষ্টা চালিয়েছেন। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে জড়িতরা স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।