
ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে বাংলাদেশের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে বিস্তারিত জানান তিনি। পরে হামলা ও হেনস্তার কয়েকটি ভিডিওও প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।
বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাতে দেওয়া ভিডিওবার্তায় বাঁধন জানান, স্থানীয় একটি পার্কে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা করেন। এ সময় তার শরীরে কোক ও ডিম ছোড়া হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। তার মোবাইল ফোনও ছুড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাঁধনের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করেন। তারা তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বলেন এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করেন। এ সময় তাকে গালাগালিও করা হয়।
ভিডিওবার্তায় বাঁধন বলেন, ‘আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে। আমার ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। আপনাদের এ ধরনের অসংলগ্ন আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত।’
এ ঘটনায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাঁধন বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ও ভেনিসে আছেন। আশা করি আপনারা তার কাছে বিষয়টি পৌঁছে দেবেন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী দাবি করে বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে তার ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছেন।
বাঁধন বলেন, ‘তারা বলেছে যে আমি জুলাইযোদ্ধা। হ্যাঁ, আমি জুলাইযোদ্ধা। আমি অবশ্যই জুলাইতে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা আজকে যে কাজটি করেছেন, আপনাদের এ ধরনের অসংলগ্ন আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত ছিল, যেটা আপনারা করতে পারেননি।’
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার ছিলেন বাঁধন। সেই প্রেক্ষাপটেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়া বাঁধন বর্তমানে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।