
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব ও টুর্নামেন্ট পরিচালনায় বেসরকারি বিনিয়োগ যুক্ত করার পরিকল্পনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিকল্পনার কড়া বিরোধিতা করে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উয়েফাভুক্ত ৫৫টি সদস্য দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের জরুরি ভার্চুয়াল সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম বিবিসি ও দ্য অ্যাথলেটিক সূত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি নতুন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দেন। এই প্রতিষ্ঠানের আওতায় ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব, বিপণন কার্যক্রম এবং বিভিন্ন টুর্নামেন্ট পরিচালনার দায়িত্ব একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, এফএফই-এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট পরিমাণ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন বিনিয়োগ তহবিলের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তালিকায় জশুয়া কুশনারের মালিকানাধীন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান ‘থ্রাইভ ইটানাল’-এর নামও রয়েছে।
এই পরিকল্পনা প্রকাশের পর থেকেই উয়েফা এর বিরোধিতা করে আসছে। সংস্থাটির দাবি, ফুটবলের ঐতিহ্য, আবেগ এবং এর স্বাধীন পরিচালনা কাঠামো কোনোভাবেই বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা উচিত নয়। এই অবস্থানের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবারের জরুরি বৈঠকে সদস্য দেশগুলো ফিফার বাণিজ্যিকীকরণ উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে ভোট দেয়।
বর্তমান ফিফা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, সামনে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক আসর হিসেবে ব্রাজিলে নারী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২০৩০ সালে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে বসবে পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ। উয়েফার বয়কটের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকলে এই দুই বড় টুর্নামেন্টই অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
যদিও ফিফার বাণিজ্যিক পরিকল্পনাটি এখনো সদস্য দেশগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, তবু উয়েফার মতো প্রভাবশালী সংস্থার এমন নজিরবিহীন অবস্থান ফিফার ওপর বড় ধরনের প্রশাসনিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।