
চলতি বছরের এপ্রিলের গোড়ার দিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হলেও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ থেকে এখনো বারুদের গন্ধ মুছে যায়নি। গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যকার এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের ভঙ্গুর শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান এই দ্বন্দ্বের শুরুর দিকেই তেহরান তাদের রণকৌশল স্পষ্ট করে জানিয়েছিল। ইরান হুশিয়ারি দিয়েছিল যে, যেসব প্রতিবেশী রাষ্ট্রে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি রয়েছে এবং যারা আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইসরায়েলি স্বার্থের পক্ষে কাজ করছে, তাদের ওপরই মূলত এই হামলা চালানো হচ্ছে। এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জাঁতাকলে পড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সবচেয়ে বড় খেসারত দিতে হচ্ছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রতিবেশী দেশ দুটির দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর।
ফুজিরাহ বন্দরে ভয়াবহ হামলা ও তেল শোধনাগারে আগুন
সবশেষ গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দর এলাকায় ইরান একযোগে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে আবুধাবির প্রতিরক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এই বিধ্বংসী হামলার জেরে ফুজিরাহ পেট্রোলিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ জোনের অন্তর্গত একটি প্রধান তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ডে ওই শোধনাগারে কর্মরত অন্তত তিনজন ভারতীয় নাগরিক গুরুতরভাবে দগ্ধ ও আহত হয়েছেন।
সামরিক পদক্ষেপের হুশিয়ারি আবুধাবির
ইরানের এই ক্রমাগত আগ্রাসী ও উসকানিমূলক আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। একই সঙ্গে আবুধাবি ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে—নিজেদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং এসব ক্রমাগত আকাশপথের হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দেশের সুরক্ষায় প্রয়োজনে যেকোনো মুহূর্তে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার পূর্ণ অধিকার তারা সংরক্ষণ করে।