
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর ঘোষণা ঘিরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারেই নেমে আসে আবেগঘন পরিবেশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানাতে গিয়ে এক উপস্থাপক নিজেকে সামলাতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, খামেনির নিহত হওয়ার খবর প্রচারের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ওই উপস্থাপক গভীর শোক প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ঘোষণা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ মহান। আল্লাহ মহান। গভীর শোকের সঙ্গে ইরান জাতিকে জানানো হচ্ছে যে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি আজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী শাসনের যৌথ অপরাধমূলক হামলায় শহীদ হয়েছেন’। ঘোষণার সময় স্টুডিওর বাইর থেকেও কান্নার শব্দ ভেসে আসে।
একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় ইংরেজি ভাষার চ্যানেল প্রেস টিভির উপস্থাপক মারিয়াম আজারচেহরও লাইভে আবেগাপ্লুত প্রতিক্রিয়া জানান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এটা এখানেই শেষ নয়। ট্রাম্পকে মূল্য দিতে হবে, এমন মূল্য যা কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট কখনও দেয়নি, কোনও জায়নিস্ট দেয়নি, কোনও অপরাধী দেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিশোধ আসছে। খুব শিগগিরই আসছে। ট্রাম্প এবং যারা এই হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করেছে, সবার দিকেই তা আসবে। তাকে চরম মূল্য দিতে হবে।’
খামেনির মৃত্যুর পর ইরান সরকার ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। শনিবার ভোরে শুরু হওয়া হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ওই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।