
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি সরকার সবসময় আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের প্রতিটি মেয়াদেই শেয়ারবাজার ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ছিল এবং বর্তমান পরিস্থিতিও সময় দিলে ঘুরে দাঁড়াবে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী জ্ঞান মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “দেশ থেকে প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলার বাইরে চলে গেছে। ব্যাংক খাত ধ্বংসপ্রায়, শেয়ারবাজার বিপর্যস্ত। জনগণের অনেকেই প্রয়োজনীয় সময়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারছেন না, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।” তিনি বলেন, এসব খাত পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব এখন সরকারের ওপর এবং তা করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সরকার স্থিতিশীল, সহনশীল ও সংবেদনশীল রাজনীতির পথে এগোচ্ছে। তবে এই পথে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। “সমাজে কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ থাকে, তারা কোনো দলের নয়- আইন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে,” যোগ করেন তিনি।
লোডশেডিং প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ সংকট পুরোপুরি নেই-এ কথা বলা যাবে না। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার জ্বালানি তেলের দাম সীমিত পরিসরে বাড়িয়েছে। “অন্যান্য দেশে যেখানে জ্বালানির দাম দ্বিগুণ হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে,” বলেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনা ট্যাক্সের অর্থের ওপর নির্ভরশীল। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ঘরে বিদ্যুৎ থাকে, কলকারখানা সচল থাকে এবং মানুষের দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত না ঘটে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আল ফোরকানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনসহ অন্যান্যরা।